কলাপাড়ায় কিছুতেই থামছে না আন্ধারমানিক নদীর দখল দৌরাত্ম

কলাপাড়া প্রতিনিধি, পটুয়াখালী।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ইলিশের অভয়াশ্রম আন্ধারমানিক নদীর দখল-দূষণ কোন কিছুতেই থামছে না। প্রশাসনের নজর না থাকার কারণে আন্ধারমানিক নদীর জোয়ারের প্লাবনভূমিসহ তীর দখল করে তোলা হচ্ছে স্থাপনা। ভূমি প্রশাসন মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট করে বিভিন্ন ধরনের দখলদাররা তাদের দখল দৌরাত্ম্য বন্ধ করছেনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কলাপাড়া পৌরসভা এলাকায় সবচেয়ে বেশি দখল দৌরাত্ম্য চলছে। আন্ধারমানিক নদীতীর দখল করে কেউ স্থাপনা তুলছে। কেউ গাইড ওয়াল করে দখলদারিত্ব চালাচ্ছেন। আর দূষণ তো নিত্য ঘটনা। বাজারের দোকানি থেকে শুরু করে খোদ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত আন্ধারমানিক নদীতে বর্জ্য ফেলছে। পৌরসভা যদিও নাচনাপাড়া এলাকায় একটি ডাম্পিং এলাকা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে আন্ধারমানিক নদীতীরের জোয়ারের প্লাবন জমিতে নজর পড়েছে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের।নদীর দক্ষিণ তীরে এমন অবস্থা দেখা গেছে। ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীটি সাগরের সঙ্গে মিলেছে। সাগর থেকে উঠে অপর প্রান্ত রাবনাবাদ নদীর সঙ্গে মিশেছে। এ নদীটি রক্ষা না হলে নদীকেন্দ্রীক জীবন-জীবিকা, নদীকেন্দ্রীক সভ্যতা সব নষ্ট হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা এই নদীটি রক্ষায় বহু দফা মানববন্ধন সমাবেশ করেছেন। কিন্তু দখল দৌরাত্ম্য কিছুতেই থামছেনা। পরিবেশকর্মীরা নদীতীরের ইটভাঁটি অপসারণের দাবি তুলেছেন। এছাড়া নদীর জেগে ওঠা চরভূমি বন বিভাগের কাছে ন্যস্ত করার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। যদিও বন বিভাগ জেগে ওঠা চরভূমিতে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির বনায়নের চারা রোপণ করেছে। কিন্তু দখলদারিত্বের কারণে খোদ নদীটির অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। নদীর সঙ্গে রয়েছে দুই পাড়ে অসংখ্য স্লইস সংযুক্ত খাল। এ নদীটি এ কারণে কৃষি কাজের জন্য খুবই গুরুত্ব বহন করে আসছে।

কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই একই কথা বলছে। তারা বহু আগেই নদীতীরের স্থাপনা অপসারণের একটি তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়েছে। উচ্ছেদ অভিযান যে কোন সময় শুরু করা হতে পারে।