রবিবার, ১৪ জুলাই, ২০২৪
Menu
Menu

মুলাদীতে বিলুপ্তির পথে তালগাছ

Share on facebook
Share on google
Share on twitter

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
ঐ দেখা যায় তালগাছ, ঐ আমাদের গাঁ, ঐ খানেতে বাস করে কানা বগির ছা…। তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারে আকাশে…..। শিশুতোষ এ কবিতায় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তাল গাছ কালের বিবর্তনে আজ যেন হারিয়ে যাচ্ছে।

ছোট বেলা থেকেই তাল গাছ নিয়ে লেখা এরকম নানা কবিতা আমরা পাঠ্যপুস্তকে পড়ে আসছি। পরিচিত হচ্ছি লম্বা দেহের অধিকারি বৃক্ষ তালগাছের সাথে। বাংলা সাহিত্যে তালগাছ নিয়ে রয়েছে আরও নানা গল্প, কবিতা।

বাংলা উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, তাল একটি ভারতীয় উপমহাদেশীয় গ্রীষ্মকালীন ফল যা তাল গাছ। তালগাছ পাম গোত্রের অন্যতম দীর্ঘ গাছ যা উচ্চতায় ৩০/৪০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। তালের পাতা পাখার মত ছড়ানো তাই বোরাসাস গণের পামগোত্রীয় গাছগুলিকে একত্রে ফ্যান পাম বলা হয়। একটি তাল গাছ সাধারণত ১শ’ বছর পর্যন্ত জীবিত থাকে।
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহে শীতল পরশ বুলায় তালের হাত পাখা। তালপাতার পাখার কদর সবার কাছে সমাদৃত ছিল। তালের পাতা দিয়ে ঘরের ছাউনি, পাখা, মাদুর প্রভৃতি তৈরি করা যায়। তাল গাছের কান্ড দিয়ে তৈরি হয় ঘর ও নৌকা। বিশেষ করে ব্রজপাত থেকে রক্ষার জন্য তালগাছের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

তালের বীজ ও ফল উভয়ই খাওয়া যায়। তালবীজ বা শাঁস খেতে খুবই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। তাল শাঁস মানুষের শরীরের পানির চাহিদা মেটায়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, আয়রণ, পটাসিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়ামসহ নানা খনিজ উপাদান।

জানা যায়, এলাকায় আগের দিনে বসত বাড়ির আঙ্গিনায়, রাস্তার ধারে ও ফসলের ক্ষেতে তালগাছ ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বর্তমানে তালগাছ আর তেমন চোখে পড়ে না। বহু উপকারি এ বৃক্ষটির প্রয়োজনীয়তা না ফুরালেও দিন দিন তা প্রকৃতির মাঝ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

বিলুপ্ত প্রায় তাল গাছ হটাৎ চোখে পরে মুলাদী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের মোশাররফ হোসেন কবিরাজের দাদার লাগানো জমিতে ৬০ বছরের তাল গাছটি। গাছটিতে অনেক তাল ধরেছে কিন্তু তাল পাড়ার লোকের অভাবে গাছেই থেকে যায়। তাই অনেকেই তাল গাছ লাগানোর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

স্থানীয় পরিবেশবিদরা বলেন, অবাধে তালগাছ নিধনের কারণে ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না মানুষ ও পশু-পাখি। গত কয়েক বছর আগে বজ্রপাতে মানুষ ও পশুর মৃত্যু হয়েছে।

ভাদ্র মাসে তালগাছে তালে ভরা থাকত। গ্রামের মানুষ তালের রস দিয়ে তৈরী করত সুস্বাদু পিঠা-পায়েস। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তালগাছের যে বিশাল ভূমিকা আছে এবং পরিবেশবান্ধব তালের উপকার সম্পর্কে না জানা থাকায় তালগাছ ইটভাটায় লাকড়ি, ঘরের খুটিসহ নানা কাজে ব্যবহার হচ্ছে। নব্বই শতাংশ তালগাছ আগেই কাটা হয়ে গেছে।

উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের আবদুল্লাহসহ অনেকেই বলেন, উপজেলার বাইরে থেকে আসা বেপারীরা দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায় তালগাছ কিনে নেয়। কিন্তু নতুন করে গাছ লাগানোর কোনো উদ্যোগ নেই। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে তালগাছ রোপণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।
এ ব্যাপারে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, তালগাছ প্রকৃতির বন্ধু ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাকারী একটি বৃক্ষ। প্রবল ঝড় বৃষ্টি ও বজ্রপাত থেকে মানুষ ও প্রাণিজগৎ রক্ষায় সহায়তা করে। যেসব এলাকায় তালগাছের সংখ্যা বেশি সেসব এলাকায় ঝড় ও বজ্রপাতে মানুষ ও পশু পাখির মৃত্যুর হার খুবই কম। “তালগাছ রোপণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে”।

সর্বশেষ