কলাপাড়ায় কয়েকটি সড়কের বেহাল দশা, দুর্ভোগে পৌরবাসী

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
দীর্ঘ দিন সংস্কারের অভাবে পৌরসভার কয়েকটি গুরুত্বপুর্ন সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। শহরের এসব সড়ক এখন চলাচলের অযোগ্য ও মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। ফলে পৌরবাসী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া পৌরসভার যাত্রা শুরু ১ লা মার্চ ১৯৯৭ সালে। ৯টি ওর্য়াড নিয়ে গঠিত পৌরসভার আয়তন ৩.৭৫ বর্গ কিলোমিটার। বর্তমান জনসংখ্যা ১৯৭৮২.০০জন(২০১১সালের আদম শুমারী অনুযায়ী পুরুষ-৯৯৪৪.০০জন ও মহিলা ৯৮৩৮.০০জন। ভোটার ১২ হাজার আটশত একানব্বই জন। ২০১৫ সালে পৌরসভাটি প্রথম শ্রেনির মর্যদা লাভ করে।

কলাপাড়া পৌর এলাকায় পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত পাকা সড়ক রয়েছে ২৬.০০কি.মি. ও কাঁচা সড়ক রয়েছে ৬.০০ কি.মি. এবং ইটের সড়ক রয়েছে ১৬ কি.মি। পৌরসভার রাস্তা গুলো এমনিতেই সরু, তার ওপর ফুটপাথ দখল এ সমস্যাকে আরো প্রকট করে তুলেছে। তাছাড়া ভাঙ্গা চোরা ও কর্দমাক্ত রাস্তায় হেঁটে চলাও দায়। পৌরসভা নিয়ন্ত্রিত শহরের বানিজ্যিক ও গুরুত্বপুর্ন এলাকার কয়েকটি সড়ক বর্তমানে রিকশা ও যানবাহন চলাচলের সম্পুর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, পৌরশহরের অন্তত চার কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। শহরের প্রধান সদর সড়কসহ পৌরসভা’র সামনের সড়ক, উপজেলা সড়ক, রহতপুর সড়ক, এতিমখানা সড়ক, থানার সামনের সড়ক, হাই স্কুলের পেছনের সড়ক, রাডারের পিছনের সড়ক, খাদ্য গোদামের প্রবেশ দ্বারের সড়কটি অবস্থা অত্যন্ত করুন। দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কার না করায় এসব সড়কের কারপেটিং ও সিলকোট ওঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক কাদাজলে একাকার হয়ে যায়। বৃষ্টি হলেই পানি জমে এই সড়কগুলোতে। এর ফলে প্রায়শই যানবাহন এদিকে ছয় চাক্কার ট্রলিগুলো পৌরশহরের দেদারছে চলাচল করায় এ সড়কগুলো এমন দশা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের চরমদুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিনিয়তই যাত্রীবাহী রিকশা, অটোসহ বিভিন্ন যানবাহন দূর্ঘটনার কবলে পতিত হচ্ছে। এতিমখানা সড়ক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভাঙ্গচোরা এ রাস্তার জন্য আমাদের যে কষ্ট করতে হয় তা বলার বাইরে। ভাঙ্গাচোরা কারনে রিকশা আসতে চায় না। ফলে রিকশা ভাড়া গুনতে হয় দ্বিগুন। পৌর শহরের রিকশা চালক খালেক জানান, কলাপাড়ায় বেশ কয়েকটি ব্রিকফিল্ট রয়েছে এসব ব্রিকফিল্ট থেকে ইট ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে ইট বোঝাই করে শহরের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করার কারনে অল্পতে সড়ক গুলো এ অবস্থায় পরিনতি হয়। এখন আমাদের রিকশা চালাতে খুবই কষ্ট হয়। এতে গাড়ির চাকা পাঙ্কচার হয়ে বিপাকে পড়তে হয় আমাদেরকে। অনেক সময় রিকশা উল্টে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে অনেকে। ভাই কি করার আছে পেটে দায়ে আমাগো এই রিকশা চালাইয়া পেট বাঁচাতে হবে।

সরকারি খাদ্য গুদাম সড়কটি মাত্র দু’শ মিটার সড়কের দুর্দশা গত এক দশকেও কাটেনি। অথচ উপজেলার প্রধানতম সরকারি খাদ্য গুদাম সড়কটি। প্রতি মাসে কোনো না কোনা সরকারিভাবে বরাদ্ধ ভিজিএফ চাল, জেলেদের চাল, খাদ্যবান্ধব ডিলারের চাল ও কৃষকের কাছ ধান কেনাসহ বছরে অনুমানিক প্রায় ১৭ হাজার ২৯৩ মেট্রিকটন ধান-চাল ওঠা নামা করে ওই রাস্তা দিয়ে। কিন্তু খাদ্য গোদামের প্রবেশ দ্বারের সড়কটি ও জেটি দুরাবস্থার কারনে এ এলাকার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ ও দু’টি পৌরসভা চাল নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংস্কারের অভাবে সড়কেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দ আর গর্তে ভরা সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই টম টম চাকা পিষ্ট হয়ে যায়। খাদ্য গোদামে চাল নেয়ার টমটম চালক মো.জলিল হাওলাদার, হানিফ গাজী জানান, জাহাজ থেকে ধান/চাল উক্তোলন করতে দুর্ভোগের শেষ নেই। জেটি ও রাস্তা ভাল না থাকায় জাহাজ থেকে বস্তা মাথায় নিয়ে জেটিতে উঠতে হয় কিন্তু জেটি থেকে মনে হয় বস্তা নিয়ে হয় পড়ে যাবে। আর রাস্তা খারাপের কারনে টম টম চালাতে আমাদের কষ্টের শেষ থাকেনা। ইটের খোয়া কারনে আমাদের টমটম প্রায় নষ্ট হয়ে যায়।

লেবার সরদার মো. আবুল কালাম(কালাম সরদার) জানান, রাস্তাটি জরুরি ভিক্তিতে মেরামত করার দরকার। চালের বস্তা নিয়ে শ্রমিকদের জাহাজ থেকে উক্তোলন করতে খুবই কষ্ট হয়। ইটের খোয়া কারনে তাদের টমটম প্রায় নষ্ট হয়ে যায়।
কলাপাড়া পৌরসভা নির্বাহী প্রকৌশলী ধ্রুব লাল তক্ত বনিক জানান, আমরা সড়কগুলো চাহিদা গুলো উর্ধ্বথন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে ট্রেন্ডারে মাধ্যমে কাজগুলো করা হবে।

কলাপাড়া পৌর মেয়র বিপুল চন্দ্র হাওলাদার জানান, অধিকাংশ সড়ক মেরামত করা হয়েছে। এখন সিসির বদলে আরসিসি করা হচ্ছে। গত ছয় মাসে ১০-১২ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক করা হয়েছে। ভাঙ্গা সকল সড়ক দ্রুত আরসিসিকরন সহ মেরামত করা হবে।