কলাপাড়ায় খালে বাঁধ, নষ্ট হচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

এইচএম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালীয়াতলী ইউনিয়নের বালীয়তলী এলাকায় খালে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে মাছ চাষ করায় প্রায় ৪০ একর জমির তরমুজ চারা নষ্ট হচ্ছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে দেখা দিয়েছে তিব্র পানির সংকট। চেখের সামনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন। পানির অভাবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তরমুজ চাষীরা। ফলে প্রায় ৪০ একর জমিতে তরমুজ চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ওই খালটি স্থানীয় প্রভাবশালী কাশেম ও নাসির নামের দুই ব্যক্তি লিজ নিয়ে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। তাই ওই খাল থেকে পানি সংগ্রহে কৃষকদের বাঁধা দিচ্ছেন তারা। বর্তমানে পানির অভাবে মরে যাচ্ছে রোপনকৃত তরমুজ চারা।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষক হাবিবুল্লাহ প্যাদা বলেন, পানির অভাবে জমি সেচ দিতে না পারায় তরমুজ গাছ ক্রমশই শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই কথা বলেছেন কৃষক আনোয়ার, জলিল মাতুব্বর, খলিল হাওলাদারসহ আরো অনেকে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের বড় বালিয়াতলী গ্রামের হাক্কার খাল থেকে পানি সংগ্রহ করে যুগ যুগ ধরে শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন কৃষি পন্য উৎপাদন করে আসছি। কিন্তু ওই খালটি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বন্দোবস্ত নিয়ে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছেন। তাই ওই খাল থেকে পানি সংগ্রহ করতে গেলে বাধা দিচ্ছেন তারা। বাঁধ দেওয়ার ফলে বড় বালীয়াতলী গ্রামে হাক্কার খাল মাছ চাষ করে। কৃষকেরা তরমুজ চাষিরা সেচ দিতে পারছেন না।

কৃষকরা জানায়, হাক্কার খাল বছরের পর বছর আমরা ধান থেকে শুরু করে রবিশষ্য ও শুকানো মৌসুমে তরমুজ গাছে পানি দিয়ে আসছি। কিন্তু প্রভাবশালী কাশেম ও নাসির লিজ নিয়ে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। তাই ওই খাল থেকে পানি সংগ্রহে কৃষকদের বাঁধা দিচ্ছেন। বর্তমানে পানির অভাবে মরে যাচ্ছে রোপনকৃত তরমুজ চারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, কৃষকদের পানির অভাবের বিষয়টি শুনেছি। তারা যাতে পানি ব্যবহার করতে পারেন সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য বলেন, এ বিষয়ে কৃষকরা তার কাছে এসে ছিলেন। ইতো মধ্যে তহসিলদারে মাধ্যমে বলা হয়েছে- পানি সেচের জন্য কোন ধরনের বাধা সৃষ্টি যেন না হয়।