কলাপাড়ায় নৌ-পুলিশের পিটুনীতে জেলে মৃত্যুর অভিযোগ

কুয়াকাটা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী॥
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের নির্যাতনে সুজন চৌকিদার (৩০) নামে এক জেলে মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে এগারটায় চর বালিয়াতলীর ডোশ এলাকার এ ঘটনা ঘটেছে। এসময় উত্তেজিত স্থানীয়রা লালুয়া নৌ-পুলিশ ফাড়িঁর এএসআই মামুনসহ চার সদস্যকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে নৌ-পুলিশের ২ সদস্য ও তাদের বহনকারী ট্রলারের মাঝিসহ ৩ জন আহত হয়েছে। পুলিশের দাবি সুজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সুজন ওই এলাকার আ. সত্তার হাওলাদারের পুত্র।

পরিস্থিতি সামাল দিতে কলাপাড়া ও মহিপুর থানা থেকে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থলে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক এবং পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহম্মেদ পৌঁছান। এসময় তারা উত্তেজিত লোকজনকে নিভৃত করতে নানা রকম আশ্বাস দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। পরে দোষিদের শাস্তি প্রদানের আশ^াসে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

সুজনের সাথে থাকা জেলেরা জানায়, বেলা সাড়ে এগারটায় চর বালিয়াতলী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের প্রথম বয়ার কাছে ট্রলার নিয়ে মাছ ধরার সময় লালুয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ট্রলারটি তাদের ধাওয়া করে। নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে মাছ শিকার করছে এমন অভিযোগে তাদের ধাওয়া করে ডোশের খালের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এসময় ট্রলারে থাকা অপর ৪ জেলে পালিয়ে গেলেও সুজনে ট্রলারেই থেকে যায়। নৌ-পুলিশ ফাড়িঁর এএসআই মামুনসহ চার পুলিশ সদস্যরা ওই ট্রলারে উঠে সুজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন।

এ প্রসঙ্গে সহকারী পুলিশ সুপার আলী আহম্মেদ জানান, অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।