আগৈলঝাড়ায় কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি।।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কৃষিজমি থেকে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। উপজেলা প্রশাসন জায়গার নাম জানলে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। অব্যাহত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পরেছে বিভিন্ন সড়ক ও ফসলি কৃষি জমি। বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলায় কমে যাচ্ছে ফসলি জমি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের চেংগুটিয়া এলাকার ফসলি জমি ও ঘের থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন রাংতা গ্রামের মুনছুর শিকদার নামের এক ব্যক্তি। ঘের থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকিতে পরেছে পাশের ফসলি জমি গুলো।

সে চেংগুটিয়া এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় বালু দিয়ে ভরাট করাসহ একই এলাকার সোহেল তালুকদার নামে এক ব্যক্তিকে বালু দিচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এরকম ১৫ থেকে ২০টি ড্রেজার রয়েছে। যা দিয়ে তারা ফসলি ও ঘের থেকে বালু উত্তোলন করছেন।

ড্রেজার মালিক মুনছুর শিকদার জানান, অনেকে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। যার কারনে আমিও এই ব্যবসা করছি। এছাড়াও পশ্চিম মোল্লাপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ১৫-২০টি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে আবাদি জমি থেকে বালু উত্তোলন করলেও প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এব্যাপারে বরিশাল মৃত্তিকা সম্পদ ইনস্টিটিউটের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাব্বির হোসেন জানান, আগৈলঝাড়া উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় মাটির নিচে জৈবস্থর বিদ্যমান। কাজেই এ উপজেলায় মাটি খনন করা হলে দেবে যাওয়াসহ কৃষি ও জীব বৈচিত্রের প্রতি বিরুপ প্রভাব পরতে পারে। এছাড়াও কৃষি জমি থেকে বালু উত্তোলন করা হলে কৃষি জমিগুলো অকৃষিতে রুপান্তর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেহের নিগার তনু জানান, বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে আবাদি জমি থেকে বালু উত্তোলন করার ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।