Menu
Menu

বাউফলে তোরণ নির্মাণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুইপক্ষের মধ্যে সংর্ঘষে আহত-১০

Share on facebook
Share on google
Share on twitter

এ.এফ.এম রিয়াজ, বাউফল।।
পটুয়াখালীর বাউফলে জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর সামনে তোরন নির্মাণকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংর্ঘষে কমপক্ষে আহত হয়েছে ১০জন।

পরে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন বাউফল দশমিনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো.ফারুক হোসেনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রবিবার (২৪ মে) দুপুরে ডাক বাংলোর সামনে ঘটে ওই ঘটনা এ ঘটনায় বাউফল পৌর শহরের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত যুবলীগ কর্মী তাপসও ইমাম কে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

জানাগেছে, বাউফল উপজেল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চিফহুইপ আ স ম ফিরোজ সমর্থিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নাজিপুর ইউ পি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক ডাক বাংলোর সামনে পৌর অওয়ামী লীগের সৌজন্যে প্রতিবছর একটি তোরন নির্মাণ করেন। আম্পান ঝড়ে ওই নির্মাণাধীন তোরণ ভেঙ্গে পড়লে দলীয় কর্মীদের দিয়ে তোরণের ব্যবহৃত বাঁশ কাঠ সরিয়ে ফেলে।

রোববার সকালে ওই একই স্থানে বাউফল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল তোরন নির্মাণ করার জন্যে নির্দেশ দিলেকর্মীরা তোরন নির্মান শুরু করলে সাবেক চিফহুইপ সমর্থিত পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ইব্রাহিম ফারুক তার নেতাকর্মীদের নিয়ে বাঁধা দেয়। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হাতাহাতি চলতে থাকে। পরে পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ঘটনাস্থলে এলে মেয়র ও চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের মধ্যে কথা কাটাকটি চলতে থাকার মধ্যেই মেয়র সমার্থীত নেতাকর্মীরা চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুকের কর্মীদের উপর হামলা করে। এতে চিফহুইপ গ্রুপের জসিম (৩৪),শামিম (২৫), পৌর যুবলীগ সভাপতি মামুন খান (৪৭), ইয়ারখান (৪৩) আহত হয়।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী পুলিশ সুপার মোঃফারুক হোসেন উভয় গ্রুপের নেতাদের নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেয়।

এরই মধ্যে চিফহুইপ সমার্থিত উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফয়সাল আহম্মেদ মনির তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ঘটনা স্থলে আসলে উভয় গ্রুপ সংর্ঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে চিফহুইপ সমর্থিত কর্মী তাপস (৩৪) ইমাম(২৩) গুরুতর জখম হয়।

পুলিশ এ দু’পক্ষের সংঘর্ষ নিয়ান্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে।

চিফহুইপ সমর্থিত পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক বলেন, পুরাতন তোরণ ভেঙ্গে যাওয়ায় এটা অপসরণ করে সরকারের করোনা সংক্রামনের শতর্কীকরণ তোরণ ডাক বাংলোর সামনে সেতুর মুখে আমরাই তোরণ নির্মাণ করব। আর পৌর মেয়রের তোরণ থানার পশ্চিম পাশে করে আসছে। কিন্তু কেন ? কিকারণে তোরণ করা হচ্ছে তা জিজ্ঞাসা করতেই মেয়র সমর্থিত নেতা কর্মীরা তার কর্মীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এতে অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১০-১৫ জন আহত হয়।

এ বিষয়ে বাউফল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, করোনার সংক্রামনের সাবধানতার জন্য একটি সৌজন্যে তোরণ করতে গেলে চেয়ারম্যার ইব্রাহিম ফারুক ও তার লোকজন এত বাঁধা দেয়। এ বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা চলছিল। পরে প্রশাসনের ডাকে সে থানায় উপজেলা নিবার্হী অফিসার জাকির হোসেন তাকে ও চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুককে নিয়ে থানায় অলোচনার জন্য বসে। পরে বাহির হয়ে দেখেন চেয়ারম্যান সমর্থিত লোক জনতার দলীয় নেতা কর্মীদের উপর হামলা করে আহত করেছে।

বাউফল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃফারুক হোসেন বলেন, পৌর মেয়র ও চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক কে নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে দু পক্ষ তোরণ করবে তবে দূরত্ব করে। এরই মধ্যে ফের দু পক্ষ সংর্ঘষ হওয়ার খবর পেয়ে সংর্ঘষ এড়াতে উভয় গ্রুপকে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে ।

সর্বশেষ