গৌরনদীতে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গৃহবধূকে নির্যাতনে অভিযোগ

গৌরনদী প্রতিনিধি, বরিশাল।।
গৌরনদীতে মাহাবুব নামে এক সেনা সদস্যের হাতে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে স্বামীর সংসার ছেরে পিত্রালয়ে আশ্রায় নিয়েছেন অসহায় সেফা (২২) নামে এক গৃহবধূ। এ ঘটনায় অসহায় গৃহবধূ জীবনের কোন কুল কিনারা না পেয়ে অবশেষে রবিবার (০৩ এপ্রিল) সকালে জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী পরিচালকের বরাবরে বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ পত্র দায়ের করেন।

নির্যাতিতা গৃহবধূর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, প্রায় ১ বছর আগে বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের চর ফতেপুর গ্রামের আলী আরশাফ কবিরাজের কন্যা মোসাঃ শেফা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় পার্শবর্তী গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কান্ডপাশা গ্রামের হানিফ বেপারীর পুত্র মোঃ মাহাবুব বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে কর্মরত সেনা সদস্য এর সাথে। যাহার আইডি নং- সিগম- ২৩১২০৬,সেনা নং-১৬১৭৭৬৮,প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ সদর ও দপ্তর-১১ পদাতিক সিগনাল কোর -৪ কোর্স ডিপলোমা ইনজিয়ারিং জয়েন বোর্ড বগুরা। প্রমের পরিচয়ে তাদের মধ্যে বিয়ে হওয়ার কথা জানিয়েছেন শেফা। ২০১৯ ইং সালে রং নাম্বারে ঢুকে মাহাবুবের সাথে পরিচয় হয় তার শেফার) পরিচয়ের একপর্যায়ে মাহাবুবের মিষ্টি কথায় প্রেমে পরে যায় শেফা। তারি ধারাবাহিকতায় গত ৬মার্চ ২০২০ ইং বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট নোটারী পাবলিক আদালতের মাধ্যমে তার আসল পরিচয় গোপন করে ব্যাবসায়ী পরিচয় দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে তিন লক্ষ টাকা দেন মহারানা ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন প্রতারক সেনা সদস্য মাহাবুব। পরবর্তী সময় কাজী দ্বারা বিবাহ রেজিষ্ট্রেশন করার সর্তে অঙ্গিকার নামায় সই কর্ওে পরে তা অস্বীকার করে সেনা সদস্য ।

বিয়ের পর দিন যত গড়াতে থাকে ততই সংসার জীবনে অশান্তি বাড়তে থাকে। বিয়ের পর থেকে বাবা-মা বোন, সেনা সদস্য মাহাবুব শেফার বাবার কাছে বিভিন্ন সময়য়ে যৌতুক দাবী করত। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে তার পিতা-মাতার শেষ সম্বল ভিটে মাটি বিক্রয় করে নগদ ৩ লক্ষ টাকা যৌতুক হিসেবে প্রদান করেন। কিন্তু এতেও ক্ষান্ত হয়নি মাহাবুবের পরিবার। চাকরি সুত্রে মাহাবুব বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন যায়গায় থাকার কারনে মাহাবুবের স্ত্রী শেফা মাহাবুবের মা-বাবা ও বোনের কাছে থাকত। মাহাবুবের মা রুসিয়া বোন শোভা বিভিন্ন সময় যৌতুক চেয়ে শেফার ওপর নির্যাতন চালাত। মাহাবুব ছুটিতে বাড়িতে আসলে মা ও বোনের সাথে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন সময় টাকার জন্য নির্যাতন চালাত। আবারো টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করে শেফাকে মারধর কওে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেন পাষন্ড স্বামী মাহাবুব ও তার পরিবারের লোকজন। নির্যাতীত শেফা তা জীবনের নিস্তার মিলাতে না পেরে অবশেষে বিচারের দাবিতে জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটির উপ-পরিচালক কে এম সোয়েব জুয়েলের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী পরিচালকের বরাবরে বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ পত্র দায়ের করেন। এবং জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটির উপ-পরিচালক কে এম সোয়েব জুয়েল জানান, একজন সৈনিক কতৃক তার গৃহবধূকে নির্যাতন করার কথা শুনি তখন এটা মেনে নেওয়া যায় না। আমার মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী পরিচালকের বরাবরে বিচারের দাবিতে লিখিত অভিযোগ পত্র দায়ের করেছে। জাতীয় মানবাধিকার ইউনিটির শেফার পাশে থেকে সঠিক বিচার পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব্।