শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন
২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭

সংবাদ শিরোনাম:
উইঘুর মুসলিমদের জোর করে শুকর খাওয়াতো চীন! বামনায় যুবদলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতা মনিরুজ্জামানের মতবিনিময় সভা মৌলবাদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী বন্ধের দিন সড়কে ঝরল ২১ প্রাণ মতলব উত্তর উপজেলা আ. লীগের আহবায়ক কমিটি গঠন ভাস্কর্যবিরোধী মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে বেধম মারধর, গ্রেফতার ১ হিজলায় চরের মাটি কাটায় ১৪ জনকে কারাদণ্ড বরিশাল বিভাগীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কমী সভা অনুষ্ঠিত ‘সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গন রোধে অতি দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেয়া হবে’ বরিশালে একযোগে ৯৬৭ মসজিদে জনসচেতনতামূলক আহবান মুলাদীতে বিএনপি নেতার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত নলছিটিতে মামলা চলমান জমিতে বসতঘর উত্তোলণ, থানায় অভিযোগ দায়ের ১ ডলারে চাঁদের পাথর কিনবে নাসা আজানরত অবস্থায় মুয়াজ্জিনের মৃত্যু নোয়াখালীর ভাসানচরে প্রথম ধাপে পৌঁছেছে ১৬৪২ জন রোহিঙ্গা যে গাছগুলোতে রোগ সারানোর ক্ষমতা রয়েছে ফাঁসিপাড়ায় (খাজুরা) আশ্রয়ন প্রকল্পের মানুষ নানা সমস্যায় জর্জরিত বরিশালকে উড়িয়ে দ্বিতীয় স্থানে খুলনা বামনায় গভীর রাতে খলিল চৌধুরীর ঘরে দূর্ধর্ষ চুরি
Dr. Ali Hasan
Dr. Jahidul Islam
বরগুনায় ডিবি কার্যালয়ে ডেকে বাবা মাকে লাঞ্ছিত করলো মেয়ে

বরগুনায় ডিবি কার্যালয়ে ডেকে বাবা মাকে লাঞ্ছিত করলো মেয়ে

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
পেনশনের টাকার লোভে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে ডেকে মা-বাবাকে শারিরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে মেয়ে ও তার জামাতার বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

এসময় ডিবি পুলিশের দুজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। আহত অবস্থায় উভয়কে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের পাকুরগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সোবাহান ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগম।

আবদুস সোবাহানের ছেলে জসীম উদ্দীন জানান, তার বাবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালের জুন মাসে চাকরির মেয়াদ শেষে তিনি অবসরে যান। ২০১৭ সালে পেনশনের টাকা উত্তোলন করে ডাকবিভাগে ফিক্সড ডিপোজিট করে রাখেন।
পেনশনের টাকা পাওয়ার পর থেকেই বোন সীমা আক্তার এক লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বাবাকে হয়রানী করতে শুরু করেন। বাবার কাছে টাকা পাবেন মর্মে গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে বাবা সোবাহান, মা জাহানারা বেগম ও ভাই জসীম উদ্দীনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ডিবি পুলিশ গিয়ে সোবাহানকে তার শ্বশুড়বাড়ি থেকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।

স্থানীয় আইনজীবী শফিকুল ইসলাম মজিদ গিয়ে সীমাকে চার শতাংশ জমির মূল্যবাবদ ৬০হাজার টাকা দেয়ার শর্তে ডিবি কার্যালয় থেকে আবদুস সোবাহানকে ছাড়িয়ে আনেন। ১৭ নভেম্বরের মধ্যে টাকা সীমাকে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু সীমা ৬০ হাজার পরিবর্তে এক লাখ টাকা দাবি করেন। নির্ধারিত তারিখে ৬০ হাজার টাকা দিতে চাইলেও সীমা এক লাখ টাকাই দাবি করেন। এ নিয়ে বাবা ও মেয়ের মধ্যে ফের বিরোধ শুরু হয়। এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে ডিবির এএসআই মিজানুর রহমান ফের আবদুস সোবাহানকে ধরতে তার বাড়িতে যান।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সন্ধ্যায় আইনজীবী আবদুল মজিদের চেম্বারে দেখা করতে যান সোবাহান। সেখান থেকে ফেরার পথে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ডিবির এএসআই মিজান বরগুনা স্টেডিয়াম এলাকা থেকে সোবাহানকে আটক করেন।

সোবাহান বলেন, ডিবির ওই অফিসার জামাকাপড় খোল শালা, তোরে অফিসে ডেকেছি যাওনি কেন। তোরে টানায়ে পিটানো হবে, চল অফিসে আমার সঙ্গে এমন ভাষা ব্যবহার করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ফের আইনজীবী মজিদ গিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠকের সময় ঠিক করে আমাকে ছাড়িয়ে আনেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিবি কার্যালয়ে উভয় পক্ষ সমঝোতার জন্য বসেন। এসময় ডিবির এসআই আশরাফ, শুশীল ও এএসআই মিজানসহ ডিবির চার-পাঁচজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সীমা এক লাখ টাকার দাবিতে অনড় থাকায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি।
এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরেই বাবা সোবাহান ও মা জাহানারা বেগমকে মারধর শুরু করেন সীমা ও তার স্বামী হাফিজুর রহমান। এসময় জাহানারা বেগমের কাছে থাকা ৬০ হাজার টাকার ব্যাগ কেড়ে নেন। খবর পেয়ে সোবাহানের ছেলে মো. সাহাবুদ্দিন ও জসীম উদ্দীন ডিবি কার্যালয়ে গিয়ে মা-বাবাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এসময় সীমা ও তার স্বামীসহ অন্যরা ডিবি কার্যালয়ের ভেতর অবস্থান করছিলেন, আইনজীবী আবদুল মজিদও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী আবদুল মজিদ বলেন, ঘটনাটি ঘটে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে। আমরা সীমা ও তার স্বামীর হাত থেকে সোবাহান ও তার স্ত্রী জাহানারা বেগমকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। অথচ, ডিবি পুলিশের সদস্যরা তখন দাড়িয়ে ছিলেন।’ সোবাহানের জ্যেষ্ঠ ছেলে সাহাবুদ্দিন বলেন, ডিবির এএসআই মিজান আমার বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তিনি গত দুই দিনে অন্তত একশ’বার টাকা নিয়ে দেখা করতে বলেন। আমরা টাকা নেয়া দেয়ার কারণে এএসআই মিজান আমাদের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়ে বাবাকে হেনস্ত করেছেন।

আবদুস সোবাহানের মুঠোফোনে ডিবির এএসআই মিজানের একাধিবার কল করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য সীমা আক্তারের মুঠোফোনে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। ডিবির এএসআই মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সীমার অভিযোগটি দেখার জন্য এসআই আশ্রাফ স্যারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি আমতলীতে থাকায় ওসি স্যার আবদুস সোবাহানকে ডেকে আনার দায়িত্ব আমাকে দিয়ে ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, বুধবার দুপুরে আমি তাদের বাড়িতে গিয়ে পাইনি। পরে ওনার স্বজনদেরকে অনুরোধ করে আসি যাতে উনি বৃহস্পতিবার ডিবি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে আমি স্টেডিয়াম এলাকা থেকে বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত করার জন্য তাকে ডেকে নিয়ে এসেছিলাম।

হেনস্থা বা গালাগালের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি তাকে উপস্থিত করার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেছিলাম। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, কার্যালয়ের ভেতরে নয়, বাইরে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়ের সামান্য বচসা হয়েছে। এসএসআই মিজানের বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘মিজান মূলত বৈঠকের তারিখ নিশ্চিত করতে আবদুস সোবাহানকে ডেকে এনেছিল। হেনস্থার কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।

দ্রুত নিউজ পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করে সি ফাস্ট করে রাখুন
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

royal city hospital



© All rights reserved © 2019 rupalibarta.com
Developed By Next Barisal