ঘুর্ণিঝড় মিধিলার ৭ দিনেও কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর ৪৭ জেলের খোঁজ মেলেনি

কলাপাড়া প্রতিনিধি (পটুয়াকালী)।।
৭ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ পটুয়াখালীর কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী ৪৭ জেলের এখনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ২৫ জন, কলাপাড়া উপজেলার ২২ জন। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন। এরা বেঁচে আছেন নাকি উত্থাল ঢেঁউয়ের তোড়ে সাগরে ডুবে মৃত্যু হয়েছে কা কেউ বলতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসন ছাড়াও তাদরে পরিবারের লোকজনও খুঁজছেন তাদের স্বজনদের। ১৭ নভেম্বর (শুক্রবার) ঘুর্ণিঝড় মিধিলি পটুয়াখালীসহ সাগর উপকূলে আঘাত হানে। এ সময় সাগরে মাছধরারত ট্রলারের বেশ কিছু জেলের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের বাবুল হাওলাদারের মালিকানাধীন এফবি হিমু, মৌডুবি ইউনিয়নের দিদার মৃধার এফবি মায়ের দোয়া ও ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হাসান জোমাদ্দারের এফবি হাসান নামের তিনটি ট্রলারের ২৫ জন জেলেদের এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি।
ছোটবাইশদিয়া নিখোঁজ জেলে জহির প্যাদার স্ত্রী ফাতেমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ঘুর্ণিঝড়ের সময় আমার স্বামী নিখোঁজ হয়। এতদিন ধরে কোন খোঁজ মেলেনি। তিনি না এলে পরিবারসহ আমরা না খেয়ে মারা যাব। একই এলাকার অপর নিখোঁজ জেলে সাইফুল পাহলানের (২০) স্ত্রী উর্মি বেগম বলেন, আমার সাত মাসের একটি ছেলে আছে। আমার সে ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ক্ষম ব্যক্তি। এখন আমাদের কিভাবে চলবে?

নিখোঁজ জেলে তামিমের (১৯) মা শহর ভানু বলেন, আমার ছেলের সন্ধানটুকু কেউ এনে দেন আমার মানিক আমার বুকে ফিরিয়ে দেন।
এদিকে, কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকার ২২ জন জেলেও ঘুর্ণিঝড়ের কবলে পরে নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন মহিপুর থানার ওসি ফরদৌস আলম খান। নিখোঁজ জেলের মধ্যে রাঙ্গাবালীর মোল্লাকান্দা গ্রামের বাহাউদ্দিনের দু‘ছেলে তানমুন (৩৫) ও তানিম (৩০) রয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে তানমুন ও তানিমের সন্ধানে দিগি¦দিক ছুটছেন তাদের বাবা বাহাউদ্দিন। খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা ও সুন্দরবনসহ বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

বাহাউদ্দিন বলেন, আমার ছেলে দুইটার খোঁজ পাচ্ছি না। তারাই পরিবারের আয়ক্ষম লোক। দু‘ছেলের দু‘টি করে মোট চারটি ছেলে-মেয়ে আছে। ওদের স্বান্তনা দিতে পারছিনা। আমার ছেলেদের ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

ট্রলারের মালিক মো. রহমাতুল্লাহ বলেন, ট্রলারটি ঘুর্ণিঝড়েরর সময় তীরে ফিরছিল। কিন্তু উত্তাল ঢেউয়ের কবলে সাগরে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাদের সন্ধানে অন্য ট্রলার পাঠিয়েছিলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাইনি। বিষয়টি পুলিশ এবং কোস্টগার্ডকে জানিয়েছি।

পটুয়াখালীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, কোস্টগার্ড ও নৌ বাহিনীর টিম নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কাজ করছে। আমরা তাদের সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া নিখোঁজ জেলে পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে।