আগৈলঝাড়ায় ভোটারদের হুমকি-ধামকী, বেড়ে চলেছে উত্তাপ

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি, বরিশাল।।
দ্বিতীয় ধাপে ১১ তারিখের ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রমেই বেড়ে চলেছে উত্তাপ। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগের পর অভিযোগ দায়ের হলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন প্রার্থীরা।

সাম্প্রদায়িকতার ধুয়া তুলে রাতের আঁধারে টাকার বিনিময়ে ভোট কিনতে গিয়ে ধরা পরা, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কর্মী সমর্থক ও ভোটারদের ভয়-ভীতি প্রদান, কেন্দ্র দখলের পায়তারার অভিযোগ করে সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত আইন শৃংখলা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ভ্যানগাড়ি মার্কার মেম্বর প্রার্থী ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেম্বর সঞ্জয় রায় এর পক্ষে সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে টাকার বিনিময়ে মালোকাঠী এলাকায় গোপাল মধুর বাড়িতে ভোট কিনতে যায় সরকারী কলেজের এক প্রভাষক, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ও ইউপি সচিবসহ তিন জন। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই প্রভাষক ও ইউপি সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় জনরোষ থেকে তাদের ছাড়িয়ে নিতে আসে মেম্বর প্রার্থী সঞ্জয় রায়।

সঞ্জয়ের সাথে থাকা সুশান্ত বালা সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শওকতের উপস্থিতিতে সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে উস্কানীমুলক কথা বার্তা বললে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে।

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিবৃত করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির পাইক। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন বুধবার সকালে স্থানীয় ভাবে মিমাংশার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভ্যানগাড়ি মার্কার মেম্বর প্রার্থী ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেম্বর সঞ্জয় রায় জানান, টাকার বিনিময়ে আমার কোন সমর্থক কারো কাছে ভোট চায়নি। আমার জন সমর্থন দেখে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।

উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের ৫নং সাধারণ ওয়ার্ডে মোরগ মার্কার মেম্বর প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্তিয়ার মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে আবেদনে জানিয়েছেন উত্তর চাঁদত্রিশিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রটি সীমান্তবর্তী হওয়ায় অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সাধারণ ভেটারদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠ ভোট গ্রহনের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন জানান তিনি।

একইভাবে উল্লেখিত কেন্দ্রটিকে ঝুঁকিপূর্ণ দাবি করে সুষ্ঠ ভোট গ্রহনের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছে ওই ওয়ার্ডের অপর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী শাহ আলম বক্তিয়ার।

এদিকে বাগধা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের গোপালসেন গ্রামের বিশ্বেশ্বর মধুর ছেলে বিপুল মধুকে ওই ওয়ার্ডের মোরগ মার্কার প্রার্থী বর্তমান মেম্বর মেহেদী হাসান মিথুনের কর্মী ফিরোজ মৃধা মোরগ মার্কায় ভোট না দিলে মারধরসহ বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

এছাড়াও ফিরোজ মৃধার বিরুদ্ধে আচারন বিধি ভঙ্গ ও সাম্প্রাদায়িক উস্কানিমুলক বক্তব্য প্রদানের অভিযোগ করেন তিনি।
মোরগ মার্কার প্রার্থী বর্তমান মেম্বর মেহেদী হাসান মিথুনের কর্মী ফিরোজ মৃধা জানান, ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতেই আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সহিদুল্লাহ জানান, বিভিন্ন প্রার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে অফিসের লোক পাঠানো হয়েছে।