ঈদ আনন্দ নেই “যাদের” সংসারে

এইচএম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া(পটুয়াখালী)।।
ঈদ আর অন্য দিনের মধ্যে তারা কোনো পার্থক্য খুঁজে পায় না। শেষ হবে যে তারা ছেলে মেয়েদের নিয়ে ঈদের খুশি উপভোগ করেছে। তা ঠাহর করতে পারে না। প্রতিটি মানুষের কাছে ঈদ আনন্দের হলেও ওদের কাছে বেদনা বিধুর। বুক জেগে ওঠে নানা ব্যাথা। ঈদের দিনে ছেলে মেয়েদের নিয়ে নতুন জামা কাপড় পরা, সেমাই- লাচ্ছা খাওয়া ওরা ভুলেই গেছে। এসব এখন ওদের ভাগ্যে জোট না। পল্লী কবি লিখে ছিলেন, ” আসমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও , রহিমুদ্দির ছোট্র বাড়ী রসুলপুরে যাও।’ পল্লী কবি জসিমউদদীনের লেখা সেই কবিতার আসমানিদের চেয়েও হতদুর্ভাগা ভুমিহীন কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়ন এর চরচান্দুপাড়া অধিগ্রহনে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসন প্রকল্পের বসবাসরত গ্রামবাসী। অভাব অনটনের সংসারে ঈদের আনন্দ ওদের স্পর্শ করতে পারে না।

উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১০ কিঃমিঃ দুরত্বে পুর্ব দিকে চরচান্দুপাড়া বুড়িজালিয়া ও আবাসন প্রকল্পের বসবাসরত ৩ শতাদিক পরিবার। ক্ষুধা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে ওরা সংগ্রাম করে চলেছে দীর্ঘদিন ধরে। এখানকার বসতিদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকায় ওরা বিভিন্ন কাজ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। নতুন করে বাঁচার আকুতি ও আর্তনাদ এলাকার ভুমিহীন মানুষগুলোর। ভুমিহীন মানুষগুলোর মাথা গোঁজার ঠাই পেতে আশায় বুক বাঁধে। আবাসন প্রকল্পের বসবাসরত লোকজনের এলাকার কোনো কাজ কর্ম না থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় ও শহরে ছিটিয়ে পড়েছে জীবীকার তাগিদে। যাদের সংসারে কর্মক্ষম ব্যক্তি না থাকায় অনেকে বেঁচে নিয়েছেন ভিক্ষাবৃত্তি। এ সব পরিবারে নারী পুরুষেরা এখন সপ্তাহে তিন- চারদিন ভিক্ষা করে যা পায় তা দিয়ে কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটায়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, হৃদয় বিদারক দৃশ্য। ২০১৮-১৯ সালে উপজেলার লালুয়া ইউনিয়ন এর চরচান্দুপাড়া গ্রামে অধিগ্রহনের ক্ষতিগ্রস্থরা অদ্যবধি ক্ষতিপুরনের টাকা না পাওয়ায় এবং অনেকেই আবাসন প্রকল্পের আবাসস্থল না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। হাতে কাজ না থাকায় অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তির মত ঘৃনিত কাজ নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে।

চান্দুপাড়া গ্রামে ১০ জন মহিলা এখন ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। জয়ফুল (৫৬), রোজিনা বেগম (৩৫), বিধবা আকলিমা বেগম( ৫৩) এসব মহিলারা বেঁচে থাকার তাগিদে এক মুঠো ভাতের আশায় গ্রাম থেকে গ্রাম ভিক্ষাকরে বেড়ায়। সারাদিন বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে যা পায় তা দিয়ে কোনো মতে খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটায়। কারো পড়নে কাপড় নেই, কারো জামা নেই। কারো ছেলে মেয়েদের গায়ে জামা নেই। নিজস্ব সম্বল বলতে আছে একটি ভিক্ষার পুটলি।

চান্দুপাড়া গ্রামের জয়ফুলের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাবা আমাগো আবার ঈদ কি? ঘরে খাবার নেই,পরনে কাপড় নেই। ছেলে মেয়েদের খুশির দিনে না পারি ভাল একটা কাপড় চোপড় অথবা না পারি একটু ভাল খাবার বছরে একটা দিন খুশির ঈদ। ওই দিনটাতো মোদের একই রকম কাটে। এখন আমাগরে কাছে ঈদ আর অন্য দিনের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই না। ছেলে মেয়েরা হবে সেমাই – লুডুস খাইছিল তা তো মনেই পড়ে না।

আমেনা বেগম বলেন, সরকার আমাদের জমা জমি অধিগ্রহণ করে নিয়ে বসবাসের জন্য আবাসন প্রকল্প করে দিয়েছেন। কিন্তু এসব মানুষের কর্মমুখি কোনো ব্যবস্থা, কারিগরি ও স্বাবলম্বী মুলক শিক্ষা না দেয়ায় এসব প্রকল্পে বসবাসরত নারী পুরুষরা কেবল শারীরিক পরিশ্রমের ওপরই নির্ভরশীল। তাই বছরের নির্দিষ্ট কাজের পরে তারা বেকার থাকার কারনে বাধ্য হয়ে অন্য পেশায় নেমে পড়ে। আসছে ঈদ ওরা আমাদের মত মানুষ। সবার মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে ওরাও। হয়ত সমাজের কোনো দান শীল মহানুভব ব্যক্তির একটু সহযোগিতায় ওরা ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে অন্য সবার মতো। চর চান্দুপাড়া গ্রামের অসহায় মানুষের কান্না কোনো বৃত্তিবান ব্যক্তির হাতের ছোঁয়ায় ফিরে আসতে পারে ঈদ আনন্দ।

লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, সরকার অসহায় মানুষের জন্য ঈদ উপভোগ উপলক্ষে দশ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তা সঠিকভাবে বিতরন করা হয়েছে।