কলাপাড়ায় বরফ সঙ্কট: ইলিশ নিয়ে বিপাকে জেলে-আড়তদার

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুর এখন ইলিশের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালী ইলিশ নিয়ে ফিরছে জেলেরা। কিন্তু বরফের তীব্রঙ্কটে ফের সাগরে যথাসময় যেতে পারছে না। বরফের সঙ্কটে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জেলেসহ ট্রলার ও আড়ত মালিকরা। গত এক সপ্তাহ ধরে সাগর থেকে ইলিশ মাছভর্তি ট্রলার আসছে মহিপুর-আলীপু কুয়াকাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রর ঘাটসহ উপকুলীয় এলাকার বিভিন্ন মৎস্য আড়তে। এর ফলে মৎস্য বন্দর মহিপুর আলীপুর আড়তগুলো ক্রেতা বিক্রেতাদের ব্যস্ত সময় কাটছে। এরপরই ব্যস্ততা শুরু হয়ে যাচ্ছে শ্রমিকদের। ট্রলার থেকে কার্টনে করে শ্রমিকেরা ইলিশ এনে আড়তে ফেলছেন। কেউ ইলিশ মাছের ঝুড়ি টানছেন, কেউ প্যাকেট করছেন, কেউ ট্রাকে তুলছেন। এ দিকে মাপজোখ চলে একদিকে। অন্যদিকে চলে দরদাম। পাইকারি ক্রেতারা দরদাম শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানোর জন্য কার্টনে ভরা শুরু করেন। ট্রাক ও অন্যান্য গণপরিবহনের ছাদে করে সাগরের এসব ইলিশ চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। যেন কারো সাথে কথা বলার সুযোগ নেই। এ যেন ইলিশ আর ক্রেতা বিক্রেতাদের মিলন মেলা।

আড়তগুলোতে পাইকার, আড়তদার, জেলে ও শ্রমিকেরা মাছ ক্রয় বিক্রয় করে প্যাকেটজাত করছেন। অন্য দিকে মাছ বিক্রি করা ট্রলারগুলো আবার মাছ ধরতে সাগরে ছুটে যাচ্ছে। যেন সব মিলিয়ে উপকুলীয় জেলে পল্লী ও আড়তে আসা জেলেরা পার করেছেন মওসুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এতো ব্যস্ত সময় পার করার মধ্যেও জেলে,ট্রলার মালিক ও পাইকারদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারনে জেলেদের চাহিদা মতো বরফ উৎপাদন না হওয়ায় ট্রলার যেমন আবার সাগরে যেতে হিমশিম খাচ্ছে, তেমনি পাইকাররাও মাছ কিনে বিপাকে পড়ছেন পাইকারদের চাহিদা মতো করফ না পাওয়ায় মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। সঙ্কট থাকায় বরফের দামও আকাশ চুম্বি। বরফকল মালিকেরা বলছেন, নিরবচ্ছিন বিদ্যুৎ না থাকায় বরফ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। ইলিশের ভরা মওসুমে গড়ে একটি ট্রলারে ২০০-২৫০ ক্যান বরফ প্রয়োজন হয় জেলেদের। উপজেলার বেশির ভাগ জেলেদের বরফের চাহিদা মেটায় মহিপুর আলীপুর অন্তত ৪৮টি বরফ কল।

মহিপুর মৎস্য ব্যবসায়ী মজনু গাজী জানান, প্রতি ক্যান (৫০ কেজি) অতিরিক্ত দুই শ’ টাকা করে দিয়েও বরফ মিলছে না। দেড়-দুইদিন অপেক্ষার পরে ১০০/১২০ টাকা ক্যানের বরফ কিনতে হচ্ছে ৩০০/৩৫০ টাকায়। কেউ কেউ ৫০০ টাকায় পর্যন্ত বেশি বিক্রি করছে। এভাবে প্রতিদিন ৫০-১৫০ ট্রলারের জেলেরা অতিরিক্ত ৫০-৬০ লাখ টাকা দিয়েও পর্যাপ্ত বরফ পায় না। গত টানা তিনদিন বরফের এমন তীব্র সঙ্কট চলছে। মহিপুর-আলীপুরের ৪৮টি বরফকলের সর্বোচ্চ উৎপাদন দৈনিক ৩০ হাজার ক্যান। কিন্তু প্রত্যেকটি ট্রলার একবারে সাগরে মাছ শিকারে যেতে ২০০-২৫০ ক্যান বরফের প্রয়োজন হয়। এভাবে প্রতিদিন ১৫০-২০০ ট্রলারের প্রয়োজন হয় কমপক্ষে ৪০ হাজার ক্যান বরফের। মওসুমের প্রথমে এক ক্যান বরফ বিক্রি হতো ১০০/১২০ টাকায়। আর এখন এক ক্যান বরফ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। তাও সলিড না; খোল, ওজনে ৫০ কেজি হয় না। একে তো বরফের সঙ্কট তার ওপরে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ থাকছে না।

ট্রলার নিয়ে ঘাটে থাকা সজিব মাঝি জানান, দেড় দিন অপেক্ষা করছেন বরফের জন্য। সাগরে প্রচুর ইলিশ পড়লেও বরফের সঙ্কটে যেতে পারছেন না।

মদিনা বরফ কলের ম্যানেজার শুভ্রত্র ও হিমালয় বরফকলের ম্যানেজার বনি আমিন জানান, বিদ্যুৎ রাত ২টা গেলে আসে সকাল ৮টার সময়। বরফ তৈরি করতে সময় লাগে ৩০-৩৫ঘন্টা। এতে বরফ উৎপাদন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আর বর্তমানে ইলিশের চাহিদা বেশি থাকার কারনে বরফের চাহিদা বেড়ে গেছে।

ইলিশের পাইকার ফরিদপুরে মধু মিয়া বলেন, এখন প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ায় দাম ও কম। সে কারনে ইলিশ কেনায় বরফও বেশি দরকার। কিন্তু বিদ্যুতের কারনে বরফ পাওয়া যায়না।

কলাপাড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল অফিসার ডিজিএম মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, হাজীপুর সাবষ্টান নষ্ট হওয়ার কারনে মৎস্য বন্দর আলীপুর মহিপুর বরফ তৈরিতে সমস্যা হয়েছে। আশা করি সামনের দিকে এ সমস্যা হবে না।