শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
২৫ বৈশাখ, ১৪২৮

সংবাদ শিরোনাম:
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়ল কাজীরহাটে বসত ঘরে সিদ কেটে নগদ টাকা ও স্বর্ন চুরির অভিযোগ এক থোকায় ত্রিশ লাউ, উৎসুক জনতার ভিড় যাদুকাটা নদীর তীর কেটে বালু নিয়ে যাচ্ছে লতিফ বাহিনী, অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষজন গলাচিপায় চোর সন্দেহে ৮জনকে পিটিয়ে আহত, আটক ৪ নোয়াখালীতে অস্ত্রসহ যুবক আটক কলাপাড়ায় সেহরি খেতে উঠে ছেলের ঝুলন্ত লাশ পেলেন মা কাঠালিয়ায় ট্রলি-মটরসাইকেল সংঘর্ষ: নিহত ১ আট নমুনায় ৬ জনের মধ্যেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট গৌরনদীতে পাকা ধানে আগুন গৌরীপুরে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু আল-আকসায় মুসুল্লীদের ওপর হামলা ইসরাইলী বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ পাওনা ৫০০ টাকা চাইতে গিয়ে বন্ধুর হাতে খুন ভালোবাসা কী ভোলায় অবৈধ স্পিডবোটের বাণিজ্য, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল যাত্রীদের বরিশালে পোশাক বাজারে উপচে পরা ভিড়, নেই স্বাস্থ্যবিধির বালাই তাহিরপুরে গ্রামপুলিশকে হত্যা, দুই ঘাতক গ্রেপ্তার সুনামগঞ্জে সানি সরকার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে মানবন্ধন গৌরনদীতে সরকারি ওষুধ পাচার দুই মাসেও রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি মঠবাড়িয়ায় ১ হাজার পরিবারে ঈদ উপহার প্রদান
Dr. Ali Hasan
Dr. Jahidul Islam
নরসিংদী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সোনালুর সৌন্দয্য

নরসিংদী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে সোনালুর সৌন্দয্য

নরসিংদী প্রতিনিধি।।
সোনাঝরা এই ফুলের নাম সোনালু। কিশোরীর কানের দুলের মতো বৈশাখী হাওয়ায় দুলতে থাকে হলুদ-সোনালি রঙের থোকা থোকা ফুল। আবার ফুলের ফাঁকে দেখা যায় লম্বা ফল। হলুদবরণ সৌন্দর্যে মাতোয়ারা করে রাখে চারপাশ।

এর ইতিহাস খুঁজেও চমৎকার উপপাদ্যের খুঁজ মিলে। সোনালু বা বানরলাঠি বা বাঁদরলাঠি বৈজ্ঞানিক নাম কাঁশিয়া। সোনালী রঙের ফুলবিশিষ্ট বৃক্ষ। উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাসে ফেবশিয় গোত্রের এ বৃক্ষের ফল লম্বাটে। সোনালী রঙের ফুলের বাহার থেকেই ‘সোনালু’ নামে নামকরণ। কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নাম দিয়েছিলেন অমলতাস। হিন্দিতেও এর নাম অমলতাস। ইংরেজি ভাষায় একে বলা হয় সোনার স্নান ফুল।

নরসিংদী জেলার সবক’টি উপজেলায়ই এই সোনালু গাছটি একসময় অনেকর চোখে পরতো। দেখে দেখে আবেগি হয়ে উঠতো মন। সময়ের বিবর্তনে গাছটি এখন আর কেউ রোপন করেনা। তবে বন বাদারে এই বৃক্ষটি তার ফলের বীজ থেকেই প্রকৃতিক নিয়মে জোপ জঙ্গলে জন্মাতো। নির্বিচারে কর্তণের ফলে এই বৃক্ষটি বিলুপ্তির পথে।

আগামী প্রজন্ম হয়তো বলতেই পারবেনা এই ফুলের কথা। শৈশবে স্কুলে যাওয়ার পথে এই গাছের লম্বা ফল যাকে বান্দরলাঠি বলা হতো সে গুলো গাছ হতে পেরে অনেকেই খেলায় মেকে উঠতো। পাকা ফল গুলো খেতে মিষ্টি লাগতো।

সেই সময় রাস্তার পাশেই প্রচুর সোনালু বৃক্ষ নিজ সৌন্দর্য নিয়ে দাড়িয়ে থাকতো। স্কুল ছুটির পর বন্ধুরা মিলে গাছ হতে ফুল নিয়ে একজন আরেক জন সহপাঠীকে দিয়ে অনেক আনন্দ হতো। আজ তা কেবলই স্মৃতি। বৃক্ষটি খুব কমই দেখা মেলে।

নরসিংদীর পলাশ, শিবপুর, মনোহরদী, রায়পুরা ও মাধবদী কোথাও সোনালু ফলের বৃক্ষটি চোখে পড়েনা তেমন। সোনালু বৃক্ষটি অতুত বর্তমানে কেউ রোপন করেনা। ফলে এটি এখন মাঝে মধ্যে চোখে পড়লেও সে সংখ্যায় খুবিই কম। জানা গেছে বনবিভাগের কর্মকর্তারাদেরও এই বৃক্ষটির চাড়া তৈরী ও রোপনের উদ্যোগ নাই।

পলাশের নার্সারি মালিক জামাল উদ্দিন এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, যদি সরকারী কোন উদ্যোগে রাস্তার পাশে লাগানোর জন্য আর্ডার পরে, তখন আমরা সংগ্রহ করে দেই। তাছাড়া এমনিতে সাধারন মানুষ কেউ সোনালু বৃক্ষ কিনে নিয়ে লাগাতে চায়না, তাই আমরা এই বৃক্ষের চাড়া তৈরী করিনা।

সোনালু ফুল দেখতে খুবই মনোহর্ষক। সৌন্দয্যের এক নন্দিত নকঁশী করা এক সোনালী ক্লিওগ্রাফি। খরতাপে চলতি পথে পথিকের নজর কাড়বেই। গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে তার মধ্যে সোনালু উল্লেখযোগ্য। গ্রীষ্ম রাঙানো এ ফুল দেখতে যেমন আকর্ষণীয় তেমনি তার নামের বাহার- সোনারু, সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বান্দরলাঠি ইত্যাদি।

থোকা থোকা সোনালু ফুল যখন চৈত্র-বৈশাখে ডাল পল্লবিত করে ফুটে তখন মনে হয় বৃক্ষটি ডাল ভেঙ্গে পড়বে। নুয়ে ফুলেল এই সোনালি শাখাগুলো যেন পথিককে ডেকে বলে, মধু মালতি ডাকি আয় মধুর সুর ঝংকারে মানুষ্য মননে এক অনন্য জাগরনে ভরে তোলে।

তাছাড়া এই সোনালুবৃক্ষেটি একটি ঔষধি ভেজষগুণ সমৃদ্ধ লতানো গাছ। এর ফুল কান্ড ডাল এবং ফল সবকিছুই কবিরাজি বা আয়ুর্ব্যাদিক ওসধ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়। দেশজ ভাবে বাংলাদেশের বহু মানুষ এই বৃক্ষ খুঁজে তার বান্দর লড়ি এনে সিদ্ধ করে কাশের জন্য সেবন করে। তাছাড়া কৃমিনাশক ও লিভারের মহৌষধি তো বটেই।

দ্রুত নিউজ পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করে সি ফাস্ট করে রাখুন
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

royal city hospital



© All rights reserved © 2019 rupalibarta.com
Developed By Next Barisal