কলাপাড়ায় জন্ম নিবন্ধনে সীমাহীন ভোগান্তি

এইচ,এম, হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) ।।
অনলাইনে জন্মনিবন্ধন ফরম বাংলা ভার্ষণ থেকে ইংরেজি ভার্ষণ করতে করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় ভোগান্তি শিকার হচ্ছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলাবাসী। নিবন্ধন জটিলতায় পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রেগুলোতে নিয়মিত ভিড় লেগে আছে। ভুল সংশোধন ও নতুন করে জন্মনিবন্ধন সনদ পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত পুরনে বেগ পেতে হচ্ছে ও তিন থেকে পাঁচ শ’ ও যে জন্ম নিবন্ধনে বেশি সমস্যা তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে অভিভাবকদের।

জন্ম নিবন্ধন হলো জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা এবং স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান এবং জন্ম সনদ প্রদান করা।

এক কথায় বলতে গেলে, একটি শিশু জন্মের পর সরকারি খাতায় নাম যুক্ত করাকেই বলা হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন। আর জন্ম সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে যে সনদে, তাকে বলা হচ্ছে জন্ম সনদ।

আগে মা -বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়েই পরিবারের অন্যদের জন্ম নিবন্ধন করা যেত। কিন্তু এ বছর থেকে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। এ কারনে উপজেলার বিভিন্ন কম্পিউটারের দোকানে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন ফরম বাংলা ভার্ষণ থেকে ইংরেজি ভার্ষণ করতে দেখা গেছে। যাদের নামে কোনো রকম একটি শব্দ ভুল হয়েছে তাদেরকে অনলাইনের মাধ্যমে ভুল সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের দফতরে যেতে হয়। ইউনিয় পরিষদ গুলো জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধনের জন্য তিন থেকে পাঁচ শ’ ও যে জন্ম নিবন্ধনে বেশি সমস্যা তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করে নিচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ গুলো। যেখানে সরকার নির্ধারিত জন্ম সনদ ফি ৫০টাকা।

এক কম্পিউটারের দোকানদার অনলাইনে জন্মনিবন্ধন কাজ করেন কলাপাড়া পৌর শহরে তিনি জানান, অনলাইনে আবেদন করা পর্যন্ত কোন সমস্যা নাই। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় জমা দিতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সম্মুখীন হয় অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয় যেমন-ডাক্তারের প্রত্যয়ন পত্র। বয়স ভুল থাকলে সরকারি ডকুমেন্ট থাকা সত্বেও যেমন-এন আইডি কার্ড, সার্টিফিকেট থাকা সত্বেও বয়সে ভুল থাকলে ও ইউনিয়ন পরিষদ গরিমসি করেন কিন্তু অনেকেই তা বিশেষ উপায় সমপুর্ন করতে পারে। কিন্তু সভার পক্ষে তা সম্ভব না হওয়া তার জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি একই ব্যক্তি আলদা বয়স থেকে যাচ্ছে। এ নিয়ে পরবর্তীতে আবার নিশ্চিতভাবে ভোগান্তিতে পড়বেন।

তিনি আরো বলেন, পৌরসভার সঠিক কাগজপত্র পেলে একটু সময় বেশি লাগলেও সমস্যা সমাধান হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, সন্ত্রানের জন্মসনদ সংগ্রহের জন্য বেশি ভোগান্তি পড়েছেন বাবা ও মায়েরা। কেননা ছেলে বা মেয়ের জন্মসনদের আবেদন করলে সেখানে থেকে বলা হচ্ছে সন্ত্রানের জন্মসনদ নেয়ার জন্য আগে বাবা ও মা দু’জনেরই ডিজিটাল জন্মসনদের কপি বা নিবন্ধন লাগবে। আবার বাবা ও মায়ের জন্মসনদের জন্য আবেদন করা হলে তাদের বাবা মা অর্থা? দাদা দাদী-নানা নানীর জন্মসনদও চাওয়া হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে দাদা দাদী বা নানা নানী কেউ মারা গেলে তাদের মৃত্যু সনদও জমা দিতে বলা হয়েছে।

এক ভুক্তভোগী অভিভাবক ফেইজবুকে জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে ভোগান্তি শিকার হয়ে লিখেছেন সন্ত্রান জন্ম দিতে যে কষ্ট তার চেয়েও বেশি কষ্ট হয় জন্ম নিবন্ধন করতে গিয়ে।

এক জন শিক্ষক বলেন ,স্কুলে ভর্তির জন্য আমার মেয়ের জন্ম সনদের জন্য আবেদন করার পর কর্তৃপক্ষ তার জন্ম সনদ চেয়েছিলেন। আমি আমার জন্মসনদের জন্য আবেদন করেছিলাম , তারা আমার বাবা -মায়ের জন্ম সনদের নর চেয়েছিল। আমার বাবা মা অনেক আগেই মারা গেছেন এবং তাদের জন্ম সনদও ছিল না। এর পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিশেষ উপায় সমপুর্ন করতে হয়।

জন্ম নিবন্ধন করতে ইউনিয়ন পরিষদে আসা বেশ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন , নির্ধারিত ফি আদায়ের কয়েকগুন ফি আদায় করছে। সরকারি নির্দেশনা মানছে না ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা। কয়েকগুন বেশি টাকা নিয়েও সময় মতো জন্মনিবন্ধন পত্র পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের। এমনকি তাদের কাছ থেকে তিন থেকে পাঁচ শ’ ও যে জন্ম নিবন্ধনে বেশি সমস্যা তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা আদায় করে নিচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ গুলো। যেখানে সরকার নির্ধারিত জন্ম সনদ ফি ৫০টাকা।

ইউনিয়ন পরিষদের এক সচিব জানান, বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট ইংরেজিতে থাকলে সন্ত্রান ইংরেজিতে জন্মসনদ পাবে। বাবা-মায়ের সার্টিফিকেট বাংলায় হলে সন্ত্রানের সার্টিফিকেটও বাংলায় হবে। কিন্তু দু’টি সার্টিফিকেট ভিন্ন ভাষায় হয়, তাহলে তারা তাদের সন্তানের জন্মসনদের জন্য আবেদন করতে পারবেনা। অভিভাবকদের অবশ্যই একই ভাষায় সার্টিফিকেট হতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন ভুল হওয়া এক ভুক্তভোগী তার ছেলের জন্ম নিবন্ধন তারিখ ভুল হওয়া এক জন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব থেকে চেয়ারম্যান পর্যন্ত বলা হলে আজও পর্যন্ত তার ছেলের জন্ম নিবন্ধন কাগজটি ঠিক করতে পারেনি। চেয়ারম্যান নিজে বলেন ওই কাগজ ঠিক করা যাবেনা। কারন তার বাবা-মায়ের নাম অনলাইনে নাম আছে ঠিক করতে গেলে ওই নাম অনলাইনে ভেসে আসে। তা হলে ওই ভুক্তভোগী কি করবে। কিন্তু নাম ভুল হলে সংশোধনের নিয়ম আছে। সে ভুল বুঝিয়ে ওই ভোক্তভোগী পাঠিয়ে দেন। তা হলে তার ছেলের জন্ম নিবন্ধন তারিখ কিভাবে ঠিক করবে। ভুল সংশোধন করে ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকেই জন্ম নিবন্ধন সনদ সঠিকভাবে গ্রহন করা হয়।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন , আমি ও শুনতে পেরেছি যে, জন্ম নিবন্ধনে অনেক টাকা নেয়া হয়। কিন্তু কোন ইউনিয়নে কোন লোকের কাছে নেয়া হয় তার প্রমান পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।