সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৮ অপরাহ্ন
১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭

সংবাদ শিরোনাম:
কুয়াকাটায় সারারাত আরতি সকালে সমুদ্রে পূণ্যস্নান নাইজেরিয়ায় শতাধিক কৃষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে: জাতিসংঘ যে কারণে নারী কথায় কথায় কাঁদে! গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় যে ৫ সবজি এড়িয়ে চলবেন নিজেদের মাঠেও ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পেল না দক্ষিণ আফ্রিকা টাঙ্গাইলে মাইক্রোবাস ও গাড়ির সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত ছয় মাসেও মন পরিবর্তন হবে না: ট্রাম্প ওআইসির নতুন মহাসচিব হুসেইন ইব্রাহিম তাহা আয়-রোজগারে বরকত আসবে যেভাবে চেলসির মাঠে ড্র করে শীর্ষে টটেনহ্যাম শীতকালে কি দই খাওয়া ঠিক? বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত সোয়া ৬ কোটি ছাড়াল আফগানিস্তানে গাড়িবোমা হামলায় ৩১ সরকারি সেনা নিহত বরিশালের উজিরপুর ও বাকেরগঞ্জে বিএনপির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত বরিশালে পিকআপের ধাক্কায় শেবাচিমের সেবিকা নিহত মির্জাগঞ্জে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন পাথরঘাটায় মাজেদা ক্লিনিকের সামনে সাংবাদিকের ক্যামেরায় হামলা দেশরক্ষার জন্য নদীরক্ষা অপরিহার্য: তথ্যমন্ত্রী পানি পানের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অচেনা বিপদ! সংসার ভাঙ্গা নিয়ে মুখ খুললেন শবনম ফারিয়া
Dr. Ali Hasan
Dr. Jahidul Islam
সবাইকে সব সময় সাহায্য করতে চাইতো ডা. মামুন

সবাইকে সব সময় সাহায্য করতে চাইতো ডা. মামুন

ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল।।
মামুন ছিল আমাদের ব্যাচের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছেলে।এইকথা আমি একদম জোর দিয়ে বলতে পারি। ওকে সবাই ভালবাসত। সবার সাথে সবসময় মামুন হাসিমুখে কথা বলত। সবাইকে সবসময় সাহায্য করার চেষ্টা করত। কোন কোন মানুষকে কিছু কিছু মানুষ অপছন্দ করে হাজার ভাল হওয়া সত্ত্বেও । কিন্তু মামুনকে অপছন্দ করত এমন মানুষ বোধহয় একজনও ছিলনা। ২০০০ সাল থেকে ওর সাথে পরিচয়। আমার মেডিকেল জীবনে সবচেয়ে কাছের বন্ধু মামুন। একসাথে অনেক সময় কাটিয়েছি । ওর মধ্যে এমন কিছু ছিল ওর সাথে দেখা হলেই ভাল লাগত।শুধু আমি না। যারা ওর সাথে মিশেছে তারা একই কথা বলবে। মনটা ছিল সরল। সবসময় হাসিখুশি থাকত । কারো সমালোচনা বা গীবত পছন্দ করত না। একসাথে যেহেতু অনেক অনেক সময় কাটিয়েছি তাই তার সম্পর্কে আমি প্রায় সবটুকুই বলতে পারব।

পাশ করার পরেও যোগাযোগ ছিল। ও ঢাকায় চলে গেল। ঢাকায় গেলে ওর কাছেই উঠতাম অনেক সময় ।একবার এক ট্রেনিং এ টানা ৭ দিন ছিলাম। সেসময় শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে ওর ওখানেই ছিলাম। রাজশাহীতে আসলে ফোন দিত। কথা হত প্রায়ই । কিছুদিন আগেও রাজশাহীর বাসায় অনেকটা জোর করেই নিয়ে গেল। মামুন একই রকম আছে। একই রকম সরল চিন্তাভাবনা। মনের ভেতরে এতটুকু প্যাঁচ নেই।

রাজশাহীতে চেম্বার করতে চাইল। একটা জায়গাও দেখিয়ে দিলাম। অন্যায়ভাবে ইনকাম থাকলে এভাবে কষ্ট করে ইনকাম করার কথা না এটা একটা সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে। এমবিবিএস পাশ করার পর একদিন পাঁচ বন্ধু মামুনের বাসায় একত্রিত হয়েছি। ওর মাথা থেকেই প্রথম “হাসিমুখ” এর কথা আসে।

ডা. মামুন নিজেই সদা হাস্যমুখ,পরোপকারী, রোগী কল্যাণী সদা হাস্যমুখ। জন্ম দেন রোগী সেবা সংগঠন : হাসি মুখ। সেই হাসিমুখ সংগঠন থেকে লাখ লাখ টাকা সাহায্য করেন গরীব দু:খী রোগীদের জন্য। সেই মানবসেবী , গরীবের কাছে ঈশ্বরসম দু:খী জনের সহায় ডাক্তারই কি না মানুষের পাশে থাকার অপরাধে আজ জেলে । তাকে নিয়ে লিখেছেন ডাঃ মোঃ ফজলুল কবির পাভেল

সেখানেই হাসিমুখের জন্ম হয়। আমরা ৩০০ টাকা করে ৫ জন দিতে থাকি। আস্তে আস্তে সবাই এর কথা জানতে পারে এবং এর পরিধি বড় হতে থাকে।এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকার সাহায্য করা হয়েছে গরীব দুঃখী রোগীর জন্য। সবাই এখন এর নাম জেনে গেছে। অনেক স্যার ম্যাডামই নিয়মিত সাহায্য করে হাসিমুখকে। প্রতিটা টাকার এখানে হিসাব রাখা হয়। মেডিকেলের একদল পরোপকারী ছাত্র ছাত্রীরা এখন এর দেখভাল করে। প্রতিদিনই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে তারা গরীব রোগীদের সাহায্য করে। এর জন্য একটা সওয়াব আমার বিশ্বাস মামুন সারাজীবন পেতে থাকবে। একেবারে প্রথমে এই বিষয়টা ওর মাথাতেই এসেছিল। হাসিমুখে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি ও কতটা সৎ। কোনরকম অসচ্ছতা নেই ওর চলাফেরায়।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হবার পরেও ওর কথাবার্তা বা আচরণে কোন পরিবর্তন দেখিনি। কথাবার্তায় নম্র ও বিনয়ী। সবার উপকারের চেষ্টাই করে গেছে সবসময়। একবার মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এ ট্রেনিংএ গেলাম। ও ঘুরিয়ে নিয়ে সব জায়গায় দেখাল। একসময় এর ফাঁকেই রাউণ্ড দিয়ে এল।রোগীদের সাথে সবসময় খুব ভাল ব্যবহার করত। রোগীদের ব্যাপারে সবসময়ই ছিল আন্তরিক। আত্মীয় স্বজন কেউ ভর্তি হলে সাথে সাথেই নিজেই চলে আসত মেডিকেলে । ওর ইন্সটিটিউটের প্রায় সবাই ওকে পছন্দ করত এসব গুণের কারণে ।

মামুনের সাথে বহুদিন উঠাবসা করেছি। বহুদিন রাতে ওর বাসায় থেকেছি। ওর ভেতরে খারাপ কোনকিছুই আমার চোখে পড়েনি। মামুন অত্যন্ত বন্ধুবৎসল । নিজের ক্ষতি করে অন্য বন্ধুর উপকার করতে আমি দেখেছি। গতকাল থেকেই ওকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। একজন মানুষ কি পরিমাণ জনপ্রিয় নিশ্চয় সবাই বুঝতে পারছেন।সবাই যে ওকে কি পরিমাণ ভালবাসে নিশ্চয় লক্ষ্য করেছেন।

যে ওকে চেনে বা ওর সাথে কাজ করেছে সেই বলবে ও কতটা ভাল। সবাই তাকে ভাল বলছে। এটা একজনের জীবনে অনেক বড় পাওয়া। মামুনের নামে যে যাই বলুক আমরা যারা ওকে কাছ থেকে দেখেছি তারা বিশ্বাস করবনা। আমরা জানি স্রষ্টা নিশ্চয় মামুন কে সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা তিনি যেন মামুনকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করেন।  সূএ-ডাক্তার প্রতিদিন।

দ্রুত নিউজ পেতে নিচের লাইক বাটনে ক্লিক করে সি ফাস্ট করে রাখুন
নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

royal city hospital



© All rights reserved © 2019 rupalibarta.com
Developed By Next Barisal