আগৈলঝাড়ায় টিকা প্রদানে শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৭ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি।।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় সরকারের বিনা মূল্যে কোভিড-১৯ টিকা দেয়ার ভাড়া বাবদ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জেলা সদর থেকে টিকা আনতে ৩৪ হাজার ৬শ টাকা খরচ হলেও বাকী ৭ লাখ টাকার উপরে আত্মসাতের ঘটনায় উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক চাঞ্চ্যলর সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের করোনা প্রতিরোধে টিকা প্রদানের ঘোষণায় উপজেলায় ১৫ হাজার ২শ শিক্ষার্থীকে টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গত ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখ টিকা প্রদান শুরু করা হয়। উপজেলা সদরের কালী খোলা রোডে “বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার’’ কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাগন।

১৫ জানুয়ারী পর্যন্ত উপজেলার লক্ষ্যমাত্রার ১৪ হাজার ৬শ ৯৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজের টিকা প্রদান সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

শুরুতেই ওই এনজিও কার্যালয়ে টিকা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে বরিশাল জেলা সদর থেকে টিকা আনার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ ৫০ টাকা করে আদায় শুরু করে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। এক এক দিন দুই থেকে তিন-চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করা হলেও এ্যাম্বুলেন্স খরচ বাবদ সমান হারে চলে টাকা আদায়।

প্রথমে দুই তিন দিন এভাবে টাকা আদায়ের পর অভিভাবকদের সমালোচনার মুখে পড়ে টাকা আদায়ের কৌশল পাল্টে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেয়া বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা আনার খরচ বাবদ আদায় শুরু করেন শিক্ষা কর্মকর্তা। নাম না প্রকাশের অনুরোধ করে স্বনামধন্য বেশ কয়েকজন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, তারা টিকা আনার খরচ বাবদ শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন না করলেও স্কুল ফান্ড থেকে তারা ওই টাকা দিয়েছেন।

৫০ টাকা করে আদায়ের হিসেবে ১৪ হাজার ৬শ ৯৪ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭শ টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া থেকে বরিশাল জেলা সদরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া ২২শ টাকা। শিক্ষার্থীদের টিকা আনার জন্য ১৩ দিনে ২২শ টাকা হিসেবে ২৮ হাজার ৬শ টাকা এবং আরও দুই দিন টিকা আনার ভাড়া বাবদ চালককে দেয়া হয়েছে ৩ হাজার টাকা। টিকা সরবরাহের জন্য সর্বসাকুল্যে খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার ৬শ টাকা। হদিস নেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে আদায় করা ৭ লাখ ১ হাজার টাকার।

প্রশাসনের একটি দ্বায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, টিকা রাখার সঠিক তাপমাত্রার জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের প্রয়োজন হয়। উপজেলা প্রশাসনের আওতায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ না থাকায় একটি এয়ার কন্ডিশন মেশিন ক্রয়ের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে ৫০ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা নিতে বলা হয়েছিল। তাদের সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে কেন বাড়তি টাকা নেয়া হয়েছে বা ওই টাকা কোথায় কি কাজে ব্যয় হয়েছে তা তারাও অবগত নয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন বলেন, সরকার টিকা সরবরাহ করেছে বিনামূল্যে। হাসপাতালের প্রশিক্ষিত জনবল দিয়ে শিক্ষার্থীদের টিকা প্রদান করা হয়েছে সেখানে টাকার বিষয় থাকার কথা নয়। যদি কেউ টাকা তুলে থাকে সে দ্বায়িত্ব তার নিজের।

টিকা দেয়া ভ্যানু “বাংলাদেশ প্রতিবন্ধি উন্নয়ন সংস্থার’’ নির্বাহী পরিচালক বদিউল আলম বাবুল জানান, শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়ার জন্য তার কাছে তিন চার দিনের জন্য ভ্যানু চাইলে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে তার অফিসের নিজের কক্ষ ছেড়ে দেন। পরবর্তিতে অপর এসি কক্ষসহ পুরো অফিসটি দীর্ঘ দিন ব্যবহার করা হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্মাণ করা বিশেষ সিড়ি, ভবনের রং, কারেন্ট বিল বাবদ তার অর্ধলক্ষাধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়ছে। তবে এজন্য তাকে আর্থিক কোন টাকা দেয়াও হয়নি বা তিনি কোন টাকা নেননি। শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য টাকা আদায়ের কথা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোন টাকা উত্তোলন করা হয়নি। যে টাকা খরচ হয়েছে তা শিক্ষকরা ব্যয় করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোজখবর নিয়ে জেনে যদি সত্য হয় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এর এখতিয়ার নেই এ ধরনের টাকা উত্তোলনের। আর সে যদি এটা করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।