আগৈলঝাড়ায় নবজাতকের মৃত্যু: মামলা দায়ের, তদন্ত কমিটি গঠন

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি।।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় অপ-চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষেভ সমাবেশ হয়েছে। নিহত নবজাতকের পরিবার ও স্বজনদের উদ্যোগে উপজেলার বাইপাস (ফুল্লশ্রী) সড়ক এলাকায় আগৈলঝাড়া- গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত দুঃস্থ মানবতার হাসাতালের সামনে গতকাল বুধবার ভুক্তভোগী পরিবারসহ শতাধিক এলাকাবাসী ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ গ্রহণকরে।
মানববন্ধন শেষে নিহত নবজাতকের পিতা রহিম সরদার, চাচা লালন সরদার, মামা আতিক হাওলাদার ও ইউপি সদস্য কুদ্দস মোল্লাসহ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, ২৭ ডিসেম্বর তালতারমাঠ গ্রামের রহিম সরদারের সন্তান সম্ভবা স্ত্রী ইয়াসমিন (২০) হাসপাতালে গেলে ওই হাসপাতালের অনভিজ্ঞ নার্স ও আয়ারা ইয়াসমিনকে জোর করে ডেলিভারীর করায়। জোর করে ডেলিভারী করানোয় ইয়াসমিনের নবজাতক পুত্র অসুস্থ হয়ে পরলে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিলে সেখানের চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রসুতি ইয়াসমিনের ভাই আতিক হাওলাদার বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করতে গড়িমসি করে।

থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরেও দীর্ঘ সময়ে মামলা আকারে রেকর্ড না হওয়ায় থানা পুলিশের প্রতি চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশ নেয়া ইয়াসমিনের পরিবারের স্বজনেরাসহ স্থানীয়রা। একই সাথে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম জানান, ইয়াসমিনের ভাই বাদী হয়ে দায়ের করা অভিযোগ গতকাল বুধবার দুপুরের পরে মামলা আকারে গ্রহন করা হয়েছে, যার নং-১৬(৩০.১২.২০)। ওই মামলায় তদন্তকারী অফিসার হিসেবে ওসি (তদন্ত) মাজহারুল ইসলাম নিজেই দ্বায়িত্বভার গ্রহন করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন বলেন, ভুক্তভোগীরা তার কাছে কোন লিখিত অভিযোগ না করায় তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। তবে ঘটনাটি জেলা সিভিল সার্জনের দৃষ্টি গোচর হওয়ায় সিভিল সার্জন বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে বুধবার সিভিল সার্জন কমিটি গঠনের জন্য তাকে (ডা. বখতিয়ার আল মামুন) চিঠি প্রদান করার কথা জানিয়েছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। অভিযোগ শুনে বুধবার তিনি সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তাকে প্রধান করে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাবার পরে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।