কুয়াকাটায় বাড়িঘর-কৃষিজমি জবরদখল, দখলদারের তালিকায় ৩৭৮

এইচএম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় বন বিভাগের সংরক্ষিত বন ভূমি দখল চলছেই। দখলদাররা বন ধ্বংস করে বাড়ি-ঘর তুলে দখল অব্যাহত রেখেছে। আবার অনেকে বনের গাছপালা কেটে কৃষি জমি তৈরি করে চাষাবাদ করছে। গত এক বছরে বন বিভাগ কুয়াকাটায় ১০০ একরের বেশি বনভূমি দখলদারদের কাছে উদ্ধার করেছে। তবে এখনও ২৫১ দশমিক ৭৪ একর বনভূমি ৩৭৮ জন দখলদারের দখলে রয়েছে।

একই স্থান থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগের পৃথিবীতে একমাত্র বিরল সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। সৈকত ঘেষে রয়েছে সংরক্ষিত বিশাল বনাঞ্চল। এক সময় কুয়াকাটার সৈকত ঘেঁষা নারকেল বাগান. জাতীয় উদ্যানের ঝাউ বাগান, ম্যানগ্রোভ বন পর্যটকদের আরো আকৃষ্ট করে তুলতো। কিন্তু সেই বনভূমি জবরদখল হয়ে যাচ্ছে। বনের গাছ কেটে সেখানে দখলদাররা বসত বাড়ি-ঘর তুলছে, গাছপালা সাবার করে কৃষি জমি বানিয়ে চাষাবাদ করছে।

মহিপুর রেঞ্জের লতাচাপলি ও গঙ্গামতি মৌজায় বনের মোট আয়তন ৩ হাজার ৫০৩ একর। এর মধ্যে লতাচাপলি মৌজায় ২ হাজার ১৬৫ একর এবং গঙ্গামতি মৌজায় এক হাজার ৩৩৮ একর। কুয়াকাটাকে পর্যটকদের কাছ আরো আকর্ষনীয় করতে প্রতি বছরই নতুন বাগান গড়ছে বন বিভাগ। কিন্তু সেই বাগান ধ্বংস করে ৩৭৮ জন দখলদার বনভূমির ২৫১ দশমিক ৭৪ একর জবরদখল করেছে। এর মধ্যে লতাচাপলি মৌজায় ৫৬ জনে দখল করেছেন ১৮৬ দশমিক ৮০ একর এবং গঙ্গামতি মৌজায় ৩২২ জনে দখল করেছেন ৬৪ দশমিক ৯৪ একর বনভূমি।

সংরক্ষিত বনের ভিতরেই বাড়িঘর তৈরি করে বসবাসরত সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ৬৫ শতাংশ জমির উপর বসতবাড়ি নির্মাণ করে সেখানে সপরিবারে বসবাস করছেন । এছাড়াও পাশেই বনের গাছপালা কেটে তৈরি প্রায় এক একর কৃষি জমি তৈরি করেছেন। সেখানে প্রতিবছর তিনি চাষাবাদ করছেন। এবারও আমন আবাদ করেছেন। বন বিভাগ থেকে এ বছরের জুন মাসে এ বনভূমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাঁকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশ স্বাধীনের অনেক আগ থেকেই বন পাহারা দিতে তাঁদের পূর্বপুরষদের এখানে আনা হয়েছিল। তখন তাদের মৌখিকভাবে তিন একর করে জমি দেওয়ার কথা ছিল। সাইফুলের ভাই ইলিয়াস হোসেনও গঙ্গামতি সংরক্ষিত বনের মধ্যে বাড়ি-ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন, তাঁকেও উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ বনের আরেক বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদারও বনের মধ্যে প্রায় এক একর জায়গা নিয়ে বাড়ি করেছেন। এছাড়াও প্রায় দেড় একর কৃষি জমিও রয়েছে তার। তিনি বলেন, এখন আমরা কোথায় যাবো? তারা এই নোটিশের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান।

বনভূমি দখলে রাখার অভিযোগে দক্ষিন মুসুল্লীয়াবাদ এলাকার নজরুল ইসলামকে ১৫ জুন নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরেন তারা বন ভূমি পাহারা দিয়েছেন। এখন নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বন ছেড়ে চলে যেতে হবে। তবে এর আগে পূর্ণবাসন করার দাবি জানান তিনি।

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.আবুল কালাম বলেন, দখলদাররা জোর করে বনভূমি নষ্ট করে ঘরবাড়ি তুলে জমি দখল করছেন। বন কর্মীরা বাঁধা দেওয়ায় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করা হচ্ছে। মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। বনভূমি উদ্ধারে তারা দখলদারদের তালিকা তৈরি করে পটুয়াখালী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

কুয়াকাটায় সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত এক বছরে ১০০ একরেরও বেশি বনভূমি উদ্ধার করে সেখানে নতুন করে বনায়ন করা হয়েছে। এছাড়াও চলতি বছর লতাচাপলি মৌজার ৫৬ জন দখলদারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ১০ জন অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।