কুয়াকাটায় রাখাইনদের ঐতিহ্যবাহী জলকেলি উৎসব অনুষ্ঠিত

কুয়াকাটা প্রতিনিধি।।
কুয়াকাটায় অনুষ্ঠিত হয়েছে রাখাইনদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব। পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে কুয়াকাটায় মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেটে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। জলকেলিতে মাতোয়ারা ছিলো রাখাইন কিশোর কিশোরীরা। এর আগে বেলা এগারোটায় শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। করোনার দীর্ঘ দুই বছর পর গত বছর স্বল্প পরিসরে শুরু করলেও এ বছর আনুষ্ঠনিক ভাবে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে পেরে রাখাইন পরিবারের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

কুয়াকাটা রাখাইন পল্লীর মাতুব্বর উচান চিন’র সভাপত্বিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মহিবুর রহমান মহিব, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ ফাতেমা আক্তার রেখা, কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার, কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ বারেক মোল্লা, মহিপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার আবুল খায়ের, কুয়াকাটা টু্রিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার হাসনাইন পারভেজ, টু্রিস্ট পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল হক ডাবলু, রাখাইন প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট চানচান প্রমুখ।

ইফিঊচ্যান রাখাইন বলেন, পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে জলকেলি উৎসবের আয়োজন করা হয়। তিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রথমদিন শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে বুদ্ধ স্নানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পরের দুইদিন থাকে জলকেলি উৎসব।

মিয়াসুই রাখাইন বলেন, এ অনুষ্ঠানে মূলত রাখাইন তরুনরা তরুনীদের নিকট থেকে পানি কিনতে হয়। আর তরুনীদের পানি কিনতে হয় না। তারা এখানে সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করতে পারেন।

কুয়াকাটা রাখাইন পল্লীর মাতুব্বর উচান চিন বলেন, জলকেলি উৎসব আগে প্রত্যেকটি পাড়ায় অনুষ্ঠিত হত। এথন আর্থিক সংকটের কারণে সব পাড়ায় অনুষ্ঠিত হয় না। এ অনুষ্ঠান আয়োজন করতে মোটা অংকের টাকা খরচ হয়। আমার বিভিন্ন মাধ্যমে অনুদান নিয়ে কুয়াকাটায় আয়োজন করছি।