অবরোধের পাঁচ মাসেও সহায়তা পাননি উপকূলের জেলেরা

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বিষখালী, পায়রা ও সাগরের মোহনায় উপকূলের জেলেরা অবাধে জাটকা ইলিশ শিকার করে চলছেন। আট মাস নদী ও মোহনায় উদ্ভিদ কণা খেতে আসে ইলিশের পোনা থেকে জাটকা হওয়া ইলিশ। তাই এ সময়টাতে জাটকা শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য বিভাগ। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা না মেনে উপকূলের প্রায় ৭০ হাজার জেলে নির্বিচারে জাটকা শিকার করে চলছেন।

বিষখালী নদীর মোহনায় জাটকা ধরা অবস্থায় আরও কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর এই আট মাসের অবরোধে দুবার ৪০ কেজি করে মোট ৮০ কেজি চাল দিয়ে সহায়তা করে সরকার। তবে এখনও সহায়তা পাননি তারা।

অক্টোবর মাসের ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অবরোধে নদী ও সাগরে একবারের জন্যও জাল ফেলেননি তারা। সরকারের নিয়ম মেনেছেন। এরপরই পয়লা নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ফের জাটকা ধরার নিষেধাজ্ঞা দিলেও তারা জাটকা ধরেননি। আশায় ছিলেন সরকারি সহায়তার। তবে অবরোধের পাঁচ মাস পার হলেও এখনও সহায়তা পাননি তারা। তাই পেটের তাগিদে জাটকা ধরতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

জেলে আউয়াল মাঝি বলেন, একদিন মাছ না ধরলে না খেয়ে থাকতে হয়। বন্ধ হয়ে যায় বাচ্চাদের লেখাপড়া। সরকার যদি সহায়তা না করে, তবে জাটকা ধরা বন্ধ করবে না কেউ। করোনার কারণে কাজের অভাব, জাটকা ধরা ছাড়া বিকল্প নেই।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, নদী ও সাগর মোহনায় জাটকা শিকার বন্ধ না করলে ইলিশশূন্য হয়ে পড়বে সাগর। আর লোকসানের মুখে পড়বে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা জেলেরা।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ফেব্রুয়ারী ও মার্চ এ দু মাসের চাল সহায়তা দেয়া হয়েছে। আর বাকী সহায়তা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলেদের মাঝে পৌঁছে যাবে । জেলেদের সহায়তার পাশাপাশি সচেতন করতেও কাজ করছেন তারা। এরপরেও যদি জাটকা ধরা থেকে জেলেরা বিরত না থাকে তবে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।