Menu
Menu

করোনায় সামনে কঠিন সময়, ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের বিকল্প নেই: কাদের

Share on facebook
Share on google
Share on twitter

অনলাইন ডেস্ক।।
ঈদের সময় গ্রাম-শহরের মানুষের অবাধ বিচরণ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের অসাবধানতার কারণে সামনে বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন সময় আসছে। প্রাণঘাতী এ ভাইরাস থেকে রেহাই পেতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের বিকল্প নেই। সামনের কঠিন সময় আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। ধৈর্যহারা না হয়ে সাবধানতা অবলম্বন করি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষের মধ্যে শৈথিল্যভাব সৃষ্টি হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ মানুষের মধ্যে ধৈর্য ও শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে অবস্থান করলেও, অনেকেই এসব কানে তুলছেন না। স্বাভাবিক সময়ের মতো ঘোরাফেরা করছেন, হাট-বাজারে, ভিড় ও জনসমাগমে অংশ নিচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছেন না। এ উদাসীনতায় নিজের ও আশপাশের সবার ভয়ানক বিপদ ডেকে আনছেন। অবনতি ঘটেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগের। এতে শহরে-গ্রামে সর্বত্রই সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে।

ওবায়দুল কাদের সবার প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়ে বলেন, দয়া করে আসুন সবাই সচেতন হই। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলি। কারণ, প্রতিকার সমাধান নয়, এ ভাইরাস থেকে বাঁচতে ও সুরক্ষা পেতে প্রতিরোধের বিকল্প নেই। আপনার সামান্যতম শৈথিল্য নিজ পরিবার এবং পার্শ্ববর্তী সবার ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।

ঈদের সময় ও ঈদের আগে গ্রামে ও শহরে মানুষের অবাধ বিচরণ করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ এবং অঞ্চলসমূহের মাঝে বাংলাদেশের অবস্থানের আরও অবনতি হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ২৩তম। এর সংক্রমণ থেকে ছোট-বড়, ধনী-গরিব কেউই রেহাই পাচ্ছে না। সামনের কঠিন সময় আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলি। আগামী কিছু দিনে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে বলেও বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ধৈর্যহারা না হয়ে সাবধানতা অবলম্বনের জন্য আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। যারা ফ্রন্টলাইনে যুদ্ধ করেছেন তাদেরও মনোবল না হারিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াইয়ের অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিএনপি’র কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, করোনা সংকটের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের উদ্যোগ ও গৃহীত এবং বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত যখন দেশ-বিদেশে প্রশংসিত তখন মির্জা ফখরুল সাহেবরা পুরনো নেতিবাচক রাজনীতির বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছেন। সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদের দিনে মানুষের পাশে না থেকে, মানুষকে সাহস না জুগিয়ে তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগারের মরচে ধরা সমালোচনার তীর ছুড়েছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত। নিজেরা জনগণের পাশে দাঁড়াবেন না, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজ-খবর নেবেন না, অথচ মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করবেন, এটাই কি বিএনপির রাজনীতি? ঈদের দিনেও জনগণ তাদের মুখের বিষ থেকে রেহাই পায়নি।

সরকার একদিকে করনা সংক্রমণ রোধ ও আক্রান্তদের চিকিৎসা, অপরদিকে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষায় পূর্ণ মনোনিবেশ করেছে। এমতাবস্থায় বিএনপিকে কোনও কর্মসূচিতে বাধা প্রদান মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের গল্পের মতো।

তিনি বলেন, এবার করোনা সংকট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে এটাই প্রমাণিত হয়েছে, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে আছে। দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সর্বশেষ