ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাবে গরু, চিন্তায় কৃষক

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা (পটুয়াখালী)।।
গবাদিপশুর মধ্যে নতুন একধরনের ভাইরাসজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। একমাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এই ভাইরাসে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা ক্রমে বেড়ে চলেছে। এর চিকিৎসা নিয়ে এখন চিন্তিত হয়ে পড়েছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার গবাদি পশুর মালিকরা। অন্তত ১০জন পল্লি পশু চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁরা গ্রামের প্রবীণদের কাছে শুনেছেন, গ্রামে আগে কখনো এমন রোগ দেখা যায়নি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, অনেক স্থানেই গরুর শরীরে এই ভাইরাস দেখা দিয়েছে। একারণে এই ভাইরাসটি লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) নামে পরিচিত। গত ২১দিনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে এরোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে অন্তত দেড় হাজার আর স্থানীয় পল্লি পশু চিকিৎসক প্রায় ১হাজার গবাদি পশুকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। দিন-দিন বেরেই চলছে গরুর শরীরে এই ভাইরাসটি। অথচ এখনো এর কোনো প্রতিষেধক বের হয়নি। মশা ও মাছির মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। তবে উপজেলায় প্রায় ৭টি গরু মারা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।
গত রোববার সরেজমিনে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ও বহরমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে অন্তত ৩০জন কৃষকের সঙ্গে কথা হয় এই রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে। তাঁরা বলেন, এপর্যন্ত এই দুই ইউনিয়নের অন্তত ৪শ’ গরু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ সময় গরুর খাওয়া নিয়মিত ও স্বাভাবিক থাকে না বলে কৃষকদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে।

উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের বগুড়া গ্রামের কৃষক ইউনুছ তালুকদার ও নশা মিয়া তালুকদার জানান, এই রোগে আক্রান্ত হলে প্রথমে গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে গুটি হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে গরুর শরীরের তাপমাত্রা (জ্বর) বেড়ে যায়। এতে আক্রান্ত গরুগুলো নিস্তেজ হয়ে পড়ে। দু-তিন দিনের মধ্যে গুটিগুলো ফেটে কষ (রস) ঝরে।

অপরদিকে, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দাস পাড়া গ্রামের সংকর চন্দ্র শীল, হারুন মৃধা, মজিদ হাওলাদার এবং বাঁশবাড়িয়া গ্রামের সফিকুল ইসলাম জানান, এরোগে আক্রান্ত হলে গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে গুটি হয়ে ওঠে। আর গরুর শরীরের জ্বর বেড়ে যায়। এবং একপর্যায়ে ক্ষতগুলো পচে গরুর শরীর থেকে মাংস খসে পড়ে। এ সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।

বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিন দাস পাড়া গ্রামের কৃষক সংকর চন্দ্র শীলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, আঙিনায় ৫বছরের একটি গরুর সামনের বাঁ পায়ের কিছু অংশজুড়ে ক্ষত হয়ে মাংস খসে পড়েছে। সেখান থেকে ঝরে পড়ছে কষ(রস)। এই ক্ষতস্থান থেকে দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে। বগুড়া গ্রামের নশা মিয়া তালুকদার বলেন, তাঁর ৬টি গরুর মধ্যে ৩টি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয় আর এরোগে একটি বাছুর গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত গরুগুলোর চিকিৎসায় তাঁর ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪হাজার টাকা।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী বাজারের পল্লি পশু চিকিৎসক মো. খলিল প্যাদা বলেন, গরুগুলোর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ক্ষতস্থান শুকানো, গরুর শরীরের চামড়া চর্মরোগ থেকে রক্ষায় তিনি অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন–জাতীয় ইনজেকশন দিচ্ছেন। এতে গরুর ক্ষতস্থান সেরে উঠছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. আতিকুর রহমান বলেন, এলএসডি নামক ভাইরাস রোগটি বাংলাদেশে ২০১৯সালের এপ্রিল মাসে চট্রগ্রামে দেখা দেয়। এরোগের চিকিৎসা দীর্ঘদিন নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের গোয়ালঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শসহ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান।