জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে মাছ ধরতে অনিহা: দাদনের জালে আটকা জেলেরা

আমির হোসেন, চরফ্যাশন।।
চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা-তেতুলিয়া নদীর মাছ ধরার জেলেদের দিন চলছে দুর্দিনে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মাছ শিকারে খরচ পোষাতে পারছেনা জেলেরা। তারা একদিকে দাদন বেড়াজালে অন্যদিকে মাছ নেই নদীতে। অধিকাংশ জেলেরা নদীতে মাছ শিকারে অনিহা প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিন ঘুরে একাধিক জেলে পল্লী সূত্রে জানা যায, বর্তমানে ডিজিল তৈলের মূল্য ১১৪টাকা পূর্বে ছিল ৮০টাকা। লিটার প্রতি ৩৪টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

আহম্মদপুর গ্রামের রিপন মাঝি বলেন, আমরা পূর্বে দেড় লাখ টাকা বাজার করে ১৫/১৬দিন নদীতে মাছ শিকার করতাম। তৈলের মূল্য বৃদ্ধি এখন ২ থেকে আড়াই লাখ টাকাবাজার করতে হয়। নদীতে মাছ না পড়লে আমরা দায় দেনা থাকি।দাদনের উপর নির্বরশীল হলে হয়। আম চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ১২লাখ টাকা দেনা রয়েছি।

বেতুয়া মৎস্য ঘাটের আড়ৎদার নুরে আলম মাষ্টার বলেন, একেত নদীতে মাছ নেই, আরো তৈলের মূল্য বৃদ্ধিতে জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তৈলের মূল্যটা সরকার আরো কমালে মাছ শিকারে সুবিধা হত।

চরমাদ্রাজ সামরাজ সৎস্য ঘাটের জেলে আলী হোসেন মাঝি বলেন, ‘নদীতে তেমন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। সাগরে কিছু ইলিশ থাকলেও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সাগরে গিয়ে যে ইলিশ পাওয়া যায় তাতে প্রতিবার ফিরে দেখা যায় লাভের চেয়ে লোকসান বেশি। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্দশায় রয়েছি। মাস শেষে ঠিকমতো ৩টি বেসরকারি সংস্থার কিস্তিদিতে পারছি না।’

হাজীরহাট রাস্তার মাথায় একটি মাছ ধরা ট্রলারের মাঝি মো. মাসুদ মাঝি। তিনি বলেন, ‘নদী বা সাগরে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে ৭ দিনের জন্য একটি ট্রলারে অন্তত ১৫-১৬ জন জেলে বের হন। এ ১০ দিনের জন্য ট্রলারে খরচের পরিমাণ প্রায় পৌনে লাখ টাকা। তবে মাছ শিকার শেষে তীরে ফিরে দেখা যায়, ৫০ হাজার টাকার মাছও পাওয়া যায়নি। এ জন্য অনেক জেলে এখন নদীতে যেতে চাচ্ছেন না।’

উপজেলার নীলমকলের গাছির খানের তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করা জেলে মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ নেই বললেই চলে। তার ওপরে যে হারে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ৩৪টাকা বেড়েছে, তাতে প্রতিবার নদী থেকে ফিরে হিসাব করে দেখা যায়, লাভের চেয়ে লোকসান বেশি। এ পেশায় টিকে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ঋণের দায়ে গ্রাম ছেড়ে পালাতে হবে।’

উপজেলার মেঘনার খেজুর গাছিয়া আড়ৎদার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘নদীতে মাছ কম থাকার কারণে জেলেরা আমাদের থেকে যে টাকা নিয়েছে তাও ঠিকমতো শোধ করতে পারছেন না। এতে করে যেমন জেলেদের সমস্যা হচ্ছে, তেমনি আমাদেরও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলতে সমস্যা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, ‘নদীর মোহনা অঞ্চলে পলি জমার কারণে নদীতে গভীরতা কমে গেছে। নদীতে ¯্রােতও কমে গেছে। এ জন্য বর্তমানে যে পরিমাণ মাছ নদীতে আসার কথা তা আসতে পারছে না। কিছু স্থানে ড্রেজিং করলে আগের মতো মাছ পাওয়া যাবে।’

মেরিন ফিশারিজের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তবুও আশা করছি সেপ্টেম্বরের প্রথম দিক থেকে নদীতে ইলিশের সংখ্যা আরও বাড়বে। তখন হয়তো জেলেরা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাবেন।’

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মারুফ হোসেন মিনার বলেন, চরফ্যাশন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৭হাজাার ৩১১ জন। তবে অনিবন্ধীত জেলের তালিকা আমার কাছে নেই।