এ যেন হ্যাটট্রিকের বিশ্বকাপ!

স্পোর্টস ডেস্ক।।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে শুরুটা করেছিলেন ব্রেট লি। নিউল্যান্ডসে টানা তিন বলে একে একে প্যাভিলিয়নে ফেরান তিন বাংলাদেশি ব্যাটার সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও অলক কাপালিকে। এরপর পাঁচ আসর কেটে গেলেও কোনো বোলারই হ্যাটট্রিকের দেখা পাননি। তবে চলতি আসরের সেই আক্ষেপ ঘোচান আইরিশ বোলার কার্টিস ক্যামফার।

সুপার টুয়েলভ পর্ব শেষ হওয়ার আগে দেখা মিললো আরও দুই হ্যাটট্রিকম্যানের। অথচ বিশ্বকাপের ছয় আসর মিলিয়ে যেখানে হ্যাটট্রিকের সংখ্যা ছিল একটি, সেখানে এই আসরই কিনা দেখে ফেললো তিন তিনটি হ্যাটট্রিক। এ যেন হ্যাটট্রিকেরই বিশ্বকাপ! ক্যামফারের বাকি দুই সঙ্গী শ্রীলঙ্কার ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদা।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় খেলেও জাতীয় দলে খেলার ভরসা পাচ্ছিলেন না ক্যামফার। তাই হাতে থাকা আইরিশ পাসপোর্টটাকেই নিজের ভবিষ্যত হিসেবে বেছে নেন এই পেসার। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে গত আগস্টেই। তিন মাস পর বিশ্বকাপে এসে করে ফেলেন অভিনব কীর্তি।

প্রথম রাউন্ডে আবুধাবিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইনিংসের দশম ওভারে তুলে নেন চার বলে চার উইকেট। কলিন অ্যাকারম্যানকে দিয়ে শুরু। এরপর রায়ান টেন ডেসকাট, স্কট এডওয়ার্ডস ও ভ্যান ডার মারউইকে ফিরিয়ে পূরণ করেন ডাবল হ্যাটট্রিক।

বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক আসতে ১৪ বছর সময় লাগলেও তৃতীয় হ্যাটট্রিক এসেছে মাত্র ১২ দিন পরই। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করে আসছেন হাসারাঙ্গা। লেগ স্পিন ও চতুর গুগলিতে বোকা বানিয়েছেন ব্যাটারদের। দল বিদায় নিলেও ৮ ম্যাচে ১৬ উইকেট নিয়ে এখনো আসরের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি।

দুর্দান্ত এই টুর্নামেন্টে শারজায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিককে নিশ্চয়ই উপরে রাখবেন হাসারাঙ্গা। নিজের তৃতীয় ওভারের শেষ বলে স্টাম্প উড়িয়ে দিয়েছিলেন এইডেন মারক্রামের। শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে টেম্বা বাভুমা ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে ফিরিয়ে পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে সেই হ্যাটট্রিকও লঙ্কানদের জয় এনে দিতে পারেনি।

একই ঘটনা ঘটেছে কাগিসো রাবাদার সঙ্গেও। রবিবার (০৭ নভেম্বর) শারজায় নিজের তৃতীয় ওভারে টানা তিন ছক্কা খেয়েছেন লিয়াম লিভিংস্টোনের কাছে। এর মধ্যে একটি ছিল আসরের সবচেয়ে বড় ছয় (১১২ মিটার) লম্বা। কিন্তু নিজের ও দলের শেষ ওভারে বল করতে এসেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখলেন রাবাদা।

ক্রিস ওকস, ইয়ন মরগান ও ক্রিস জর্ডানকে তুলে নিয়ে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ও নিশ্চিত করেন। কিন্তু সেই জয় প্রোটিয়াদের সেমিফাইনালে নিতে যথেষ্ট ছিল না।

চলতি আসরে হ্যাটট্রিকে ধারার এটাই যে শেষ সেটা বলা যাচ্ছে না। কেননা এখনো সুপার টুয়েলভের দুটি, দুটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ বাকি আছে। ক্রিকেট যেহেতু গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা, তাই চলতি আসরে হ্যাটট্রিকের সংখ্যাটা আরও বৃদ্ধি পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

টি-২০ বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক:

বোলার দল প্রতিপক্ষ আসর-

ব্রেট লি অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ ২০০৭
কার্টিস ক্যামফার আয়ারল্যান্ড নেদারল্যান্ডস ২০২১
ভানিন্দু হাসারাঙ্গা শ্রীলঙ্কা দক্ষিণ আফ্রিকা ২০২১
কাগিসো রাবাদা দক্সিণ আফ্রিকা ইংল্যান্ড ২০২১