কলাপাড়ায় প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে ১১ পদের ৮টিই শুন্য, খামারিরা বিপাকে

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা প্রানিসম্পদ কার্যালয়ে অফিসারসহ আটটি পদ দীর্ঘ দিন থেকে শুন্য থাকায় ওই অফিসের সাথে সংশ্লিষ্ট কৃষক ও খামারিরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ১১জন লোকাবলের জায়গা এ অফিসে লোকবল রয়েছে মাত্র তিনজন। প্রয়োজনীয় উপকরন ও ওষুধ সঙ্কটের কারনে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে হাঁস-মোরগ, গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া ও কবুতর-কোয়েল খামার মালিকসহ গৃহপালিত পশুপাখির মালিকরা। ফলে একদিকে অফিসের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অপরদিকে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১১পদ থাকলেও শুন্য রয়েছে ৮টি পদ। কিন্তু কর্মরত আছে ৩জন। গুরুত্বপুর্ন শুন্য পদগুলো হলো- ১জন কর্মকর্তা, ৪জন ফিল্ড স্টাফ, ১জন এফএ(এআই), ১জন অফিস সহকারি, ১জন অফিস সহায়ক পদ শুন্য থাকায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত কলাপাড়া উপজেলায় গরুর-মহিষ ৪১৭ ও ছাগল-ভেড়া ৫৮১ ও হাঁস-মুরগির ২৭০টি খামার রয়েছে। প্রাণীকে সম্পদে পরিনত করতে সরকার প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতি উপজেলায় সাবেক পশু হাসপাতালকে প্রাণীসম্পদ অধিদফতর নামকরনের মাধ্যমে কৃষকদের গবাদি পশু ও খামারিদের পরামর্শ প্রদান, ওষুধ বিতরনসহ সার্বিক সহযোগিতা করা। উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হচ্ছে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নতজাতের গবাদি পশু ও হাঁস- মুরগি উৎপাদন করা। যাতে দেশে ডিম, দুধ ও গোশতের চাহিদা বৃদ্ধি করা। কিন্তু প্রয়োজনীয় উপকরন, জনবল ,ওষুধ ডাক্তার সঙ্কটে পিছিয়ে পড়েছে এখানকার ডেইরি ও পোলট্রি খামারিসহ কৃষকরা। মাত্র তিনজন লোক দিয়ে চলছে উপজেলার পশু চিকিৎসা কার্যক্রম। মোট ১১টি পদের মধ্যে আটটি পদই দীর্ঘ দিন শুন্য থাকায় মাত্র তিনজনের পক্ষে অফিসের এত সেবা দেয়ার কাজ সমাধা করা রীতিমতো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় চলছে অফিসের কার্যক্রম। সরকার প্রাণিসম্পদকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতি সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নিলেও এই উপজেলায় প্রাণিসম্পদ বিভাগে চরম জনবল সঙ্কট এই বিভাগের অগ্রগতি ও অগ্রযাত্রায় অন্তরায় সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ হচ্ছে, পশু হাসপাতালের ফিল্ড স্টাফ কোনো সময় মাঠে এসে আমরা গরু-মহিষ পালন করি কিন্তু কোনো পরামর্শ দিতে আসেনি। আমাদের গরু-মহিষের কোনো সমস্যা হলে গ্রামের হাতুড়ী পশু চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবা ও পরামর্শ নিয়ে থাকি।
বালীয়াতলী গরুর খামারির মালিক কাজী মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, আমার খামারে ৮টি বড় জাতের গরু রয়েছে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে পরামর্শ নিয়ে থাকি কিন্তু মাঠ পর্যায়ে যদি ফিল্ড স্টাফ থাকলে আমাদের খামারিদের গরু পালন করতে আরো ভাল হতো।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, দীর্ঘ দিন ধরে পদ গুলো শুন্য থাকার কারনে কৃষকদের গবাদি পশু ও খামারিদের পরামর্শ প্রদান করা সমস্যা হয়ে দাড়িঁয়েছে। ফিল্ড স্টাফ না থাকার কারনে কৃষকদের গবাদি পশু ও খামারিদের চিকিৎসা ব্যাপারে এখন মোবাইলে ফোনে মাধ্যমে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।