কাজীরহাটে স্ত্রীর পরকীয়ার ঘটনা জেনে ফেলায় স্বামীকে পিটিয়ে-বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ

কাজীরহাট প্রতিনিধি, বরিশাল।।
বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজীরহাট থানাধীন ১৫ নং জয়নগর ইউনিয়নের হাড়িয়া গোসাইদিয়া গ্রামের বজলুর রহমান মীরের ছেলে মমিম মীর (২০) কে তার শ্বশুর জহিরুল ইসলাম মীর, মামা শ্বশুর জাহিদুল ইসলাম মীর, ভায়রা রুবেল হাওলাদারসহ কয়েকজন মিলে মারধরের পর মৃত্যু হয়েছে ভেবে বিষ খাইয়ে বাড়ির দরজায় ফেলে আসে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মমিম মীরের পিতা বজলুর রহমান মীর বলেন, আমার ভাই জহিরুল মীরের কন্যা লিমা আক্তারের সাথে আমার ছেলে মমিন মীরের বিয়ে হয়। কিন্তু লিমার সাথে মটর ড্রাইভার মহিউদ্দিনের পরকিয়া সম্পর্ক ছিলো। এ নিয়ে আমার ছেলে তার শ্বশুর ও শ্বাশুরীকে একাধিক বার অবগত করলে ছেলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। তিনি উল্টো বলে দেন- মটর ড্রাইভার মহিউদ্দিন আমার ঘরে আসবে, তোমার দরকার নেই। সে থেকেই শ্বশুর, শ্বাশুরী, মামা শ্বশুর, ভায়রা, মটর ড্রাইভার ও স্ত্রী লিমা একজোট হয়ে মমিন মীরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

এদিকে, মটর ড্রাইভার মহিউদ্দিন ও লিমার মোবাইল ফোনের কথোপকথোনের ৯ মিনিট ৩ সেকেন্ডের রের্কড থেকে জানা গেছে, তাদের মধ্যে অসামাজিক কথাবার্তা ও প্রেমের ফোনালাপন হয়।

বজলুর রহমান মীর বলেন, গত ৮ জুলাই মমিন মীর মকবুল খাঁ বাজারে কাজে যায়। ওইদিন বিকাল সাড় ৪টার দিকে শ্বশুর, মামা শ্বশুর, ভায়রাসহ কয়েকজন মিলে মমিন মীরকে বেদম মারধর করে। পরে তার মৃত্যু হয়েছে ভেবে বিষ খাইয়ে আমার বাড়ির দরজার সামনে ফেলে চলে যায়। আমার মেয়ে মিতু দেখে ডাক চিৎকার করে। আত্নীয় স্বজন মিলে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করি। পরদিন কর্তব্যরত ডাঃ বাড়ি পাঠিয়ে দেয় তখন আমার ছেলে অসুস্থ ছিল। ১৩ জুলাই মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করি। ১৪ জুলাই বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে রেফার করে। ১৫ জুলাই দুপুর ১২.৩০ মিনিটে মারা যায়।

এ ঘটনায় মমিন মীরের মা মিনারা বেগম বাদি হয়ে ৭ জনকে আসামী করে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানায়ও একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে মমিন মীরের শ্বশুর জহিরুল মীর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে এবং জামাতা বিষ পান করে নিজেই মারা গেছে বলে অভিযোগ করেন। মমিন মীরের শ্বশুর জহিরুল ইসলাম মীর ২টি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।