কী কারণে গাযায় ভয়ঙ্কর হামলা, কী চাচ্ছে ইসরায়েল?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
গাযায় গত সোমবার থেকে যে ভয়াবহ মাত্রায় বিমান হামলা ইসরায়েল করছে তার নজির বিরল।

গাযায় বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, বহু ইসরায়েলি হামলার প্রত্যক্ষদর্শী তিনি, কিন্তু এমন ভয়ঙ্কর হামলা আগে দেখেননি। রুশদি আবুলাউফ টুইট করেছেন, “গাযার সর্বত্র বিস্ফোরণ হচ্ছে। কোথায় বোমা পড়লো যোগাযোগ করে তার খোঁজ নেওয়া আর সম্ভব হচ্ছেনা।“

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর দেয়া হিসাবেই শনিবার পর্যন্ত গাযার ৬৫০টি টার্গেটে বিমান হামলা হয়েছে। অর্থাৎ সোমবার থেকে গড়ে প্রতিদিন একশ থেকে দেড়শ বার ইসরায়েলি যুদ্ধ বিমান গাযায় উড়ে গিয়ে বোমা ফেলছে। সেইসাথে চলছে সীমান্ত থেকে দূরপাল্লার কামানের গোলা।

গাযায় স্বাস্থ্য বিভাগের দেওয়া হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দু‘শর কাছ্কাছি যার মধ্যে ৫২টি শিশু। ফলে, গাযার মত অত্যন্ত ঘনবসতি একটি এলাকায় নির্বিচারে বোমা হামলা নিয়ে জাতিসংঘ সহ বহু দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
বিজ্ঞাপন

কিন্তু এখনও এসব নিয়ে ভ্রুক্ষেপ নেই ইসরায়েলের। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনও বলছেন, ‘যতদিন প্রয়োজন‘ গাযায় বিমান হামলা চলবে। এমনকি গাযায় স্থলবাহিনী ঢোকানোর সম্ভাবনাও নাকচ করছে না ইসরায়েল।

প্রশ্ন হচ্ছে, ঠিক কোন প্রয়োজনের কথা বলছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী? গাযায় এ দফার এই সামরিক অভিযান থেকে কোন উদ্দেশ্য তারা হাসিল করতে চাইছে ইসরায়েল?

ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা জেরুজালেম ইন্সটিটিউট অব স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড সিকিউরিটি‘র (জেআইএসএস) গবেষক ড. জনাথন স্পায়ার বিবিসি বাংলাকে বলেন, হামাসের ছোড়া রকেটের জবাব দিচ্ছে ইসরায়েল, এবং এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে যাতে হামাস ভবিষ্যতে এমন সাহস না দেখায়।
হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার (ফাইল ফটো)। ইসরায়েলের বিমান তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে

হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার (ফাইল ফটো)। ইসরায়েলের বিমান তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে

“আমি মনে করি ইসরায়েল হামাসের রকেট নিক্ষেপের জবাবই দিচ্ছে। হামাসকে এমন একটি বার্তা দিতে চাইছে যে ভবিষ্যতে যেন এমন সাহস তারা না দেখায়। এছাড়া, গোপন জটিল কোনো উদ্দেশ্য ইসরায়েলের আছে বলে মনে হয়না।“

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দেওয়া হিসাবে হামাস গত সাতদিনে গাযা থেকে তেল আবিব সহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে প্রায় তিন হাজারের মত রকেট ছোঁড়া হয়েছে. যার আঘাতে মারা গেছে দশজন। রোববার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে তারা গাযায় হামাসের শীর্ষ নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারকে টার্গেট করে এবং তার বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। দাবি করা হয়েছে গত কদিনে হামাসের হামাসের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কজন নেতা মারা গেছেন।

ইসরায়েল কি তাহলে গাযা থেকে হামাসকে উৎখাত করতে চাইছে?

ড. স্পায়ার বলেন, তিনি মনে করেন না এই দফায় ইসরায়েলের তেমন কোনো লক্ষ্য রয়েছে। “সামরিকভাবে সেটা হয়তো ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব, কিন্তু তার জন্য যে মূল্য দিতে হতে পারে ইসরায়েল তার জন্য প্রস্তুত নয়।“

তিনি বলেন, “প্রথম কথা, হামাসকে গাযা থেকে সরাতে ইসরায়েলকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাপক মাত্রায় স্থল অভিযান চালাতে হতে পারে। তার অর্থ বহু প্রাণহানির আশঙ্কা, ইসরায়েলি নাগরিকের প্রাণহানি ইসরায়েলে খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়, রাজনীতিকরা সেই ঝুঁকি নিতে চান না।“

তাছাড়া, ড. স্পায়ার বলেন, হামাসকে সরিয়ে দিলে গাযায় নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে তা নিয়ে ইসরায়েল উদ্বিগ্ন। “ইসরায়েল নিজে আবারো গাযার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নিতে কোনাভাবেই চায় না।।“

অনেক পর্যবেক্ষকই বিশ্বাস করেন, হামাসকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া ইসরায়েলের রাজনৈতিক স্বার্থেরও পরিপন্থী, কারণ হামাসের কারণেই ফিলিস্তিনিরা রাজনৈতিকভাবে এবং ভৌগলিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত রয়েছে যা রাজনৈতিকভাবে ইসরায়েলকে সুবিধা দিচ্ছে।
-বিবিসি