জনবল-সংকট: কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষা চলছে খুঁড়িয়ে

এইচ,এম,হুমায়ুনকবির কলাপাড়া(পটুয়াখালী)।।
শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক,অফিস সহকারি, উচ্ছমান সহকারি, হিসাব সহকারি পদগুলো দীর্ঘ দিন ধরে শুণ্য রয়েছে এবং অধিকাংশ বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যা ব্যাহত হচ্ছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শিক্ষা শিক্ষাকার্যক্রম । ফলে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তদারকি না থাকায় সরকারের অগ্রাধিকার ভিক্তিক প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় দু’টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৭১টি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫টি । বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৯৯৫২ জন। এই বিদ্যালয়গুলো তদারকি জন্য একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও ছয়জন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা, অফিস সহকারি ২টি, উচ্ছমান সহকারি, হিসাব সহকারি পদ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রয়েছে শিক্ষা কর্মকর্তা, তিন জন সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা, অফিস সহকারি, উচ্ছমান সহকারি, হিসাব সহকারি পদ দীর্ঘ দিন ধরে শুন্য থাকায় ওই প্রতিষ্টানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও ভেঙ্গে পড়েছে। আবার তার মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও দায়িত্ব পালন করছেন। বাকি দুইজন ১৮৭টি বিদ্যালয় পরিদর্শনের কাজ করছেন। দুইজন সহকারি কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনসহ তদারক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শুধু তাই নয় আবার ১০১টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১টি প্রধান শিক্ষকের পদ এবং ১৬০টি সহকারি শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। আবার ২১টি প্রাথমিক সহকারি শিক্ষকেরা প্রধান শিক্ষক দাবি করায় রয়েছে চলমান মামলা।

প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এ যেন মড়ার উপড় খাঁড়ায় ঘা। আর এ সুযোগে উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকÑশিক্ষিকা নিয়মিত বিদ্যালয়ের পাঠদানে হাজিরা হচ্ছে না। সময়মতো অনেক শিক্ষক হাজির হচ্ছে না। আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দেয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষক Ñশিক্ষিকা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে পারিবারিক ও রাজনৈতিক কাজে সময পার করছেন। প্রতিদিনই কিছু শিক্ষক বিদ্যালয় চলাকালিন উপজেলা শিক্ষা অফিসে আনাগোনা ব্যস্ত থাকেন।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সুত্রে জানায়, প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলের বিদ্যালগুলোর তদারকির অভাবে তৈরি হচ্ছে নানা অনিয়ম। এখনই তদারকি না বাড়লে সরকারের অতি গুরুত্বপুর্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।
এছাড়াও ১৮টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো খুবই জরাজীর্ণ। ফলে কোনো মতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে পটুয়াখালীর অতি গুরুত্বপুর্ন এলাকায় কলাপাড়া প্রাথমিক শিক্ষাকার্যক্্রম ।

উপজেলা প্রাথমিক ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ,সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা ,প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে তা উবর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাটানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষক নেই সেগুলোতে শিগগির শুন্য পদে শিক্ষক দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে কিছু দিনের মধ্যে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক নিয়ে মামলা চলমান। তারা সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক দাবী করছে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বখতিয়ার রহমান বলেন, কলাপাড়া শিক্ষা অফিসের শিক্ষা কর্মকর্তাসহ যে পদ গুলো দির্ঘ দিন শুন্য রয়েছে তা নিয়োগের দায়িত্ব রয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তরে। শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নিয়োগ দিয়ে থাকে। আর শিক্ষক সংঙ্কট ব্যাপারে দ্রুত রিটেন পরিক্ষা হলে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষক পদ শুন্য রয়েছে তা উবর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাটানো হয়েছে।