কলাপাড়ায় সেতু নির্মাণ বন্ধ, বাঁশের সাকো দিতে বাধ্য হলো গ্রামবাসী

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে নাগের ভারানী খালের ওপর নির্মিত সেতুটির কাজ বন্ধ থাকায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবন ব্যবস্থায় দারুনভাবে ভোগান্তি হচ্ছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগে নাগের ভারানী খালের ওপর লোহার অবকাঠামোর তৈরি একটি সেতু ছিল। সেটি জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর তা ভেঙে এখন নতুন একটি ‘গার্ডার সেতু’ তৈরি করার উদ্যোগ নেয়।
স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন করে যে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে, তার দৈর্ঘ্য হবে ১৪৭ ফুট ৯ ইঞ্চি। প্রস্থ হবে ২৪ ফুট। এর ফুটপথ হবে দু’দিকে ৩ ফুট করে ৬ ফুট। চলাচলের জন্য মূল সেতুর জায়গা থাকবে ১৮ ফুট। ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের’ মাধ্যমে এ সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।

এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও এ সেতুর তদারককারী কর্মকর্তা মো. দেলওয়ার হোসেন জানায়, দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে পটুয়াখালীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স কাশেম কনস্ট্রাকশন ও মেসার্স পল্লী স্টোর্স। এ প্রতিষ্ঠান দুটি ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। দরপত্রের চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণ কাজ শেষ করার সময় ছিল ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর। এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে আবার সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়। গত ৩০ আগষ্ট ছিল শেষ সময়। সে সময়ও অতিবাহিত হয়েছে। যার কারণে কাজ শেষ করার সর্বশেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২১ সালের ৩ মার্চ। দরপত্র অনুযায়ী এ সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২৯ লক্ষ ১০ হাজার ৩২ টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু সেতুর তিনটি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। এখন পুরো কাজই বন্ধ। যার কারণে স্প্যানের ওপর থেকে বের হয়ে থাকা লোহার রডগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশে পড়ে থাকা কিছু মালামালও নষ্ট হচ্ছে।

বিনামকাটা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম মুন্সী বলেন, ‘গত মে মাস থেকে এ সেতুর নির্মাণ কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদের যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছিল। যার কারণে নিজেরা চাঁদা তুলে সেতুর পাশেই একটি বাঁশের সাঁকো দিয়েছি। এখন সাঁকোর ওপর দিয়ে আমরা চলাচল করি।’
মাছুয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘কৃষকরা বাজারে নিয়া ধান বিক্রি করবে, তা পারেনা। মানুষজন মালামাল পার করতে পারেনা। বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে শিশু-বয়স্ক মানুষকে নিয়ে পার হতে কষ্ট হয়। গ্রামের মানুষজনের কী যে ভোগান্তি তা বলে শেষ করা যাবেনা।’

চম্পাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার বলেন, মাছুয়াখালী-কৃষ্ণপুর গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এখন তা বন্ধ রয়েছে। শুধু খালের ভিতর স্প্যান বসিয়েই ফেলে রাখা হয়েছে। এখনও ৮০ শতাংশ কাজ বাকি। শুনেছি ঠিকাদারকে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কেন কাজ করছেনা, তা আমরা বুঝতে পারছিনা। কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে কয়েকবার সময়ও দেয়া হয়েছে, কিন্তু কাজতো পড়েই আছে। বর্তমানে পুরো কাজ বন্ধ থাকায় গ্রামের মানুষজনের চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা চাই, জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে সর্বশেষ বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী যেন সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মোহর আলী বলেন, ‘ওই গার্ডার সেতুটির নির্মাণ কাজ গত মে মাস থেকে বন্ধ রয়েছে এটা ঠিক। তবে নকশা পরিবর্তন, ঠিকাদারের অসুস্থতা, প্রবল বর্ষণ এবং মহামারি করোনার কারণে এর নির্মাণ কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। যথাসময়ে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে আমরা অসংখ্যবার চিঠি দিয়েছি। সর্বশেষ নির্ধারণ করা সময়ের মধ্যে ঠিকাদারকে কাজ শেষ করার জন্য আবারও চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, এ সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ হবে।’