চরফ্যাশনে হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের প্রতারণা, নার্সের ভূমিকায় গার্মেন্টস কর্মীরা!

আমির হোসেন, চরফ্যাশন।।
চরফ্যাশনে কিছু সংখ্যক প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অদক্ষ অপ্রশিক্ষিত টেকনোলোজিস্টের কারণে সেবা নিতে আসা মানুষ প্রতারিত হচ্ছে অসহায় মানুষ। এই বিষয়গুলো প্রশাসনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভূক্তভোগি মানুষ।

জানা যায়, চরফ্যাশন পৌর শহরের হাসপাতাল রোডসহ দুলারহাট, আঞ্জুর হাট, দক্ষিণ আইচা ও শশীভূষণ থানা সদরে ব্যাঙের ছাতার মত ৩০/৩৫টি প্রাঃ হাসপাতাল, ক্লিনিং ও ডায়গনষ্টিক সেন্টার। এই সকল ডায়গনষ্টিক সেন্টারে নেই কোন দক্ষ টেকনোলোজিস্ট। সামান্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে কয়েকদিন ডায়গনষ্টিক সেন্টারে থেকে রাতারাতি হয়ে হয়ে যায় টেকনোলোজিস্ট। এই সকল অদক্ষ পরীক্ষা নীরিক্ষা করে মহিলাদের আল্টা স্নোগ্রামে দু‘ ডায়গনস্টিক সেন্টারে দু রকম রিপোর্ট। আবার অনেকের রক্তের গ্রুপ দু‘রকম রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি চরফ্যাশন মেঘনা ডায়গনস্টিক সেন্টারে জনৈক মহিলার প্রেগনেন্সি আল্টা স্নোগ্রাম রিপোর্টে দু‘টি সন্তান আসলেও সেবা ক্লিনিং হাসপাতাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে সিজারে একটি বাচ্চা বের করা হয়েছে। এতে নীলকমল গ্রামের ওই মহিলার স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দু‘সন্তানের পরিবর্তে এক সন্তান ভূমিস্ট হওয়া নিয়েও দ্বন্ধ হয়েছে। ওই নারীর দাবী তার সন্তানকে সেবা ডায়গনস্টিক কর্তৃপক্ষ বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে। এই বিষয়ে চরফ্যাশন থানায় অভিযোগ দাখিল করলেও দায়িত্ব থাকা তথকালীন ওসি তদন্ত কার্তিক চন্দ্র দাস প্রভাবিত হয়ে ওই সেবা ডায়গনস্টিকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে রয়েছে সরকারি হাসপাতালের ২শ গজের মধ্যে কোন প্রাঃ হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার থাকতে পারবেনা দেখা যায় সেবা ক্লিনিং এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টার হাসপাতালের দেয়ালের সাথেই নির্মাণ করা হয়েছে। এটি কোন অদৃশ্য শক্তিতে স্থাপন করা হয়েছে তা স্থানীয়দের প্রশ্ন?

হাসপাতালে বিভিন্ন সময় চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারিত শত শত মানুষ। পাশাপাশি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ক্ষমতার দাফট দেখিয়ে গার্মেন্টসে কাজ করা মেয়েদেরকে নার্সের সাথে কয়েক দিন রেখে তাদেরকে, আবার নার্স বানিয়ে সেবা নিতে আসা লোকদের সাথে প্রতারণা করছে। ভোলা ডায়নগস্টিক সেন্টারের আয়াও চরফ্যাশন এসে নার্স হয়ে যায় ওই নার্স দিয়ে সকল ডেলিভারির কাজ করানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ব্যপারে চরফ্যাশন স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. শোভন কুমার বসাক বলেন, আমরা ডায়গনস্টিন সেন্টার গুলোতে ব্যবস্থা গ্রহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাঝে মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ভ্র্যাম্যমান আদালত বসায় জরিমানা করা হয়।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমীণ বলেন,আমরা এবং ভোলার ম্যাজিষ্ট্রেট এসে প্রায় অভিযান চালানো হয়। কোন প্রাঃ ক্লিনিং বা ডায়গনষ্টিক সেন্টারে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।