গিনির সোনার খনিতে ধস, নিহত-১৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
গিনির উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সিগুইরি অঞ্চলের একটি সোনার খনিতে ভূমিধসে অন্তত ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কাতার ভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাতাকৌরৌ নামক গ্রামের কাছে শনিবার ওই দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে জানান স্থানীয় কাউন্সিলর সেকৌ বিনৌ সিমাগান।

সিমাগান বলেন, ওই ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলেই মারা যান। শনিবার সন্ধ্যার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে আর কেউ সেখানে আছে কি না তা খুঁজতে রোববারও সেখানে তল্লাশি চালায় উদ্ধারকারীরা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নিহত ১৫ ব্যক্তির সবাই পুরুষ শ্রমিক। তাঁদের বয়স ১৪ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। তাঁদের একটি কবরে সমাহিত করা হয়। ওই খনিতে কাজ করা সিনেমান তারাওরি নামের এক ব্যক্তি বলেন, তিনি তাঁর দুই সহকর্মীকে স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার করতে দেখেছেন।

পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটিতে প্রায়ই এমন খনি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে মালি সীমান্তে থাকা সিগুইরি অঞ্চলে। সরকারি হিসাবে এই অঞ্চলে ২০ হাজারের বেশি মানুষ সোনার খনিতে কাজ করেন। সেখানে ২০১৯ সালে এক খনিতে ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছিলেন। এর নয় মাস পর আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান। এসব সোনার খনিগুলোতে মূলত কারিগরেরা সনাতনী পদ্ধতিতে সুড়ঙ্গ করে কাজ করে থাকে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে সরকারি হিসাবের বাইরে থাকা অনেক শ্রমিকও সোনা অন্বেষণ করে।

উল্লেখ্য, পশ্চিম আফ্রিকার এ দেশটিতে স্বর্ণ, হীরা, বক্সাইট (অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক) এবং লৌহসম্পদের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেও সেসব যথার্থভাবে কাজে লাগাতে না পারায় এর সুফল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই থেকে গেছে। সূত্র-আলজাজিরা।