বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন
১২ ফাল্গুন, ১৪২৭

সংবাদ শিরোনাম:
বরিশালে চিকিৎসকের স্ত্রীর অমানসিক নির্যাতনে হাসপাতালে শিশু গৃহকর্মী আগৈলঝাড়ায় নেছারিয়া এতিমখানার ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিক পরিবারকে কুপিয়ে জখম, রাজপথে গণমাধ্যমকর্মীরা নিহতের হৃৎপিণ্ড কেটে আলু দিয়ে রান্না করে খেলেন খুনি! ‘বউকে ফেরত চাচ্ছি না, তার মুখোশ খুলে দিতে চাই’ টিকা নেয়ার ১২ দিন পর ত্রাণ সচিব করোনায় আক্রান্ত যে পাখির অর্ধেক পুরুষ আর অর্ধেক নারী! সারারাত প্রেমিকার সঙ্গে ফোনে কথা, ভোরে মিললো প্রেমিকের ঝুলন্ত লাশ হিজলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিক ইউনুসের মৃত্যু, আহত ৩ ‘দেশের অবহেলিত আলীয়া মাদ্রাসা’ ফাঁকা মাঠে ভাষণ দিচ্ছেন বিজেপি নেতা, ছবি ভাইরাল সুনামগঞ্জে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীরমুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ খসরু আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চায় সেনাবাহিনী কলাপাড়ায় এমপি পুত্রের বিরুদ্ধে জমি দখল করে মাছের ঘের করার অভিযোগ বরিশাল বিএম কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পরীক্ষা নেয়ার দাবি যেভাবে ধরা পড়লো বরিশাল সিটি করপোরেশনের ভূয়া কর্মকর্তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা কোথায়: ন্যাপ ছাতক অনলাইন প্রেসক্লাব কমিটি গঠন ছাতকে গরু চুরি ঘটনায় হামলা: অতঃপর ধর্ষণ চেষ্টা মামলা! কুয়াকাটায় ১৬ মণ জাটকা ইলিশ জব্দ
Dr. Ali Hasan
Dr. Jahidul Islam
আর ঘরবন্দী থাকতে চায় না মনীষা, কিন্তু ওরা গরীব…

আর ঘরবন্দী থাকতে চায় না মনীষা, কিন্তু ওরা গরীব…

মোঃ আসাদুজ্জামান, ঠাকুরগাঁও।।
আর ঘরে বন্দি হয়ে থাকতে চায় না সে। সবার সঙ্গে হাসিখুশি ও খেলাধুলা করতে চায় সে। তবে পরিস্থিতির কাছে আজ যেন সে বড়ই অসহায়। থমকে গেছে তার স্বপ্ন। অসুস্থতার কারণে ঘরে বন্দিজীবন পার করছে মনীষা আখতার (১৩)।

মনীষা আখতার ঠাকুরগাঁও রোড সুগারমিল উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের আব্দুল রহমান ও দেলোয়ারা বেগমের সন্তান মনীষা আখতার। পরিবারের অভাব-অনটনের কারণে সে আজ জীবন-মরণের লড়াইয়ে আছে। তার চিকিৎসাও একপ্রকার অনিশ্চিত।

মনীষা কি হাঁটতে পারবে কখনো? নাকি অর্থের অভাবে সারা জীবন কাটাতে হবে বিছানায়? পরিবারের সবার মনে এমন রাজ্যের হতাশা বিরাজ করছে। হরিহরপুর গ্রামের আব্দুল রহমানের বাসায় গেলে এমনই চিত্রই চোখে পড়ে।

সারেজমিনে দেখা যায়, মুখে হাসি, হাতে ফোন নিয়ে বিছানায় শুয়ে রয়েছে শিশু মনীষা। নিজের কষ্টের কথা যেন বলতে বলতে নিরুপায় হয়ে পড়েছে সে। অবশেষে ইউটিউবকেই যেন নিজের সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে সে।

জানা যায়, একটি সময় ভালোই দিন কাটছিল মনীষার। বন্ধুদের সঙ্গে একযোগে যেত স্কুলে। হঠাৎ যেন তার হাত-পা থেকে শুরু করে পুরো শরীর দুর্বল হয়ে পড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায় তার খাওয়া দাওয়া। অবশেষে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের দিকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে, তার মেরুদণ্ডে পানি জমেছে।

এলাকার মানুষ ও স্বজনদের কাছে হাত পেতে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করে মনীষার পরিবার। এরপর রংপুর মেডিকেলে কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা হয় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে থেরাপি দেন চিকিৎসক। সেখানেও কোনো আশার আলো না দেখতে পেয়ে পরিবার তাকে পুনরায় নিয়ে আসে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে সবশেষে এমআরআই করার পরে ধরা পড়ে মনীষার মেরুদণ্ডে ক্যানসার।

এমনটা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা। যেখানে রংপুর-বগুড়া যাতায়াত করার টাকা নিয়ে টানাহেঁচড়া, সেখানে এত বড় অপারেশন করবেন কী করে। এ নিয়ে চিন্তায় পড়ে পরিবার। কী করে বাঁচাবেন শিশুটিকে? এমন হতাশা দিন দিন গ্রাস করছে তার মা-বাবাকে।

মনীষা আখতার বলেন, আমি হাঁটতে পারি না। শুধু বসে আর শুয়ে থাকি। অনেক দিন ধরে বিছানায় শুয়ে আছি। খাইতে পারি না। খাইলে বমি হয়। বাবা-মাকে বলছি যাতে আমাকে সুস্থ করার ব্যবস্থা করে। কিন্তু আমরা তো গরিব। কীভাবে কী করব? আমার চিকিৎসা করাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। আমার বাবার সামর্থ্য নেই। যেন সবাই একটু সাহায্য করেন।

মনীষার বড় বোন মুন্নি বেগম বলেন, তার জন্মের পর থেকে দেখে আসছি আমার বোনটা খুব হাসিখুশি থাকতো। পড়াশোনায়ও ভালো সে। কিন্তু এই অসুস্থতার কারণে আজ তার জীবনটা যেন থমকে গেছে। আমার বাবার তেমন কোনো আয় নেই। বোনের দিকে তাকাতে পারি না। তাকালেই চোখ দিয়ে পানি ঝরে। আজ অর্থের অভাবে আমার বোন অসহায়ের মতো পড়ে আছে। এ পর্যন্ত চিকিৎসায় প্রায় দুই লাখ টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু আর খরচ করার মতো তো সামর্থ্য আমাদের নেই।

মনীষার মা কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মেয়েটির মুখে কোনো হাসি দেখতে পাই না। সবার কাছে হাত পেতে যা পেয়েছি, তা দিয়েই আজ পর্যন্ত মেয়ের চিকিৎসা খরচ চালাচ্ছি। এখন মেয়েটি আমার বিছানায় পড়ে আছে। আমি অন্যের বাসায় কাজ করি। কী করে সামনে তার চিকিৎসা করাবো ? এ পর্যন্ত লাখ টাকার ওপর খরচ হয়ে গেছে। যেখানে পরিবারই ঠিকমতো চলে না, সেখানে মেয়েটির জন্য আর কী করব? চিকিৎসক বলেছেন মেয়েকে হুইলচেয়ারে রাখতে। কই পাব টাকা? আমার অনুরোধ সরকারের কাছে, যাতে আমার মেয়টিকে একটু সাহায্য করেন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যেহেতু শিশুটি কষ্টে দিন পার করছে, আমি চেষ্টা করব তাকে সাহায্য করার। তবে তার পরিবারকে একটি আবেদন করতে হবে। সেই সঙ্গে এখন পর্যন্ত যেখানে যেখানে চিকিৎসা করেছে, সেখানকার কাগজগুলো নিয়ে আসতে হবে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে তাকে সমাজসেবার মাধ্যমে সাহয্য করা হবে।

দ্রুত নিউজ পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করে সি ফাস্ট করে রাখুন
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

royal city hospital



© All rights reserved © 2019 rupalibarta.com
Developed By Next Barisal