কলাপাড়ার সাবরেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অবমাননার অভিযোগ

কুয়াকাটা প্রতিনিধি॥
পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতের স্থিতি আদেশ এবং সকল প্রকার দলিল সম্পাদনে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিন লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে কলাপাড়ার সাবরেজিস্ট্রার এক মুক্তিযোদ্ধার প্রায় দুই একর জমি অবৈধভাবে সাবকবলা দলিল সম্পাদন করে দিয়েছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার পক্ষে কলাপাড়ার ওই সাবরেজিস্ট্রার নজরুল ইসলামের এমন ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মহিপুর প্রেসক্লাবে রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুস সত্তার ফরাজী।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে সত্তার ফরাজী বলেন, জেএল ৩৪, লতাচাপলী মৌজা, এসএ খতিয়ান ৯৮৯, দাগ নং ৯৬৪, আলীপুর মৌজা ১০২১, ১১০৬, ১১০৭ নং বিএস খতিয়ানভূক্ত আমাদের জমির মধ্যে নানাভাবে দখল নিতে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমল থেকে চেষ্টা চালায় একটি চক্র। ওই চক্রের নেতৃত্বে থাকা লতাচাপলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান এতদিন সেই সুযোগ না পেলেও করোনা আতঙ্কে মানুষ যখন ঘরবন্দি সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে আমাদের প্রায় ছয় একর জমির অবৈধ দখল নিয়েছে। এই জমি বর্তমানে পটুয়াখালী যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক কর্তৃক স্থিতি আদেশ জারি রয়েছে। একই সাথে এই জমি সাবকবলা দলিল, হস্তান্তর দলিল, বেচা বিক্রি সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি না করার আদেশ বিদ্যমান রয়েছে। এব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে কলাপাড়া সাব রেজিস্ট্রারের ওপর দলিল সম্পাদনে নিষেধ থাকার পরেও আমরা এসব বিষয় উল্লেখ করে তার কাছে লিখিত আবেদন করি।

এর প্রেক্ষিতে সাবরেজিস্ট্রার গত ১১ জুন ২২০ নং স্মারকে পটুয়াখালী জেলা জজ ১ম আদালতের সরকারী কৌসুলী (জিপি) অ্যাডভোকেট এম. শাহাবুদ্দিনের নিকট লিখিত মতামত চেয়েছেন তিনি। বিজ্ঞ কৌসুলী আইনজীবী সুস্পষ্টভাবে ওই জমি সাবকবলা দলিল, হস্তান্তর দলিল, বেচা বিক্রি সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি না করার পরামর্শ দিয়েছেন তাকে। কিন্তু বিজ্ঞ জেলা জজ ১ম আদালতের এবং সরকারী কৌসুলীর (জিপি) নির্দেশনা ও মতামত উপেক্ষা করে কলাপাড়া সাবরেজিস্ট্রার মোঃ নজরুল ইসলাম তিন লক্ষাধিক টাকা ঘুষ নিয়ে গত ১৬ জুলাই প্রায় দুই একর জমির দলিল রেজিস্ট্রি সম্পাদন করেছেন। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সত্তার ফরাজী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনের সময় ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এবং মহিপুর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।