আগৈলঝাড়ায় সড়ক দখল করে ইট-বালু ও গাছের ব্যবসা, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি, বরিশাল।।
বরিশালের আগৈলঝাড়া-খুলনা-যশোর, আগৈলঝাড়া-ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ইট-বালু ও গাছসহ বিভিন্ন পণ্য রেখে জমজমাট ব্যবসা করছে ব্যবসায়ীরা। এতে প্রায় দিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনার ফলে অনেকের জীবন চলে গেছে আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বরন করছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে গেছে এই ব্যবসার কারনে।

সরেজমিন দেখা যায়, কিছু কিছু ব্যবসায়ী সড়ক দখল করে কোথাও ইট, কোথাও বালু, পাথর, সুরকি ও গাছ রেখে বেঁচাকেনা করছেন। এছাড়া অনেক দোকান ও প্রতিষ্ঠানের সামনে সার্বক্ষণিক দখল রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবহৃত গাড়ি বা যন্ত্রপাতিতে। আর এসব কারণে যানবাহন চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। অকালে ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান প্রাণ।

গৈলা ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আগৈলঝাড়া-খুলনা-যশোর, আগৈলঝাড়া-ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। এতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হওয়া সত্বেও প্রকাশ্যেই সড়কটি দখল করে প্রভাবশালীরা ইট-বালু, পাথর ও গাছ রেখে ব্যবসা করছে। কিন্তু পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয় না। এ কারণে দিন দিন দখলবাজি বেড়ে যাচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, নীমতলা, রথখোলা, ফুল্লশ্রী, বড়মগড়া, জোবারপাড়, পয়সারহাট, বাশাইল, রাজিহার, রতœপুর, ছয়গ্রাম, মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাট, বারপাইকা, বাগধাসহ আরো কয়েকটি স্থান ইট-বালুতে দখল হয়ে আছে সড়কের পাশে। সবচেয়ে বেশি দখলে আছে মহাসড়ক সংলগ্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনের অংশ। মালামাল আনলোডের সময় একসঙ্গে ১০-১৫টি কিংবা এর চেয়েও অনেক বেশি গাড়ি সড়কের পাশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। ফলে মহাসড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী নয়ন তালুকদার বলেন, মহাসড়কে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে সড়ক অবৈধ দখলে থাকার কারণে। যার যেমন ইচ্ছা সেভাবেই সড়ক দখল করছে। মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখার পাশাপাশি সারি সারি যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকায় গাড়ি চলতে গিয়েও বাঁধাগ্রস্থ হয়। এতে প্রায়দিনই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রথখোলা বাসষ্ট্যান্ডে হালিম সরদার, পনু সরদার, নান্টু মোল্লা, রুহুল সরদার, ফিরোজ মোল্লাসহ তাদের সড়কের দুই পাশে ইট, বালু ও সিমেন্টের দোকান আছে প্রায় ৭ থেকে ৮টি। অধিকাংশ দোকানের মালামাল রাখা আছে সড়ক ও ফুটপাতে।

পথচারী মহিউদ্দিন মীর বলেন, এমনিতেই অধিকাংশ সড়কে ফুটপাত নেই। এই সড়কে কিছুটা ফুটপাত থাকলেও দখল করে রেখেছেন ইট-বালু ব্যবসায়ীরা। আর ধুলাবালির কারণে চলাচল করা দায়। ফুটপাত দখল হওয়ায় চলাচলেও কষ্ট হচ্ছে।
পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় ইট-বালুর ব্যবসা চলছে। সড়কে বালু রাখায় সারা দিনই সড়কে ধুলাবালি ওড়ে। সড়কের পাশে যাদের ঘর রয়েছে তাদের ঘরের জানালা খুললেই ঘরের ভেতরে চলে আসে বালু।

ভ্যান চালক শাহিন ফকির বলেন, সম্প্রতি রথখোলা বাসষ্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশে সড়কের উপর পাথর রাখায় সুজনকাঠি গ্রামের হেমায়েত মোল্লা মটরসাইকেল নিয়ে পাথরের উপর পিছলে পরে মৃত্যুবরন করেন।

ধুলাবালির কারণ ও ফুটপাতে ইট-বালু রাখায় মানুষের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেন ব্যবসায়ী হালিম সরদার বলেন, সড়কের আশেপাশে কোন জায়গা না থাকার কারনে আমরা বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে ইট-বালু রাখতে বাধ্য হই। কিন্তু বেঁচাকেনার কারনে সড়কের উপর বেশিদিন ইট-বালু রাখতে হয় না। আরেক ব্যবসায়ী রুহুল সরদার বলেন, আমরা সড়কের পাশে থাকা ইট-বালু অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাবে।

রথখোলা বাসষ্ট্যান্ড সড়ক বন্ধ করে ট্রাক দাঁড় করিয়ে চলে লোডিং-আনলোডিং। সড়কের বেশির ভাগ জায়গায় বালুর স্তুপ আর সারা দিন বালুর ট্রাকের দখলে থাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও। বেশ কয়েকটি সড়কে বছরের পর বছর ইট-বালু রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। বালু উড়ে এ সড়কে চলাচলকারীদের চোখ, মুখ ও নাকে যাচ্ছে। এই সড়কে চলাচলকারী শত শত যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় চালকরা জানান, উল্লেখিত সড়কগুলো দিয়ে শত শত যানবাহন প্রতিদিন চলাচল করে। জরুরি পণ্যসহ বিভিন্ন মালামাল এ সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হয়। ব্যস্ত এ সড়কে ব্যবসায়ীরা ট্রাক দাঁড় করিয়ে লোড-আনলোড করেন। এতে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে এ সড়কে গাড়ি চালাতে পারছি না।