সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:২৭ অপরাহ্ন
১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭

সংবাদ শিরোনাম:
কুয়াকাটায় সারারাত আরতি সকালে সমুদ্রে পূণ্যস্নান নাইজেরিয়ায় শতাধিক কৃষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে: জাতিসংঘ যে কারণে নারী কথায় কথায় কাঁদে! গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় যে ৫ সবজি এড়িয়ে চলবেন নিজেদের মাঠেও ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না দক্ষিণ আফ্রিকা টাঙ্গাইলে মাইক্রোবাস ও গাড়ির সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত ছয় মাসেও মন পরিবর্তন হবে না: ট্রাম্প ওআইসির নতুন মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহা আয়-রোজগারে বরকত আসবে যেভাবে চেলসির মাঠে ড্র করে শীর্ষে টটেনহ্যাম শীতকালে কি দই খাওয়া ঠিক? বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত সোয়া ৬ কোটি ছাড়াল আফগানিস্তানে গাড়িবোমা হামলায় ৩১ সরকারি সেনা নিহত বরিশালের উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জে বিএনপির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত বরিশালে পিকআপের ধাক্কায় শেবাচিমের সেবিকা নিহত মির্জাগঞ্জে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন পাথরঘাটায় মাজেদা ক্লিনিকের সামনে সাংবাদিকের ক্যামেরায় হামলা দেশরক্ষার জন্য নদীরক্ষা অপরিহার্য: তথ্যমন্ত্রী পানি পানের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অচেনা বিপদ! সংসার ভাঙ্গা নিয়ে মুখ খুললেন শবনম ফারিয়া
Dr. Ali Hasan
Dr. Jahidul Islam
দোয়া কবুলের জন্য রাসূল (সা.) ওপর দরুদ পড়া জরুরি

দোয়া কবুলের জন্য রাসূল (সা.) ওপর দরুদ পড়া জরুরি

ধর্ম ও জীবন।।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার দরবারে যেকোনো ইবাদত ও দোয়া কবুল হতে নবীজির (সা.) ওপর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত জরুরি। দরুদ শরিফ পাঠে আল্লাহর দরবারে ইবাদতের বিনিময় সুনিশ্চিত হয়। বড় বড় বুযুর্গরা বলেন, দুরুদ আবশ্যকীয় কবুল বিষয়। একারণে বুযুর্গরা বলতে প্রত্যেক দোয়ার আগে পরে দুরুদ পড়, যেন তোমার দোয়ার আগে পড়ে আবশ্যকীয় কবুল বিষয় থাকার কারণে মাঝের দোয়াও আল্লাহ কবুল করে নেবে।

ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য পরম ভক্তি-শ্রদ্ধা ও পূর্ণ ভালোবাসার সঙ্গে নবীজির (সা.) ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। তাই প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের উচিত হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর অধিক থেকে অধিক দরুদ পাঠ করা।

কেননা দরুদ পড়া এমন একটি ইবাদত, যা আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই কবুল করেন। এমনকি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় হাবিবের ওপর সবসময় দরুদ (রহমত বর্ষণ) পড়েন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনুল কারিমে ঘোষণা হচ্ছে,
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

অর্থাৎ: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করে (অনুগ্রহ প্রার্থনা করে)। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পড় এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সূরা: আল আহজাব, আয়াত নম্বর: ৫৬)

নবীজি (সা.) ওপর দরুদ পাঠের ফজিলত বেশ অপরিসীম। একদিন এক ব্যক্তি হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে নামাজ পড়ে এই দোয়া করল, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার সবগুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার ওপর রহমত দান করেন, তখন হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ওহে নামাজি! তোমার এতো তাড়া কিসের? খুব জলদি করেছ। শোনো, যখন তুমি নামাজ পড়বে তখন প্রথমে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করবে। তারপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করবে এবং পরিশেষে নিজের জন্য দোয়া করবে।’ (তিরমিজি)

বর্ণিত ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারি প্রত্যেক কাজেই আল্লাহর হামদ ও সানার ওপর রাসূলের (সা.) ওপর দরুদ পাঠ জরুরি।

হজরত কাব ইবনে ওজারা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে তিনি বলেন, একদিন আমরা হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ওপর আমরা কীভাবে দরুদ পাঠ করবো? তিনি বললেন, ‘বলো-
اللهم صلي علي محمد وعلي أل محمد، كما صليت علي إبراهيم وعلي أل إبراهيم إنك حميد مجيد، اللهم بارك علي محمد وعلي أل محمد كما باركت علي إبراهيم وعلي أل إبراهيم، إنك حميد مجيد

‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ; কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আ-লি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ; আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ-কামা বারাকতা আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলা আ-লি ইব্রাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।’

অর্থাৎ: ‘হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার বংশধরদের ওপর এমন রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইব্রাহিম (আ.) ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইব্রাহিম (আ.) ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।’ বোখারি ও মুসলিম বর্ণিত দরুদটি আমাদের সকলেরই জানা ও মুখস্থ।

এই দরুদটি আমরা প্রতিদিন প্রতিনামাজের শেষ বৈঠকে পড়ি। এখন থেকে নিয়ত করি। এটাকে প্রতিদিন সকাল দুপুর বিকেল সন্ধ্যার পাঠ্য বানিয়ে নেব।

এই দুরুদ পাঠে আমাদের কী লাভ হবে সেই সংবাদ আমাদেরকে দিচ্ছেন নবীজি (সা.) নিজেই। নাসাই শরিফের বর্ণনায় আছে হজরত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর মাত্র একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০ বার রহমত নাজিল করেন এবং কমপক্ষে তার ১০টি গুনাহ মাফ করেন। তার আমলনামায় ১০টি সওয়াব লিপিবদ্ধ করেন এবং আল্লাহর দরবারে তার মর্যাদা ১০ গুণ বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়’।

একই কিতাবের আরেক হাদিসে আছে নবীজি (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে, যে ব্যক্তি আমার ওপর সবচেয়ে বেশি দরুদ পড়ে।’ সুবহানাল্লাহ!’

এতো এতো ফজিলতের কথা শুনেও যদি আমরা দুরুদে অভ্যস্থ না হই তাহলে আমাদের এ বলা কওয়া লেখার মূল্য কী?

দ্রুত নিউজ পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করে সি ফাস্ট করে রাখুন
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

royal city hospital



© All rights reserved © 2019 rupalibarta.com
Developed By Next Barisal