চতুর্থ স্ত্রীকে হত্যার পর দ্বিতীয় স্ত্রীর আশ্রয়ে

অনলাইন ডেস্ক।।
তৃতীয় স্ত্রীর সামনে চতুর্থ স্ত্রী লাকী আক্তার পিংকিকে খুন করেন সোহাইল আহমেদ। এরপর পালিয়ে যান বাগেরহাটে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে। সেখানে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দিব্যি সংসার পেতে বসেন তিনি। পুলিশ তখন লাশ উদ্ধার করলেও পিংকির পরিচয় ও সোহাইলকে শনাক্ত করতে পারেনি।

যে বাসা থেকে লাশ উদ্ধার করা হয় সেটি রেজাউল নামে ভাড়া নিয়েছিলেন সোহাইল। পিংকির পরিচয়ও তখন কেউ জানতে পারেননি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশের দীর্ঘ অনুসন্ধানে উদঘাটন হয় ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডটির রহস্য। বেরিয়ে আসে সোহাইলের আসল পরিচয়। শনাক্ত করা হয় তার অবস্থান। মিলেছে পিংকির পরিচয়ও। পিংকি দক্ষিণ পতেঙ্গা গ্রামের ডুরিয়া পাড়ার মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে।

সোমবার রাতে বাগেরহাটের মোংলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসা থেকে সোহাইল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নগরের পতেঙ্গা এলাকা থেকে তার তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, নিহত পিংকি সোহাইলের চতুর্থ স্ত্রী। এর আগে তিনি আরও তিনটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। দ্বিতীয় স্ত্রীকে বাগেরহাট, তৃতীয় স্ত্রী নাহিদাকে নগরীর পতেঙ্গায় এবং চতুর্থ স্ত্রী পিংকিকে হালিশহরে বাসা ভাড়া করে আলাদাভাবে রেখেছিলেন। পিংকি, নাহিদা এবং সোহাইল চট্টগ্রামে একই পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ২০১৬ সালে নাহিদাকে এবং ২০২০ সালে পিংকিকে বিয়ে করেন সোহাইল।

হালিশহর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, সোহাইল ধূর্ত প্রকৃতির লোক। রেজাউল করিম নামের অন্য একজনের জাতীয় পরিচয়পত্র বাড়ির কেয়ারটেকারের কাছে জমা দিয়ে তিনি পিংকির জন্য বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। এজন্য তাকে শনাক্ত করতে পুলিশের সময় লেগেছে। সোহাইল আত্মগোপনে গিয়ে একাধিকবার মোবাইলের সিম পরিবর্তন করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২১ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের রহমানবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর (২৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আল মামুন জানান, বিয়ের পর থেকে পিংকিকে বিভিন্ন কারণে সন্দেহ করতেন সোহাইল। ২০২০ সালের ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় তৃতীয় স্ত্রী নাহিদা তার রহমানবাগের বাসায় আসেন। ওইদিন পিংকির সঙ্গে ঝগড়ার এক পর্যায়ে সোহাইল তাকে মারধর করেন। এতে পিংকি অজ্ঞান হয়ে যান। এরপর পিংকির পরনের কাপড় দিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন সোহাইল এবং লাশ বিছানার চাদরে মুড়িয়ে রান্নাঘরে রেখে পালিয়ে যান। এ হত্যাদৃশ্য নাহিদা দেখলেও বাঁধা দেননি। খুনের পর সোহাইল কিছুদিন নারায়ণগঞ্জ, সাভার এবং গাজীপুরে আত্মগোপন করে থাকেন। এরপর তিনি বাগেরহাটের মোংলা থানার মিঠাখালীতে দ্বিতীয় স্ত্রী নাসিমার বাসায় অবস্থান নেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।