কুয়াকাটায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু

কুয়াকাটা প্রতিনিধি॥
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুবিনা বেগম (২৪) নামের এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে লতাচাপলী ইউনিয়নের গোড়াআমখোলাপাড়া এলাকা থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। গৃহবধুর স্বামী দাবি করছে রাতে ঘুমান্ত অবস্থায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। পুলিশ বলছে ময়না তদন্তের রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

স্বামী আবু বক্কর ফরাজী দাবী করছেন, বৃহস্পতিবার রাতের খাবার খেয়ে স্বামী-স্ত্রী ঘুমিয়ে পরেন। রাত দুইটার দিকে ফ্যান বন্ধ থাকায় ঘুম থেকে জেগে ওঠের তিনি। পরে স্ত্রীকে ডাকলে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে বিদ্যুৎপৃষ্টের বিষয়টি জানতে পারে। স্বামীর ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে রুবিনা বেগমকে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন। পরে রাত তিনটার দিকে লাশ হাসপাতাল থেকে তার বাবার বাড়ি লতাচাপলী ইউনিয়নের গোড়াআমখোলাপাড়া এলাকায় নেয়া হয়। এদিকে স্বামী আবুবক্কর ফরাজীর বিদ্যুৎপৃষ্টের দাবী মানতে নারাজ স্থানীয়রা।

নিহত রুবিনা বেগমের ভাই মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কিছুই বলতে পারছি না। আবু বক্কর ফরাজী যা বলছেন তা বিশ্বাস হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ ইসমাইল হাওলাদার বলেন, স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী মৃত্যুর কারণ রহস্যজনক মনে হচ্ছে। বিদ্যুৎপৃষ্টের যে বর্ণনা দেয়া হচ্ছে তা কোনভাবেই বিশ্বাস হচ্ছে না।

মহিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরহাতাল রিপোর্ট সম্পন্ন করেছি। মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়না তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বলা যাচ্ছে না।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার আবুল খায়ের বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তাই আপাতত কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিগত ৮ বছর পূর্বে লতাচাপলী ইউনিয়নের গোড়াআমখোলাপাড়া গ্রামের মোঃ আফজাল মৃধার মেয়ে রুবিনা বেগমকে কুয়াকাটা পৌরসভার পশ্চিম কুয়াকাটা গ্রামের আব্দুল মালেক ফরাজী ছেলে আবু বক্কর ফরাজীর সাথে বিবাহ দেন। বিবাহের পর বেশ কয়েক বছর তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিলো। আদালতে মামলা হয়েছে। আবু বক্কর ফরাজী মাসখানেক জেলে ছিলেন। তবে মামলা নিস্পত্তি হবার পর গত দুই বছর যাবৎ তারা সুখ শান্তিতে ছিলেন। তাদের জিহাদ (৬) নামের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।