আসামির বাড়ি মেহেন্দিগঞ্জ, অভিযোগপত্র দিলেন মাদারীপুরের বাসিন্দার বিরুদ্ধে!

গৌরনদী প্রতিনিধি, বরিশাল॥
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের চাঁদশী গ্রামের যুবক দীনেশ চন্দ্র দাসের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ দুই বছর ধরে ঘর সংসার করছে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গোবিন্দ চন্দ্র দাসের কন্যা অনিমা রানী দাস (৪০)।

গৌরনদী মডেল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দুলাকান্দি গ্রামের গোবিন্দ কর্মকারের মেয়ে অনীমা রানী কর্মকারের (২৫) বিরুদ্ধে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার বাদির অভিযোগ প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত না করে অন্য নারীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে।

আদালত ও গৌরনদী থানা সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়নের চাঁদশী গ্রামের সুনীল দাসের ছেলে দীনেশ চন্দ্র দাস (৪৫) ২০০০ সালে বিয়ে করেন আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল গ্রামের মৃত হরিপদ দাসের কন্যা সবিতা রানী দাসকে (৩৬)। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ঝামেলা হওয়ায় সে ২০১৯ সালে দ্বিতীয় বিয়ে করে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গোবিন্দ চন্দ্র দাসের কন্যা অনিমা রানী দাসকে (৪০)। হিন্দু শাস্ত্রের ধর্মীয় মতে স্ত্রী তালাক ও দ্বিতীয় বিয়ে না থাকায় প্রথম স্ত্রী সবিতা রানী বাদি হয়ে স্বামী দীনেশ ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী অনীমা রানী দাসকে (৪০) কে আসামি করে ২০১৯ সালের ১৯ আগষ্ট গৌরনদী থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পিনাকী সিকদার ওই বছর ৬ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এসআই পিনাকি সিকদার দীনেশ চন্দ্রর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দুলাকান্দি গ্রামের গোবিন্দ কর্মকারের মেয়ে অনীমা রানী কর্মকারকে (২৫) আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে গত প্রায় দুই বছর যাবত বিচারাধীন মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি সময়ে মামলার বাদি সবিতা রানী প্রকৃত আসামিকে বাদ দিয়ে ভিন্ন ঠিকানার নারীর নামে অভিযোগপত্র দেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে গৌরনদী মডেল থানায় একটি জিডি করেন।

সবিতা রানী বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে আসামির জামিন বাতিল করে আসামি দীনেশ চন্দ্র দাসের দ্বিতীয় স্ত্রীর ভোটার আইডি কার্ড ও জন্ম নিবন্ধনের প্রকৃত প্রমানাদি ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র যাচাই বাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত আসামিকে শনাক্তের আবেদন করেছি। একই সাথে দীনেশের দ্বিতীয় স্ত্রী বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গোবিন্দ চন্দ্র দাসের কন্যা অনিমা রানী দাস (৪০) প্রকত পরিচয় গোপন করার জন্য ১ জুলাই গৌরনদী মডেল থানায় মামলা দায়েরে জন্য আবেদন করেন দীনেশের প্রথম স্ত্রী সবিতা রানী দাস।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গৌরনদী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পিনাকী সিকদার বলেন, আসামির দেয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।