চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা করতেন তারা

অনলাইন ডেস্ক।।
ঢাকার একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম। শিক্ষকতার আড়ালে টার্গেট করতেন গ্রামের বেকার যুবকদের। চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা, দিতেন নিয়োগপত্রও। সে নিয়োগপত্র নিয়ে চাকরিতে যোগদান করতে গেলে দেখা যেত নিয়োগপত্রটিই ভুয়া।

এক ভুক্তভোগীর দেয়া অভিযোগে দুই সহযোগীসহ রেজাউলকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে প্রতারণার এসব তথ্য।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানার চৌমুহনী এলাকার একটি হোটেল থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

রেজাউল করিম গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানার শ্রীপুর এলাকার আবদুল জব্বারের ছেলে। বাকি দুইজন হলেন সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলার সিরাজী রোডের মোহাম্মদ আবদুল হামিদের ছেলে জহুরুল ইসলাম ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানার তিলকপুর এলাকার আবদুল বারীর ছেলে মোহাম্মদ আবদুস শহিদ।

ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে পিয়ন পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে পঞ্চগড়ের সোহেল মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকা চুক্তি করে এ চক্রটি। চট্টগ্রামে এসে দুই দফায় তাদের ৫০ হাজার টাকা দেয় সোহেল। বাকি সাড়ে চার লাখ টাকার অর্ধেক নিয়োগপত্র পেয়ে এবং বাকি অর্ধেক চাকরিতে যোগদান করে পরিশোধ করার জন্য চুক্তি হয় তাদের।

তিনি আরো জানান, চুক্তির একপর্যায়ে ইন্টারভিউর নাম করে চাকরিপ্রত্যাশী সোহেলকে জিতু নামে চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মচারীর কাছে নিয়ে যায় প্রতারক চক্র। সেখানে তার ইন্টারভিউ শেষে একটি নিয়োগপত্রও দেয়া হয়। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও নিয়োগপত্র যাচাই শেষে টাকা পরিশোধ করবেন বলে জানান সোহেল।

এরইমধ্যে সোহেল নিয়োগপত্রটি যাচাইয়ের জন্য তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি মোহাম্মদ মাসুদ রানার দ্বারস্থ হন।

এনডিসি মাসুদ রানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে নিয়োগপত্রটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হন। এরপর তিনি বিষয়টি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশকে অবহিত করলে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।