কলাপাড়ায় অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো বেহাল, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সড়কসহ ৩৭কিলোমিটার গ্রামীণ অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারনে উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগে দুই লক্ষ উনপঞ্চশ হাজার তিনশত আটাশি জন মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে গর্ভবর্তী মা, শিশু, বয়স্ক মানুষ ও রোগীদের জন্য চলাচল খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িছে। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করতে যাত্রীদের নাভিশ্বাস উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তা গুলো সংস্কার না হওয়ায় এলাকাবাসী এখন ক্ষুব্ধ। রাস্তার নাজুক অবস্থার কারনে এসব সড়কে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের(এলজিইড)তথ্য মতে, উপজেলা পাটুয়াহাট ধানখালী কলেজ ২.২৩০কিলোমিটার, মহিপুর নিজামপুর তালতলী খেয়াঘাট ৪.৫০০কিলেমিটার, চাপলীবাজার আলীপুরবাজার ১১.৯৫কিলোমিটার, বানাতীবাজার উওর লালুয়া লোন্দাঘাট ৫.৫৫০কিলোমিটার, লালুয়া ধানখালী উওর লালুয়ার বাজার ২.৫০০কি.মি. তারিকাটা নিশানবাড়ীয়া গামরবুনিয়া ৬.৫০০কি.মি. মধ্য টিয়াখালীর বাজার ৪.২০০কিলোমিটার সড়কগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক।

এছাড়া ড্রেনেজ সমস্যার কারনে পানি জমে কিছু কিছু সড়কেও একই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিন এলজিইডির অভ্যন্তরীন কয়েকটি রাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কগুলো চলাচলের একবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন অবস্থা আরো খারাপ হচ্ছে। মুল রাস্তার মাটি দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে স্থানে। উপজেলার চাপলীবাজার-আলীপুর সড়কের অবস্থা বেহাল থাকায় ভোগান্তি শিকার হচ্ছেন কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকসহ হাজার হাজার পথচারী। গাড়ির চাকা পাঙ্কচার হয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে অনেক পর্যটককে। এই ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে পর্যটন এলাকা গঙ্গমতি, মিশ্রিপাড়া, কুয়াকাটা এলাকাগুলো ঘুরতে গিয়ে তারা বিড়ম্বনায় পড়েন।

এছাড়া মহিপুর আলীপুর মৎস্য আড়তে গঙ্গামতির জেলেবহর থেকে চলে আসে সামুদ্রিক মাছের বড় চালান। এসব সড়কে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড়খানাখন্দে সৃষ্টি হয়েছে। চাপলীবাজার থেকে আলীপুর পর্যন্ত ১১.৯৫কিলোমিটার রাস্তার ৪টি স্লুইজ করার কারনে পর্যটক ও সাধারন মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অন্য স্থানের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করা গেলেও এ রাস্তার দিয়ে চলাচল করতে দুর্ভোগের শেষ নেই। বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমায় অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।

পাটুয়াহাট-ধানখালী কলেজ পর্যন্ত ২.২৩০কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা একেবারেই বেহাল। ভালো করে এই সড়কে গাড়ি চালানো যায় না। রাস্তাটি খানাখন্দ বেশি থাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকা বাসি। বানাতি বাজার থেকে উওর লালুয়া পর্যন্ত ৫.৫৫০কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা বর্ননাতীত। এ রাস্তার ইট ও খোয়া উঠে গিয়ে এটি মাটির রাস্তায় পরিনত হয়েছে। কাদা মাটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। এটি যে পাকা রাস্তা ছিল তার কোনো চেনার উপায় নেই। ওই রাস্তাটি এলাকার লোকজনকে বাজারে আসতে কষ্টের শেষ থাকনো। এলাকা কৃষকের উৎপাদিত সবজি ও কৃষিপন্য বাজারে নিয়ে আসতে পারে না এজন্য উৎপাতিত পন্য কমে দামে গ্রামে বিক্রি করতে হয়। মহিপুর নিজামপুর তালতলী খেয়াঘাট ৪.৫০০কিলেমিটার রাস্তায় দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে ইটের খোয়া অনেক জায়গা নেই। ওই রাস্তায় যাওয়া আসা জন্য নৌবাহিনী কোস্টগার্ড অফিস থাকার কারনে বর্ষার দিনে কাদা মাটি পানি একাকার হয়ে যায় এজন্য ইট বিছিয়ে চলাচল করে।

লালুয়ার বাজার ঔষধ ব্যবসায়ী রেদওয়ান জানান, লালুয়ার বাজার এ রাস্তাটি রাস্তা বলে চিহৃ করা কঠিন হয়ে গেছে। মুল রাস্তার পাকা অংশ ভেঙ্গে গিয়ে মাটি বেরিয়ে পড়েছে। রাস্তা সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

লক্ষীবাজার স্থানীয় ফয়সাল জানান, চাপলীবাজার থেকে আলীপুর বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘ দিন মেরামতের অভাবে আমাদের কয়েকটি গ্রামে লোকদের আলীপুর বাজারের সাথে চলাচলা করতে যেনো দুর্ভোগের শেষ নেই। তাই উর্ধ্বন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ যাতাতে রাস্তাটি দ্রুত গতিতে সংস্কার করে।

কলাপাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মহর আলী জানান, যে রাস্তা গুলো চলাচলের জন্য অনুপযোগী ওই রাস্তা গুলো সংস্কারের জন্য উর্ধ্বন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুমোদন হয়ে আসলে টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।