আগৈলঝাড়ায় টাইগার, দাম ৩৫ লক্ষ টাকা

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি, বরিশাল।।
আসন্ন কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল গ্রামে প্রায় ৫৫ মন ওজনের ষাড় টাইগারকে। বিশাল আকৃতির এই ষাড় গরুটির দাম নির্ধারন করা হয়েছে ৩৫ লক্ষ টাকা। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সম্মতভাবে এ ষাড় গরুটি পালন করা হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিক্রির জন্য সেটি নিজ বাড়িতেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু মোটাতাজাকরণ চলছে উপজেলার বিভিন্ন খামারে। এরই মধ্যে রয়েছে ৪ বছর বয়সী বিশালাকৃতির একটি ষাড় গরু। গরুটি লম্বায় ১২ ফুট ও উচ্চতায় সাড়ে ৬ ফুট। এর ওজন প্রায় ২২শত কেজি অর্থাৎ ৫৫ মন। খামারি শামীম সিকদার ভালোবেসে এর নাম রেখেছেন টাইগার।

বিশাল আকৃতির গরুটি উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের বাশাইল গ্রামের শামীম সিকদারের ফার্মে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর দাম ৩৫ লাখ টাকা হঁাকা হয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চাহিদার কাছাকাছি এলেই এই ষাড় গরুটি বিক্রি করবেন বলে জানান খামারি শামীম সিকদার। তার ফার্মে বর্তমানে ২০৬টি বিভিন্ন সাইজের ছোট বড় দেশী ষাড় গরু রয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা আসছেন বিশালাকৃতির এই গরুটি দেখতে। তার বাড়ি থেকেই প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানের লোকজন ছোট-বড় ষাড় কিনে নিচ্ছেন।

চঁাদপুর থেকে আসা এক ক্রেতা হাফিজ উদ্দিন বলেন, আমি এই ফার্ম থেকে গত সপ্তাহে ১৬টি বিভিন্ন সাইজের ষাড় গরু নিয়েছি। বর্তমানে আবার ১৩টি ষাড় গরু কিনেছি। আমি বিভিন্ন ফার্মে ঘুরে দেখেছি অন্য ফার্মের তুলনায় এখানে গরুর দাম অনেক কম। তাই আমি চঁাদপুর এলাকার বিভিন্ন গরুর হাটে এই ফার্মের গরু বিক্রি করার জন্য নিয়েছি।

খামার পরিচালনাকারী শামীম সিকদার বলেন, ৪ বছর আগে দেশী চিটাগাং সিন্ধি দেশি জাত থেকে প্রজননের মাধ্যমে হলেস্টান প্রিজিয়ান গরু থেকে টাইগারের উদ্ভাবন। টাইগার ষাড়টি বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরে গেছেন খামারি শামীম সিকদার। কারন এতো বড় গরু এই এলাকায় বিক্রি করা মনে হয় সম্ভব হবে না।

তিনি নিজেই প্রতিদিন এর গোসল করা থেকে শুরু করে সবকিছু দেখভাল করেন। টাইগার সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খায়। বর্তমানে প্রতিদিন আড়াই কেজি গুড়, ৫ কেজি ভূষি, ২ কেজি ডালের ভূষি, ২ কেজি ধানের কুড়া, ১ কেজি ভুট্টার গুড়া, ২ কেজি গমের ভূষি, ৫ কেজি তিলের খৈল, ১০ কেজি চালের গুড়া, ঘাস এবং ২ কেজি খুদের ভাত খায়।

তিনি আরও দাবী করেন কোন ধরনের রোগ বালাই ছাড়া কোরবানির জন্য টাইগার ষাড় গরুটি প্রস্তুত করা হয়েছে। মহামারি করোনা বর্তমানে বৃদ্ধি পাওয়ায় হাট-বাজারে গিয়ে ষাড়টি বিক্রি না করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ বাড়ি থেকে বিক্রি করতে চান তিনি। আর বাড়িতে বসে বিক্রি করতে না পারলে কোরবানির হাটে ঢাকা নিয়ে যেতে চান তিনি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামান তরফদার বলেন, আমাদের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তত্বাবধানে একেবারেই প্রাকৃতিক ও নির্ভেজাল পদ্ধতিতে অনেকেই গরু লালন-পালন করেছেন বিভিন্ন খামারি। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই ধরনের ষঁাড় বা দামি গরু সাধারণত ঢাকাসহ বাহিরের ক্রেতারাই বেশি আকৃষ্ট হয়ে থাকেন। স্থানীয়ভাবে এই গরুর ক্রেতার খুবই সংকট। তবে আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্ন পর্যায়ে আগ্রহী ক্রেতা রয়েছে তাদের সাথে কথা বলার জন্য। এছাড়া, আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা খামারের গরু গুলোর চিকিৎসার জন্য।