Menu
Menu

আমফান তান্ডব: কলাপাড়ায় হতাহত-৩, বেড়িবাঁধ লন্ডভন্ড, ৩৭৮ ঘর বিধ্বস্ত

Share on facebook
Share on google
Share on twitter

এইচ.এম.হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া।।
ঘূর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে উঠতি ফসল, কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিরে গেছে। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যার পর থেকেই হালকা বাতাস ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে থাকে। রাত দশটার পর থেকে আমফানের প্রভাবে দমকা হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। এরপর সময় যত গড়াতে থাকে দমকা হওয়াও ততই বাড়তে থাকে। সুপার সাইক্লোন আমফানের প্রভাবে উপজেলায় উঠতি বোরো আবাদের ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছ উপড়ে গেছে। অনেক গাছের শাখা-প্রশাখা ভেঙ্গে পড়েছে। বুধবার রাত দশটা থেকে ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে কিছু এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ শুরু হয়। আউটার বেড়িবাঁধের বাড়িঘরে জলোচ্ছ্বাসের পানি প্রবেশ করেছে। ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। ঘুর্ণিঝড় আমফানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে কলাপাড়ায় বাঁধ ভাঙ্গা লালুয়ার ১৭ গ্রাম এখনও পানিবন্দী হয়ে আছে। মানুষের বাড়িঘর এখন আর বাস উপযোগী নেই।

আমফান তান্ডব থামলেও অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারে এখন পর্যন্ত ভাসছে লোনা পানিতে। চালচুলা পর্যন্ত পানিতে ভেসে গেছে। বাড়িঘর তো দুরের কথা চলাচলের রাস্তাঘাট সব পানির নিচে। এছাড়া চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের রাবনাবাদ পাড়ের প্রায় ২০০ মিটার রিং বেড়িবাঁধ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। বাঁধঘেষা অন্তত ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। নদীতে বাঁধসহ শত শত গাছপালা বিলীন হয়ে গেছে।

চারিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সোহেল গাজী জানান, তিনি তার জীবদ্দশায় এমন উত্তাল ঢেউ আর দেখেননি। মুহুর্তের মধ্যে বাঁধটি জলোচ্ছ্বাসে বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ধসে যাওয়া শুরু হয়। ফরহাদ মৃধা জানান, তার প্রায় চার লাখ টাকার মাছ পুকুর ডুবে ভেসে গেছে। পুকুরটিও রাবনাবাদ গিলে খেয়েছে। পাঁচটি পুকুরের মাছ, দেবপুর গ্রামের অর্ধশত কৃষকের ডাল জাতীয় শস্য লোনা পানির প্লাবনে নষ্ট হয়ে গেছে।

জহিরুল গাজী জানান, রাবনাবাদের ভাঙ্গনে কয়েকবার ঘর পাল্টেছেন। সর্বশেষ আমফানে ঘরের অর্ধেক ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। ঘরের সকল মালামালও রক্ষা করতে পারেননি। কাঠ মিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা চলত এ মানুষটির। এখন আবার বসতঘরটি বিধ্বস্ত হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, মাত্র এক বছর আগে এই রিং বেড়িবাঁধটি যেনতেন ভাবে করা হয়েছে। এবারে নদীতে ভেসে গেল। এখন প্রত্যেক অমাবস্যা-পুর্ণিমার জোয়ারে গ্রামের সব ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন মানুষ। আমফানে জলোচ্ছ্বাস তান্ডব থেকে জেলে নৌকা রক্ষা করতে গিয়ে ওই গ্রামের মিজানুর রহমান মৃধা (৩৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। নৌকাটি চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে গেছে।

পাঁচজুনিয়া গ্রামের মাহবুব মৃধা (৪০) তার মাকে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌছে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গাছ চাপায় গুরুতর জখম হয়েছেন। এরা দু’জনে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই দুইজন আহত এবং নিহত সিপিপি কর্মী সৈয়দ শাহআলম ছাড়া কলাপাড়ায় আর কেউ হতাহতের খবর মেলেনি।

কুয়াকাটায় জলোচ্ছ্বাস তান্ডবে অন্তত ৩০টি ক্ষুদ্র দোকানির দোকানঘর ভেঙ্গে গেছে।

নাচনাপাড়া গ্রামের মোসা. কোহিনুর বেগম বলেন, তার টিনশেড ঘরটি গাছ চাপা পড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন। একটি এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকার লোন করে ঘরটি করেছেন বলে জানালেন। একই কলোনীর আলমগীর হোসেন দেখালেন তার ঘরটির অর্ধেকটা চালসহ উড়ে গেছে ঝড়ো হাওয়ায়। হাজারো গাছপালা ভেঙ্গে গেছে। অসহায় এসব মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যানুসারে কলাপাড়ায় আমফানের তান্ডবে একজন নিহত ও একজন আহতের খবর মিলেছে। এছাড়া ৩৭৮টি বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। যার ৩২৪টি আংশিক এবং ৫৪টি সম্পুর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তপন কুমার ঘোষ জানিয়েছেন এটি প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, তিনি আমফান বিধ্বস্ত এলাকায় ঘুরছেন। প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ