৫ মিনিটেই কমিয়ে দিলাম বাজার দর!

জাকিরুল আহসান।।
নতুন চাকরি হয়েছে টেলিভিশনে। মনে চাঞ্চল্য। অনেকদিন সংবাদপত্রে কাজ করলেও টিভিতে কাজের আভিজ্ঞতা নতুন। সময়ও দিচ্ছি বেশি, সারাদিনই পারলে অফিসের কাজে সময় দিচ্ছি। সত্য প্রকাশের যে স্বপ্ন সেই স্বপ্নের যেন শুরু। সারাক্ষণ রিপোর্ট নিয়ে ভাবনা, কী নিউজ করা যায়, কতটা ভালো করা যায়, চলছিল এভাবেই।

কথাগুলো ২০১০ সালের। তখন টেলিভিশনে সপ্তাহে একদিন বাজার দর নিয়ে রিপোর্ট করার প্রচলন ছিল। এখন অবশ্য অনেক টিভি, যার যার মতো করে সাজিয়েছে সংবাদ প্রচারের ধরন। আর তখন বাজার দরের নিউজ প্রচার হতো শুক্রবার। এর মধ্যে এক শুক্রবার আমাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হলো বাজারদর নিয়ে রিপোর্ট করতে। চলে গেলাম রাজধানীর অন্যতম পাইকারী কাচাবাজার কারওয়ান বাজারে। ক্যামেরাম্যান যথেষ্ট মনযোগ দিয়ে ভিডিও ধারন করলেন। আর আমি যথেষ্ট যতœ নিয়ে পণ্যের দামগুলো সংগ্রহ করলাম। চেষ্টা ছিল যতটা সঠিক তত্য সংগ্রহ করা যায়।

ফিরে এলাম অফিসে। রিপোর্টও করলাম যত্ন নিয়ে, কারণ টেলিভিশনে চাকরি তখন আবেগ। টেভিতে আমরা যারা একযোগে যোগ দিয়েছিলাম তারা সবাই নতুন রিপোর্টার। এজন্য যখন খবর প্রচার হতো সবাই একসঙ্গে বসে খবর দেখতাম। আর কার কী ভুল হয়েছে বা সুন্দর হয়েছে তা পর্যালোচনা করতান। সেদিনও সবাই বসে দুপুর ১২ টার খবর দেখছিলাম। নিউজ এডিটরসহ সবাই আমার বাজার দর নিয়ে করা রিপোর্টটি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেন না, অতএব খুশি মনেই বসেছিলাম।

এরই মধ্যে ফোন এলো টিভির কর্তা ব্যক্তির রুমে আমাকে ডেকেছে। আমি যাওয়ার পরই সেই কর্তা প্রশ্ন করলেন তুমি কোন দল করো ? কোথায় পেলে বেগুনের দাম বেড়েছে ? বাজারে না গিয়েই নিউজ করেছো! সরকারের বদনাম করতে চাও। আরো অনেক কথা …. আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। কালো মুখ করে ফিরে এলাম নিউজ রুমে। সবাই বুঝতে পারলেন।
এবার উপায় কী? বেলা ১২ টায় নিউজ গেল কাচাবাজারে দাম বেড়েছে। সেই নিউজ কেটে ৫ মিনিটের মধ্যে আমি নিজেই বাজার দর কমিয়ে দিলাম। নতুন এই নিউজ দুপুর ২ টা থেকে পরদিন পর্যন্ত প্রচার হলো। মন ভেঙে গেলো, এরপর থেকে মাথায় থাকতো অফিস নিউজে কী চায় সেভাবেই চেষ্টা হতো। তাছাড়া উপায় কী, কথা বললে চাকরি থাকবে না।
গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা কমানোর এরকম অসংখ্যা ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে গত এক যুগে। এক পর্যায়ে সংবাদপত্র থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার উপায় খুঁজতে হয়েছে। সে বিষয়ে অন্য একদিন লেখা যাবে। কথা হচ্ছে দল থাকবে, মত থাকবে, রাজনীতি থাকবে, সবকিছুর উর্ধ্বে থাকুক গণমাধ্যম। এজন্য নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সত্য প্রচারে আপোষ না করে এগিয়ে যাক দৈনিক বাংলাদেশ বানী। বরিশালের অর্ধশত পত্রিকার মাঝে নিরপেক্ষতার দিক দিয়ে সর্বোচ স্থানে উঠে আসুক পত্রিকাটি।

লেখক: বার্তা সম্পাদক, রূপালী বার্তা এবং বিশেষ প্রতিবেদক, বাংলাদেশ বাণী।