আগৈলঝাড়ায় মুক্তিযোদ্ধার জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি, বরিশাল।।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক মুক্তিযোদ্ধার জমি জবরদখল করে মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পরিবার থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নানা প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে দখলীয় জমি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা চালাচ্ছে প্রতিপক্ষের লোকজন এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাল্লুকশী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেনের জমি একই এলাকার কাজী মোতাহার হোসেনের ছেলে কাজী ছালাম জোর পূর্বক মাটি কেটে নিয়ে যায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন জানান, দক্ষিণ ভাল্লুকশী মৌজায় আমার রেকর্ডীয় ২৫ শতাংশ জমির ১৬ শতাংশ জমি কাজী ছালাম ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে করে সেই জমি জোরদখল নেয়। পরে আমি ওই জমি ফেরত পেতে বরিশাল স্পেশাল ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা দায়ের করি। যার নং-২৫২/২১। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেনের বাকি ৯ শতাংশ জমি জবরদখল নিতে প্রতিপক্ষের কাজী ছালামের নেতৃত্বে কাজী অপু, কাজী ইব্রাহিম, কাজী তপু, কাজী জহির, কাজী জুয়েল, কাজী বাবুসহ ১০/১২ জন মিলে জোর পূর্বক ওই জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন বাঁধা প্রদান করিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেনের ছেলে কাজী এরশাদ জানান, এর পূর্বেও কয়েকবার প্রতিপক্ষের কাজী ছালামের পরিবার বিভিন্ন সময় আমাদের লাগানো ৫/৭ টি ফলজ ও বনজ গাছ কেটে নিয়ে যায়।

অভিযুক্ত কাজী ছালাম জানান, যে জমি থেকে আমরা মাটি কেটেছি সেই জমি আমাদের। আমাদের জমি থেকে মাটি কাটার সময় মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর বাঁধা প্রদান করেন। যার কারনে আমিও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মিলটন মন্ডল জানান, মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেনের জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ার কারনে প্রতিপক্ষ কাজী ছালাম গংদের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

পরে আবার প্রতিপক্ষ কাজী ছালামও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রাখতে বলি।

এব্যাপারে থানা পরিদর্শক মো. গোলাম ছরোয়ার জানান, তাদের দুই পক্ষের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে থানায় মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলমগীর হোসেন এবং অভিযুক্ত কাজী ছালাম গংদেরকে কাগজপত্র পর্যালোচনাসহ আপোষ মিমাংসার জন্য তলব করা হয়।