আগৈলঝাড়ায় ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়াই অভিযান: ব্যবসায়ী ও জনমনে ক্ষোভ

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি।।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়াই পুলিশ নিয়ে সদর বাজারে এসিল্যান্ডের নাজিরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গোডাউনে বে-আইনীভাবে হয়রানী করতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করায় টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। ভোজ্য তেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগনের হয়নারীর আশংকা।

অবৈধ মজুদের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর রাখা দুই লিটারের ১৮বোতল সয়াবিন তেল পেয়ে তা স্থানীয়দের মধ্যে নাজির বিক্রি করে দেয়ায় বাজারের সকল মুদি ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষ চরম বিপাকে পরার আশংকা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ভোজ্য তেল বাড়তি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে বুধবার আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর বাজারে ম্যাজিষ্ট্রেট ছাড়াই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। তেলের অবৈধ মজুদ ও বাড়তি দাম ঠেকাতে মুদি ব্যবসায়ী সুলতান স্টোর, অশোক স্টোর, বিভূতি স্টোর, গোবিন্দ ভান্ডার, মনোতোষ স্টোরসহ মোট ৬টি দোকানে থানা পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে তল্লাশী চালায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের নাজির সোহেল আমিন।

পুলিশ নিয়ে অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেহের নিগার তনু বা অন্য কোন ম্যজিষ্ট্রেট এর উপস্থিতি না থাকায় অবৈধভাবে অভিযান নিয়ে বিস্মিত হন। ফলে ব্যবসায়ীদের মনে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। বিষয়টি টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের নামে পুলিশ নিয়ে অবৈধভাবে ব্যবসায়ীদের হেনস্তা করায় তারা কোন ভোজ্য তেল বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগেও একাধিকবার এসিল্যান্ড বিভিন্ন স্থানে অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করেছেন বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

উপজেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলে দেয়া অভিযানের একাধিক স্থির চিত্র ও ভিডিও চিত্রেও এসিল্যান্ডের কোন উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

ব্যবসায়ী বিভূতি হালদার জানান, আমার দোকানে পুলিশ নিয়ে ঢুকে তল্লাশী করা হয়েছে। দোকানে কোন অবৈধ তেলের মজুদ পায়নি তারা। এক পর্যায়ে আমার গোডাউনে পুলিশ নিয়ে তল্লাশী চালায়। গোডাউনে সিটি গ্রুপের ২ লিটারের ২কার্টন সয়াবিন তেল (১৮পিচ) পেয়ে ৩৯৮ টাকা সরকারী বাজার মূল্যের তেল ৩১৮টাকা করে উৎসুক লোকজনের মধ্যে বিক্রি করে দেয় নাজির সোহেল আমিন। যাতে আমার ব্যবসায়ীক সুনাম ক্ষুন্ন হয় এবং প্রতি বোতলে ৮০টাকা করে লোকসান হয়। অভিযানে এ্যাসিল্যান্ড উপস্থিত না থাকায় ১৮পিচ তেল পেয়ে বিষয়টি ফোনে নাজির এ্যাসিল্যান্ডকে অবহিত করেন।

সুলতান স্টোরের মালিক সুলতান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী জানায়, তার দোকানে পুলিশ নিয়ে অভিযান চালায় ভূমি অফিসের নাজির সোহেল আমিন। তবে অভিযানে কোন ম্যাজিস্ট্রেট ছিল না।

গোবিন্দ ভান্ডারের মালিক গোবিন্দ বিশ্বাস জানান, তার দোকানের দোতলায় উঠেও পুলিশ নিয়ে অভিযান চালায় ভূমি অফিসের নাজির সোহেল আমিন। বে-আইনী কিছুই পায়নি তারা। অভিযানের সময় এসিল্যান্ড বা কোন ম্যাজিস্ট্রেট ছিল না। সোহেল আমিন এবং একজন এএসআই ও একজন পুলিশ সদস্য অভিযান চালায়। এভাবে অবৈধ অভিযানে আমাদের ব্যবসায়ী সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।

খেঁাজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ নিয়ে বাজারে অভিযান হলেও ওই অভিযানে কোন ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন না। ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া পুলিশ নিয়ে একজন নাজির কিভাবে অভিযান পরিচালনা করে এই প্রশ্নে হতবাক ব্যবসায়ীসহ এলাকার লোকজন।

এসিল্যান্ডের উপস্থিতি ছাড়া কিভাবে পুলিশ নিয়ে তার অফিসের নাজির সোহেল আমিন ভ্র্যাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন তা জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন জানান, এটা হতে পারে না। তাকে আমি বলেছি অভিযান করতে সে না থাকার কথা নয়। মিডিয়া সেলের স্থির ও ভিডিও চিত্রেও তাকে দেখা যায়নি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন তিনি। বিষয়টি তার কাছ থেকে জেনে জানানোর কথা বলে পরবর্তিতে ইউএনও জানান, এসিল্যান্ড তাকে জানিয়েছেন যে, তিনি অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে থানার এএসআই গৌরাঙ্গ লাল চন্দ জানান, তিনি ও পুলিশ সদস্য হাসান অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় এসিল্যান্ড গাড়িতে বসা ছিলেন। বাজারের মধ্যে তাদের অভিযান করতে বলায় তার নাজির অভিযান পরিচালনা করেন। এসিল্যান্ড অফিসের নাজির সোহেল আমিনের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নেহের নিগার তনু অভিযানে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি অভিযানের সময়ে একটি দোকানের পাশে দাড়িয়ে ছিলেন।