আগৈলঝাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুঘর্টনা

মারুফ মোল্লা, আগৈলঝাড়া।।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি বাঁশ-কাঠের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে শতশত মানুষের যাতায়াত। যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুঘর্টনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গৈলা মডেল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামে এ বাঁশ-কাঠের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি অবস্থিত।

আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই সেতুটি দিয়ে এলাকার শতশত মানুষের যাতাযায়।

সেতুটি নির্মানের ৬ বছর পার হতে না হতেই সেতুর অর্ধেক পাঁকা স্লাব ভেঙ্গে পরেছে। এলাকার লোকজন নিজস্ব অর্থায়নে ওই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে অর্ধেক বাঁশ-কাঠ দিয়ে চলাচল করছে। সেতুটি নির্মানের জন্য একাধিকবার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এবং এলজিইডি বিভাগকে জানানোর পরও সেতুটি অত্র এলাকার জনগণ জানেনা কবে নাগাদ এ সেতুটি একটি পাকা সেতুতে রুপান্তরিত হবে।

রাস্তার দক্ষিণপার্শ্বের (ফকির বাড়ি, দাড়িয়া বাড়ি, সরদার বাড়ি, মোল্লা বাড়ি) সহ একাধিক বাড়ির ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের স্কুল, কলেজ এবং সাধারণ জনগণের আগৈলঝাড়া উপজেলাতে যাতায়াতের একমাত্র সহজ পথই হলো এই সেতুটি। কৃষি মৌসুমে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক শত একর জমির ফসল আনা নেয়া করা হতো এই ভাঙ্গা সেতুটির উপর দিয়ে। যা কৃষকদের জন্য এখন খুবই দু:খ-কষ্টের কারণ। ওই বাড়ির ভ্যান চালক শাহিন ফকির জানান, সেতুর উপরের কাঠগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। লোহার রডগুলো একেবারে নড়বড়ে হয়ে পরেছে। এটি যে কোন সময় ধসে পরে মানুষের অঙ্গহানিসহ প্রাণ বিনষ্ট হতে পারে।

বৃদ্ধ আয়নাল ফকির, শাহজাহান ফকির জানান, বিকল্প কোন পথ না থাকায় এই বৃদ্ধ বয়সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতুর উপর দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়।

এই সেতু দিয়ে চলাচলে এলাকার জনগণ নানা দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। পূর্ব সুজনকাঠি গ্রামের মিয়া খালেক বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে গ্রামের মানুষ এই সেতুর অর্ধেক বাঁশ-কাঠের উপর দিয়ে চলাচল করে আসছি।’

সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তার, মারিয়া আক্তার বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই নড়বড়ে এই সেতু দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছি। সেতুটির কথা মনে হলে ভয় লাগে। কখন বই খাতা নিয়ে নিচে পরে যাই। আমরা চাই, এখানে দ্রুত একটি পাকা সেতু তৈরি করা হোক।’

অনেক সময় যাতায়াতকারী পথচারীরা সেতু থেকে নীচে পড়ে আহত হয়।

এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই ভাঙ্গা সেতুটির স্থানে যাতে একটি পাকা সেতু নির্মাণ হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল হোসেন বলেন, সমস্যাটি দীর্ঘ দিনের হলেও সেতু তৈরি করার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি, তবে আশা করি খুব শীঘ্রই সেখানে একটি সেতু তৈরি করা হবে।
এব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী রাজ কুমার গাইন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির অবস্থা খুবই বেহাল। সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত এর নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে আশা করছি।