ইউক্রেনের শহরে শহরে খোঁড়া হচ্ছে গণকবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ইউক্রেনের কিছু জায়গায় রাশিয়া এতটাই বোমা হামলা চালিয়েছে যে, শহরগুলোতে নিহতদের গণকবর খুঁড়েই সমাহিত করতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

ইউক্রেনের বন্দরনগরী মারিওপোলে রুশ বাহিনীর ঘেরাওয়ের মধ্যে। শহরটির বাস্তবতা অনেকটাই প্রকট। এছাড়াও খারকিভ, চেরনিহিভসহ রাজধানী কিইভের কাছের কিছু শহরেও এখন অনেকটা কঠনি অবস্থা।

বিবিসি জানায়, ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মারিওপোল রাশিয়ার অবিরাম গোলাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে গত দুই সপ্তাহে তড়িঘড়ি খোঁড়া হয়েছে কয়েকটি কবর।

মারিওপোলের উপ-মেয়র ওরলভ বিবিসিকে বলেন, আমরা গোলায় নিহতদের ব্যক্তিগত কবরস্থানে দাফন করতে পারছি না। কারণ সেসব কবরস্থান নগরীর সীমানার বাইরে। সীমানা ঘিরে আছে রুশ বাহিনী।

রোববার (১৩ মার্চ) মারিওপোলের সিটি কাউন্সিল বলেন, নগরীটিতে বেসামরিক নাগরিক নিহত সংখা দুই হাজার ১০০ ছাড়িয়েছে। রাশিয়ার প্রচণ্ড গোলাবর্ষণের কারণে মরিওপোল থেকে কেউ বের হতে পারছে না। এমনকি মানুষজনকে সরাতে নিরাপদ জোন খোলার চেষ্টা করার পরও পরিস্থিতি একই আছে।

গণকবরে নিহত সংখ্যা কত হতে পারে, তা জানাতে পারেননি ওরলভ। তবে তিনি বলছেন, একটি কবরে ৬৭টি মরদেহ আছে। তাদের কয়েকজনকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না; তবে কয়েকজনের নথি আছে বলেও জানান ওরলভ।

তিনি বলেন, গোলা থেকে বাঁচতে নগরীর হাজার হাজার বাসিন্দা বাড়ির বেজমেন্টে লুকাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানুষ পরিবারের মারা যাওয়া সদস্যদের নিজস্বভাবেই বাড়ির উঠোনে কিংবা বাগানে কবর দিচ্ছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত নগরীগুলোর পৌর সেবা ভেঙে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাস্তা পরিষ্কার কিংবা মেরামতির কাজ যারা করেন, তারাই রাস্তা থেকে মরদেহ সংগ্রহ করছেন। আর এই কাজ করার সময় এই কর্মীদেরও কেউ কেউ মারা পড়ছে।

নগরীতে ১১ দিন ধরে নেই খাবার, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, কিংবা প্রচণ্ড ঠান্ডায় উষ্ণতার কোনো ব্যবস্থা, জানান উপ মেয়র ওরলভ।

রাজধানী কিয়েভের দ্বারপ্রান্তে চার মাইল উত্তরপশ্চিমের বুচা শহরে একটি গির্জার কাছে খোঁড়া হয়েছে গণকবর। স্থানীয় এক এমপি এ খবর জানিয়েছেন। সেই গণকবরে আছে ৬০ টিরও বেশি মরদেহ।