Menu
Menu

করোনায় চাকরি হারিয়ে রাস্তায় কলা বিক্রি করছেন স্কুলশিক্ষক

Share on facebook
Share on google
Share on twitter

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত মার্চে দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা করেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ লকডাউন নির্দেশনার পাশাপাশি তার অনুরোধ ছিল, এমন বিপদের সময় যেন কাউকে চাকরিচ্যূত করা না হয়। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন৷ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও ভারতে ইতোমধ্যেই প্রায় ১৩ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে এক জরিপে জানা গেছে৷ এসব ভুক্তভোগীর মধ্যে একজন স্কুলশিক্ষক পাট্টেম ভেঙ্কট সুব্বাইআহের৷

লকডাউনের সময় স্কুলের চাকরি হারিয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় কলা বিক্রি করছেন টানা ১৫ বছর শিক্ষকতা করা এ ব্যক্তি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, স্কুলশিক্ষক হিসেবে সুব্বাইআহের মাসিক আয় ছিল ১৬ হাজার ৮০০ রুপি৷ এখন কলা বিক্রি করে দৈনিক ২০০ টাকাও রোজগার করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

স্কুলশিক্ষক সুব্বাইআহের জানিয়েছেন, মার্চে লকডাউন ঘোষণা হতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ এক ধাক্কায় বেতন অর্ধেক করে দেয়৷ এখানেই শেষ নয়, বেতন ৫০ শতাংশ কমানোর পরও কয়েকজন শিক্ষককে চাকরি ধরে রাখতে শর্ত দেয়া হয়, কয়েকদিনের মধ্যে নতুন ৭-৮ জন ছাত্র ভর্তি করাতে হবে৷ টার্গেট পূরণ না হলে সেই শিক্ষকের জন্য স্কুলের দরজা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় কর্তৃপক্ষ৷

চাকরি বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন সুব্বাইআহের৷ কিন্তু সফল হতে পারেননি। তিনি বলেন, করোনা আতঙ্কের কারণে অনেকে বাড়িতে ঢুকতে দিতেই রাজি হয় না, স্কুলে ভর্তি তো দূরের কথা ৷ ফলে সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে ছাত্র ভর্তি করাতে না পারায় চাকরি চলে যায় এ ভাষা শিক্ষককের৷

এর মধ্যে পেটের দায় তো আছেই, সাড়ে তিন লাখ রুপি ঋণের বোঝাও রয়েছে তার কাঁধে। দুই সন্তানের পিতা সুব্বাইআহের সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য এই অর্থ ঋণ নিয়েছিলেন ৷ এর জন্য প্রতি মাসে আট হাজার রুপি পরিশোধ করতে হয় তাকে৷

ফলে আয় বন্ধ হতেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে পুরো পরিবারের ৷ বাধ্য হয়েই রাস্তায় রাস্তায় কলা বিক্রি করতে হচ্ছে এ অসহায় শিক্ষক।

এদিকে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই অন্ধ্র প্রদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিতর্ক৷ ইতোমধ্যেই ঘটনার উপযুক্ত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। সূত্র-নিউজ১৮।

সর্বশেষ