কলাপাড়ায় ঝুঁকির মধ্যে ৩ লাখ মানুষের বসবাস

এইচ এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত পরিমানে আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় ৩ লক্ষাধীক মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। সর্বশেষ ঘূর্নিঝড় সিত্রাং ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ খোলা আকাশের নীচে বেঁড়ি বাঁধের রাস্তার উপর ঝুঁপড়ি ঘরে পরিবার নিয়ে মানবতার জীবন যাপন করছেন। বিভিন্ন সময় উপজেলায় আঘাত আঘাত হানে ঝড় জলোচ্ছ্বাস, প্লাবিত হয়ে পড়ে বিস্তৃত এলাকা চারপাশে নদীবেষ্টিত ওয়াপদা বেড়িবাঁধগুলো দীর্ঘদিন যাবত মেরামতের অভাবে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বর্ষা মৌসুমে লোনা পানি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি করে।

উপজেলায় ২ টি পৌরসভা ও ১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ এর মধ্যে ১২৬টি ওয়ার্ডে বসবাসরত মানুষগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বেড়িবাঁধগুলো। উপজেলাতে প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের বসবাস রয়েছে। সেখানে ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং সময়ে হিসেব অনুযায়ী কলাপাড়া উপজেলায় ১৭০টি শিক্ষা প্রতষ্ঠান কাম আশ্রয় কেন্দ্র ও মুজিব কেল্লা ১৯টি। সর্বমোট ১৮৯ টি আশ্রয় কেন্দ্র থাকলেও উপজেলার মানুষের জন্য একেবারে অপ্রতুল। আশ্রয় কেন্দ্রগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ঘুর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের বিপদ সংকেত দেয়া হলে আশ্রয় কেন্দ্রলো অনেক সময় তালাবদ্ধ থাকায় সাধারন মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া অধিকাংশ আশ্রয় কেন্দ্র গুলোর বিভিন্ন স্হানে ফাটল ধরছে এবং দরজা জানালা ভেঙ্গে গেছে। অনেক আশ্রয় কেন্দ্রে পানি বিদ্যুৎ শৌচাগার নেই বলেই চলে। প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রের ধারন ক্ষমতা ২০০ জনের অধিক তাতে দুর্যোগের সময় প্রায় দু’লক্ষ মানুষ নিরাপদ আশ্রয় থাকতে পারবে বাকী লক্ষাধীক মানুষ অরক্ষিত থেকে যায়। ১৮৯ টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ ব্যবহারে অনুপযোগী এবং ঝুঁকি পুর্ন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবত আশ্রয় কেন্দ্র গুলো সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী উপজেলায় আরও আশ্রয় কেন্দ্র প্রয়োজন বলে স্থানীয়দের দাবী। এ উপজেলায় আরো ও সাইক্লোন সেল্টার নির্মান ও নতুন শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলো সাইক্লোন সেল্টারের আদলে নির্মান করা হলে দুর্যোগের সময় কলাপাড়া উপজেলা হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয় গ্রহন করতে পারবেন।

উপজেলার ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, ঘুর্ণিঝড় মোচা মোকাবেলায় আমরা সকল প্রকার প্রস্তুতি গ্রহন করে উপজেলার সকল সিপিপি সদস্যদেরকে প্রস্তুতি থাকার নির্দেশ দিয়ে দুর্যোগ মুর্হুতের পুর্বেই জনসাধারণকে সর্তক করন ও প্রচারণা জন্য বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ঘুর্নিঝড় মোচা মোকাবেলার জন্য নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড সদস্য, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও ঘুর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির কর্মকর্তাদের সম্বনয়ে সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।